ডিপেন্ডেন্ট ভিসা ইউকে। যোগ্যতা, খরচ ও আবেদন (আপডেট তথ্য)
আপনি যদি আপনার পরিবারের সাথে যুক্তরাজ্যে বসবাস করতে চান, তাহলে ডিপেন্ডেন্ট ভিসা ইউকে হতে পারে আপনার জন্য একটি দারুণ সুযোগ। এই ভিসা আপনাকে আপনার পরিবারের সদস্য, যেমন স্ত্রী/স্বামী বা সন্তানকে যুক্তরাজ্যে নিয়ে যেতে সাহায্য করতে পারে।
ডিপেন্ডেন্ট ভিসা আসলে কী, এর যোগ্যতা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, খরচ এবং আবেদন প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এই ব্লগটি আপনাকে সাহায্য করবে।
ডিপেন্ডেন্ট ভিসা কি?
ডিপেন্ডেন্ট ভিসা হলো এমন একটি ভিসা, যা কোনো ব্যক্তি যিনি অন্য কোনো ভিসার (যেমন- স্টুডেন্ট ভিসা, ওয়ার্ক ভিসা) অধীনে যুক্তরাজ্যে বসবাস করছেন, তার পরিবারের সদস্যদের (স্ত্রী/স্বামী ও সন্তান) সেই ব্যক্তির সাথে থাকার অনুমতি দেয়। সহজ ভাষায়, এটি একটি ফ্যামিলি ভিসা।
ডিপেন্ডেন্ট ভিসার মূল উদ্দেশ্য হলো, যারা কাজের জন্য বা পড়াশোনার জন্য যুক্তরাজ্যে এসেছেন, তারা যেন তাদের পরিবার থেকে দূরে না থাকেন এবং একটি স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে পারেন।
ডিপেন্ডেন্ট ভিসা পাওয়ার প্রয়োজনীয়তা
ডিপেন্ডেন্ট ভিসার জন্য আবেদন করতে হলে কিছু নির্দিষ্ট যোগ্যতা এবং শর্ত পূরণ করতে হয়। এই ভিসা পাওয়ার প্রধান শর্তগুলো হলোঃ
- মূল ভিসাধারীর বৈধ ভিসাঃ আপনার স্পন্সর (যিনি প্রধান ভিসাধারী) তার অবশ্যই একটি বৈধ ভিস থাকতে হবে। যেমন-স্টুডেন্ট ভিসা, ওয়ার্ক ভিসা অথবা অন্য কোনো দীর্ঘমেয়াদী ভিসা।
- বৈবাহিক সম্পর্ক অথবা নির্ভরশীল সন্তানঃ আপনি যদি স্ত্রী/স্বামী হন, তাহলে আপনার বিবাহের প্রমাণপত্র দেখাতে হবে। আর যদি সন্তান হন, তাহলে আপনার জন্ম সনদ এবং প্রমাণ করতে হবে যে আপনি এখনও আপনার বাবা-মায়ের উপর নির্ভরশীল।
- আর্থিক সামর্থ্যঃ আপনাকে প্রমাণ করতে হবে যে, আপনার যুক্তরাজ্যে থাকার সময় আপনার নিজের এবং আপনার পরিবারের ভরণপোষণের জন্য যথেষ্ট আর্থিক সামর্থ্য আছে।
- আবাসনঃ যুক্তরাজ্যে আপনার থাকার জন্য উপযুক্ত আবাসনের ব্যবস্থা থাকতে হবে।
- অন্যান্য শর্তঃ আপনাকে অবশ্যই যুক্তরাজ্যের অভিবাসন আইন এবং বিধিমালা মেনে চলতে হবে। কোনো প্রকার অপরাধমূলক কাজের সাথে জড়িত থাকা যাবে না।
ডিপেন্ডেন্ট ভিসা ইউকে যোগ্যতা
ডিপেন্ডেন্ট ভিসার জন্য আবেদন করতে হলে কিছু নির্দিষ্ট যোগ্যতা লাগে। এই যোগ্যতাগুলো নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলোঃ
প্রধান ভিসাধারীর যোগ্যতা
ডিপেন্ডেন্ট ভিসার আবেদন করার আগে, আপনার স্পন্সরের (যিনি প্রধান ভিসাধারী) কিছু যোগ্যতা থাকতে হবে। এগুলো হলোঃ
- বৈধ ভিসার অধিকারীঃ আপনার স্পন্সরের অবশ্যই একটি বৈধ ভিসা থাকতে হবে। সাধারণত, স্টুডেন্ট ভিসা, ওয়ার্ক ভিসা অথবা অন্য কোনো দীর্ঘমেয়াদী ভিসার অধীনে তিনি যুক্তরাজ্যে বসবাস করতে পারেন।
- আর্থিক সক্ষমতাঃ আপনার স্পন্সরকে প্রমাণ করতে হবে যে, তিনি আপনার এবং আপনার পরিবারের ভরণপোষণের জন্য যথেষ্ট পরিমাণ অর্থ উপার্জন করেন অথবা তার কাছে যথেষ্ট সঞ্চয় আছে।
আবেদনকারীর যোগ্যতা
জানা মতে, ডিপেন্ডেন্ট ভিসার জন্য আবেদনকারীকেও কিছু যোগ্যতা পূরণ করতে হবে। সেগুলো হলোঃ
- আবেদনকারীকে অবশ্যই প্রধান ভিসাধারীর স্ত্রী/স্বামী অথবা ২১ বছরের কম বয়সী সন্তান হতে হবে। যদি স্ত্রী/স্বামী হন, তাহলে বিবাহের প্রমাণপত্র দেখাতে হবে। আর যদি সন্তান হন, তাহলে জন্ম সনদ দেখাতে হবে।
- ২১ বছরের বেশি বয়সী সন্তানেরা সাধারণত ডিপেন্ডেন্ট ভিসার জন্য যোগ্য নয়, যদি না তারা প্রমাণ করতে পারে যে তারা তাদের বাবা-মায়ের উপর আর্থিকভাবে নির্ভরশীল।
- আবেদনকারীকে প্রমাণ করতে হবে যে যুক্তরাজ্যে তাদের থাকার জন্য উপযুক্ত আবাসনের ব্যবস্থা আছে।
অন্যান্য যোগ্যতা
উপরের যোগ্যতাগুলো ছাড়াও, আরো কিছু বিষয় আছে যা ডিপেন্ডেন্ট ভিসার জন্য গুরুত্বপূর্ণঃ
- কিছু ক্ষেত্রে, আবেদনকারীকে ইংরেজি ভাষার দক্ষতা প্রমাণ করতে হতে পারে।
- আবেদনকারীকে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে হতে পারে এবং প্রমাণ করতে হতে পারে যে তিনি কোনো গুরুতর সংক্রামক রোগে আক্রান্ত নন।
- আবেদনকারীর কোনো প্রকার অপরাধমূলক রেকর্ড থাকলে হবে না।
ইউকে ডিপেন্ডেন্ট ভিসার নতুন নিয়ম
যুক্তরাজ্যের অভিবাসন সংক্রান্ত নিয়মে প্রায়ই পরিবর্তন আসে। তাই ডিপেন্ডেন্ট ভিসার জন্য আবেদন করার আগে নতুন নিয়ম সম্পর্কে জেনে নেওয়া ভালো।
- আর্থিক প্রয়োজনীয়তাঃ নতুন নিয়মে, ডিপেন্ডেন্ট ভিসার জন্য আবেদনকারীর স্পন্সরের আর্থিক সামর্থ্যের প্রমাণ হিসেবে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ থাকতে হয়। এই অর্থের পরিমাণ পরিবর্তিত হতে পারে, তাই আপ-টু-ডেট তথ্য জেনে আবেদন করা উচিত।
- ভাষা দক্ষতাঃ কিছু ভিসার ক্ষেত্রে, আবেদনকারীর ইংরেজি ভাষার দক্ষতা প্রমাণ করার প্রয়োজন হতে পারে।
- স্বাস্থ্য বীমাঃ যুক্তরাজ্যে বসবাস করার সময় স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার জন্য আবেদনকারীকে স্বাস্থ্য বীমা করতে হতে পারে।
- আবেদনের সময়সীমাঃ ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে নতুন ভিসার জন্য আবেদন করতে হবে। সাধারণত, মেয়াদ শেষ হওয়ার কয়েক মাস আগে আবেদন করা ভালো।
ডিপেন্ডেন্ট ভিসার খরচ
ডিপেন্ডেন্ট ভিসার জন্য আবেদন করতে কিছু খরচ লাগে। এই খরচগুলো নিচে দেওয়া হলোঃ
| ভিসার প্রকার | খরচ (আনুমানিক) | খরচ টাকা (আনুমানিক) |
| ডিপেন্ডেন্ট ভিসা ফি | ৬০০ থেকে ৮০০ পাউন্ড | ৯৯,০০০- ১,৩২,০০০ টাকা প্রায়। |
| স্বাস্থ্য পরিষেবা সারচার্জ | প্রতি বছর ৬২৪ পাউন্ড | ১,০৩,০০০ টাকা প্রায়। |
| বায়োমেট্রিক অ্যাপয়েন্টমেন্ট ফি | প্রায় ১৯.২০ পাউন্ড | ৩,১০০ টাকা প্রায়। |
| অন্যান্য খরচ (যেমন,কাগজপত্র তৈরি, অনুবাদ ইত্যাদি) | প্রয়োজন অনুযায়ী | প্রয়োজন অনুযায়ী |
এই খরচগুলো পরিবর্তনশীল, তাই আবেদন করার আগে অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে দেখে নেওয়া ভালো।
ডিপেন্ডেন্ট ভিসা ইউকে ভিসা ফি
ডিপেন্ডেন্ট ভিসার জন্য আবেদন করার সময় ভিসা ফি জমা দিতে হয়। এই ফি ভিসার প্রকার এবং আপনার পরিস্থিতির উপর নির্ভর করে। সাধারণত, এই ফি ৬০০ থেকে ৮০০ পাউন্ড পর্যন্ত হয়। বাংলাদেশি ৯৯,০০০- ১,৩২,০০০ টাকা প্রায়।
ভিসা ফি ছাড়াও, আপনাকে স্বাস্থ্য পরিষেবা সারচার্জ দিতে হতে পারে। এই সারচার্জ আপনাকে যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস (NHS) এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার অধিকার দেবে।
ডিপেন্ডেন্ট ভিসা ইউকে জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
ডিপেন্ডেন্ট ভিসার জন্য আবেদনের সময় কিছু জরুরি কাগজপত্র লাগে। আপনার আবেদন যেন কোনো কারণে বাতিল না হয়, তাই আগে থেকে এই কাগজপত্রগুলো গুছিয়ে রাখা ভালো। নিচে একটি তালিকা দেওয়া হলোঃ
| নথির নাম | বিস্তারিত তথ্য |
| পাসপোর্ট | আপনার এবং আপনার পরিবারের সদস্যদের (যারা আপনার সাথে যুক্তরাজ্যে যাবেন) সবার পাসপোর্ট লাগবে। পাসপোর্টের মেয়াদ যেন যথেষ্ট থাকে, অন্তত ছয় মাস বেশি থাকা ভালো। |
| বিবাহের প্রমাণপত্র | যদি আপনি আপনার স্ত্রী/স্বামীর জন্য আবেদন করেন, তাহলে বিবাহের সার্টিফিকেট বা ম্যারেজ রেজিস্ট্রেশন কার্ড লাগবে। |
| জন্ম সনদ | যদি আপনার বাচ্চারা আপনার সাথে যুক্তরাজ্যে ভ্রমণ করে, তাহলে তাদের জন্ম সনদ প্রয়োজন হবে |
| আর্থিক প্রমাণপত্র | আপনার স্পন্সরের ব্যাংক স্টেটমেন্ট, বেতনের রশিদ, ট্যাক্স রিটার্ন এবং অন্যান্য আর্থিক কাগজপত্র দেখাতে হবে। এগুলো প্রমাণ করবে যে আপনার যুক্তরাজ্যে থাকার খরচ চালানোর মতো যথেষ্ট অর্থ আছে। |
| আবাসনের প্রমাণপত্র | যুক্তরাজ্যে আপনার থাকার জায়গার ঠিকানা, মালিকানার দলিল বা ভাড়া এগ্রিমেন্ট এর কপি জমা দিতে হবে। |
| স্পন্সরের ভিসার কপি | আপনার স্পন্সরের ভিসার কপি এবং তার পাসপোর্টের কপিও জমা দিতে হবে। |
| সম্পর্কের প্রমাণপত্র | আপনার এবং আপনার স্পন্সরের মধ্যে সম্পর্ক যে সঠিক, তা প্রমাণ করার জন্য কিছু কাগজপত্র দিতে পারেন। যেমন, একসঙ্গে তোলা ছবি, তথ্য যোগাযোগের রেকর্ড (ফোন কল, মেসেজ, ইমেইল)। |
| ইংরেজি ভাষার দক্ষতার প্রমাণপত্র | কিছু ক্ষেত্রে, আপনাকে ইংরেজি ভাষার দক্ষতার প্রমাণপত্র দিতে হতে পারে। IELTS বা অন্যান্য স্বীকৃত পরীক্ষার সনদপত্র জমা দিতে পারেন। |
| স্বাস্থ্য পরীক্ষার রিপোর্ট | কিছু ভিসার জন্য স্বাস্থ্য পরীক্ষার রিপোর্ট জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। এক্ষেত্রে, আপনাকে একটি তালিকা দেওয়া হবে যে কোন কোন স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে হবে। |
| পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট | আপনার দেশের পুলিশের কাছ থেকে একটি ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট নিতে হতে পারে, যা প্রমাণ করে যে আপনার কোনো ক্রিমিনাল রেকর্ড নেই। |
| অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র | আপনার ব্যক্তিগত পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে আরও কিছু কাগজপত্র লাগতে পারে। যেমন, যদি আপনি আগে কখনো অন্য কোনো দেশে বসবাস করে থাকেন, তাহলে সেখানকার ভিসার কপি বা বসবাসের পারমিট এর কপি লাগতে পারে। |
ডিপেন্ডেন্ট ভিসা ইউকে কীভাবে আবেদন করবেন
ডিপেন্ডেন্ট ভিসার জন্য আবেদন করা একটি সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া। এই প্রক্রিয়াটি ভালোভাবে অনুসরণ করলে আপনার আবেদন সফল হওয়ার সম্ভাবনা বাড়বে। নিচে ধাপে ধাপে এই প্রক্রিয়াটি আলোচনা করা হলঃ
১। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করা
আবেদনের শুরুতেই আপনাকে প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র সংগ্রহ করতে হবে। কী কী কাগজপত্র লাগবে, তার একটি তালিকা উপরে দেয়া হয়েছে।
২। অনলাইন আবেদন ফরম পূরণ করা
সব কাগজপত্র জোগাড় করার পর, আপনাকে অনলাইনে ভিসার আবেদন ফরম পূরণ করতে হবে।
- প্রথমে,যুক্তরাজ্যের সরকারি ওয়েবসাইটে যান এবং ভিসার আবেদন ফরমটি খুঁজে বের করুন।
- অনলাইনে আবেদন ফরমটি মনোযোগ সহকারে পূরণ করুন। সব তথ্য যেন সঠিক হয়, সেদিকে খেয়াল রাখুন।
- প্রয়োজনীয় সব ডকুমেন্টস স্ক্যান করে আপলোড করুন।
৩। ভিসা ফি পরিশোধ করা
আবেদন ফরম পূরণ করার পর, আপনাকে ভিসা ফি পরিশোধ করতে হবে।
- ক্রেডিট কার্ড বা ডেবিট কার্ডের মাধ্যমে অনলাইনে ভিসা ফি পরিশোধ করতে পারেন।
- ফি পরিশোধের পর রসিদটি সংরক্ষণ করুন।
৪। বায়োমেট্রিক ডেটা প্রদান করা
ভিসা ফি পরিশোধের পর, আপনাকে বায়োমেট্রিক ডেটা (আঙুলের ছাপ এবং ছবি) দেওয়ার জন্য একটি অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে হবে।
- আপনার নিকটবর্তী ভিসা আবেদন কেন্দ্রে একটি অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিন।
- অ্যাপয়েন্টমেন্টের তারিখে, ভিসা আবেদন কেন্দ্রে গিয়ে আপনার বায়োমেট্রিক ডেটা প্রদান করুন।
৫। আবেদন জমা দেওয়া
সবশেষে, আপনাকে আপনার আবেদনপত্র এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ভিসা আবেদন কেন্দ্রে জমা দিতে হবে।
- আপনার আবেদনপত্র এবং কাগজপত্র ভিসা আবেদন কেন্দ্রে সরাসরি জমা দিতে পারেন।
- আবেদন জমা দেওয়ার পর, একটি প্রাপ্তি স্বীকারপত্র সংগ্রহ করতে ভুলবেন না।
ডিপেন্ডেন্ট ভিসা ইউকে প্রক্রিয়াকরণের সময়
ডিপেন্ডেন্ট ভিসার আবেদন করার পর ভিসা পেতে কতদিন লাগে, তা নির্ভর করে কয়েকটি বিষয়ের উপর। সাধারণত, এই ভিসা পেতে ৩ থেকে ৬ মাস পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
প্রসেসিংয়ের সময় কিছু কারণের উপর নির্ভর করে, যেমনঃ
- যদি খুব বেশি মানুষ একসাথে আবেদন করে, তাহলে সময় বেশি লাগতে পারে।
- আপনার কাগজপত্র যদি সব ঠিকঠাক থাকে, তাহলে ভিসা দ্রুত পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
- অফিসের কাজের চাপের উপরও ভিসা প্রসেসিংয়ের সময় নির্ভর করে।
স্বামীর জন্য ডিপেন্ডেন্ট ভিসা ইউকে
যদি কোনো ব্যক্তি স্টুডেন্ট ভিসা বা ওয়ার্ক ভিসার মাধ্যমে যুক্তরাজ্যে থাকেন, তাহলে তার স্বামী বা স্ত্রী ডিপেন্ডেন্ট ভিসার জন্য আবেদন করতে পারেন। এর জন্য কিছু শর্ত পূরণ করতে হয়।
- স্বামী বা স্ত্রীর সম্পর্ক অবশ্যই বৈধ হতে হবে এবং বিবাহের প্রমাণপত্র দেখাতে হবে।
- যিনি স্পন্সর করছেন, তাকে প্রমাণ করতে হবে যে তার যথেষ্ট আর্থিক সামর্থ্য আছে।
- যুক্তরাজ্যে থাকার জন্য উপযুক্ত আবাসনের ব্যবস্থা থাকতে হবে।
- আবেদনকারীকে অবশ্যই যুক্তরাজ্যের আইন মেনে চলতে হবে।
শিশুদের জন্য যুক্তরাজ্যের ডিপেন্ডেন্ট ভিসা
বাবা-মায়ের সাথে তাদের সন্তানেরাও যুক্তরাজ্যে বসবাস করার সুযোগ পায় ডিপেন্ডেন্ট ভিসার মাধ্যমে। তবে, এক্ষেত্রে কিছু বিষয় মনোযোগ দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
- সাধারণত, ১৮ বছরের কম বয়সী সন্তানেরা এই ভিসার জন্য আবেদন করতে পারে। তবে কিছু ক্ষেত্রে, ২১ বছর পর্যন্তও আবেদন করা যেতে পারে যদি তারা তাদের বাবা-মায়ের উপর নির্ভরশীল থাকে।
- সন্তানের জন্ম সনদ অবশ্যই জমা দিতে হবে।
- বাবা-মাকে প্রমাণ করতে হবে যে তাদের সন্তানের ভরণপোষণের জন্য যথেষ্ট আর্থিক সামর্থ্য আছে।
- যুক্তরাজ্যে তাদের থাকার জন্য উপযুক্ত আবাসনের ব্যবস্থা থাকতে হবে।
ইউকে ডিপেন্ডেন্ট ভিসার আর্থিক প্রয়োজনীয়তা
ডিপেন্ডেন্ট ভিসার জন্য আবেদন করার সময় আর্থিক বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাজ্য সরকার চায় যে যারা ডিপেন্ডেন্ট ভিসার মাধ্যমে সেখানে বসবাস করতে আসবেন, তারা যেন কারো উপর বোঝা না হন। তাই, আবেদন করার সময় কিছু আর্থিক শর্ত পূরণ করতে হয়।
- আবেদনকারীকে প্রমাণ করতে হবে যে তার নিজের এবং তার পরিবারের ভরণপোষণের জন্য যথেষ্ট টাকা আছে।
- সাধারণত, যিনি স্পন্সর করছেন, তার আয়ের প্রমাণ হিসেবে ব্যাংক স্টেটমেন্ট, পে স্লিপ, ট্যাক্স রিটার্ন ইত্যাদি জমা দিতে হয়।
- যদি স্পন্সরের যথেষ্ট আয় না থাকে, তবে তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পর্যাপ্ত পরিমাণ সঞ্চয় থাকতে হবে।
- যুক্তরাজ্যে থাকার সময় আবাসন খরচও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। প্রমাণ করতে হবে যে তাদের থাকার জন্য উপযুক্ত জায়গা আছে এবং তারা এর খরচ বহন করতে সক্ষম।
ডিপেন্ডেন্ট ভিসা ইউকে মেয়াদ বৃদ্ধির নিয়ম
আপনার ডিপেন্ডেন্ট ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে, আপনি এটি বাড়ানোর জন্য আবেদন করতে পারেন। মেয়াদ বাড়ানোর নিয়মগুলো নিচে দেওয়া হলোঃ
- ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে আবেদন করতে হবে। সাধারণত, মেয়াদ শেষ হওয়ার কয়েক সপ্তাহ বা মাস আগে আবেদন করা ভালো।
- মেয়াদ বাড়ানোর জন্য আপনাকে প্রমাণ করতে হবে যে আপনি এখনও ডিপেন্ডেন্ট ভিসার জন্য যোগ্য। অর্থাৎ, আপনার স্পন্সরের ভিসার এখনও মেয়াদ আছে এবং আপনি তাদের উপর নির্ভরশীল।
- আপনাকে আর্থিক প্রমাণপত্রও জমা দিতে হতে পারে, যা দেখায় যে আপনার যুক্তরাজ্যে থাকার খরচ চালানোর মতো যথেষ্ট টাকা আছে।
- অনলাইনে আবেদন ফরম পূরণ করতে হবে এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আপলোড করতে হবে।
ডিপেন্ডেন্ট ভিসা ইউকে প্রত্যাখ্যানের কারণ
আমার জানা মতে,ডিপেন্ডেন্ট ভিসার আবেদন বাতিল হওয়ার কিছু কারণ থাকে। এই কারণগুলো জানলে আপনি আগে থেকেই সতর্ক থাকতে পারবেন। নিচে কয়েকটি সাধারণ কারণ উল্লেখ করা হলোঃ
- যদি আপনার আবেদনে কোনো প্রয়োজনীয় কাগজপত্র কম থাকে, তাহলে ভিসা বাতিল হতে পারে।
- আবেদনে ভুল বা মিথ্যা তথ্য দিলে ভিসা বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
- যদি আপনি প্রমাণ করতে না পারেন যে আপনার যুক্তরাজ্যে থাকার খরচ চালানোর মতো যথেষ্ট টাকা আছে, তাহলে ভিসা বাতিল হতে পারে।
- যদি আপনার কোনো অপরাধ রেকর্ড থাকে, তাহলে আপনার ভিসা বাতিল হতে পারে।
- যদি আপনি আগে কোনো ভিসার শর্ত ভঙ্গ করে থাকেন, তাহলে আপনার আবেদন বাতিল হতে পারে।
ইউকে ডিপেন্ডেন্ট ভিসার আপিল
যদি আপনার ডিপেন্ডেন্ট ভিসার আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হয়, তাহলে আপনি এর বিরুদ্ধে আপিল করতে পারেন। আপিল করার নিয়ম নিচে দেওয়া হলোঃ
- প্রথমে আপনাকে জানতে হবে যে কেন আপনার আবেদন বাতিল করা হয়েছে।
- আপিল করার জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা থাকে। সাধারণত, ভিসা বাতিলের সিদ্ধান্তের পর কয়েক দিনের মধ্যে আপিল করতে হয়।
- আপিল করার জন্য আপনাকে একটি আপিল ফরম পূরণ করতে হবে এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে হবে।
- আপিল করার সময় আপনি একজন আইনজীবীর সাহায্য নিতে পারেন।
ডিপেন্ডেন্ট ভিসাধারীরা কি যুক্তরাজ্যে কাজ করতে পারবেন?
ডিপেন্ডেন্ট ভিসায় যুক্তরাজ্যে বসবাস করার সময় আপনি কাজ করতে পারবেন কিনা, তা আপনার ভিসার শর্তের উপর নির্ভর করে। কিছু ভিসায় কাজের অনুমতি থাকে, আবার কিছু ভিসায় থাকে না।
- অনেক ডিপেন্ডেন্ট ভিসাধারীর যুক্তরাজ্যে কাজ করার অনুমতি থাকে।
- কিছু ভিসায় কাজের সময়ের উপর সীমাবদ্ধতা থাকতে পারে।
- আপনার ভিসার শর্ত ভালোভাবে জেনে নিন। যদি আপনার ভিসায় কাজের অনুমতি না থাকে, তাহলে আপনাকে আলাদাভাবে ওয়ার্ক পারমিটের জন্য আবেদন করতে হতে পারে।
ইউকে ডিপেন্ডেন্ট ভিসার বায়োমেট্রিক আবাসিক পারমিট
যুক্তরাজ্যে ছয় মাসের বেশি সময় ধরে থাকার জন্য আপনাকে একটি বায়োমেট্রিক রেসিডেন্স পারমিট (BRP) নিতে হবে। এটি আপনার পরিচয় এবং ভিসার প্রমাণ হিসেবে কাজ করে।
- যুক্তরাজ্যে আসার পর আপনাকে BRP-এর জন্য আবেদন করতে হবে।
- BRP-এর জন্য আবেদন করার সময় আপনাকে আপনার বায়োমেট্রিক ডেটা (আঙুলের ছাপ এবং ছবি) দিতে হবে।
- আপনার BRP প্রস্তুত হয়ে গেলে, আপনাকে এটি সংগ্রহ করতে বলা হবে।
- যুক্তরাজ্যে থাকার সময় BRP সবসময় আপনার সাথে রাখুন। এটি আপনার পরিচয় এবং ভিসার প্রমাণ হিসেবে দরকার হবে।
আমার জানা তথ্যের ভিত্তিতে ডিপেন্ডেন্ট ভিসা ইউকে-এই ছিল আপনার জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ গাইডলাইন। এই তথ্যগুলো আপনার ভিসা প্রক্রিয়াকে আরও সহজ করে তুলবে এবং আপনাকে একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়তে সাহায্য করবে বলে আমি মনে করি। আপনার যাত্রা শুভ হোক।
আরো জানুনঃ
- ভিসা প্রত্যাখ্যান? বাংলাদেশিদের জন্য করনীয় জানুন
- দুবাই বিজনেস ভিসা। খরচ, সুবিধা ও আবেদন প্রক্রিয়া
- মালয়েশিয়া সেকেন্ড হোম ভিসা
- ইউরোপ ভিসা প্রসেসিং
- আমেরিকার ভিজিট ভিসা পাওয়ার যোগ্যতা
- যুক্তরাজ্য ব্লু কার্ড ভিসা। যোগ্যতা, সুবিধা ও আবেদন
- ইউকে হেলথ অ্যান্ড কেয়ার ভিসা।বেতন,খরচ ও সুবিধা
- ভিসার জন্য ব্যাংক স্টেটমেন্ট তৈরি করার নিয়ম
- নতুন পাসপোর্টে ভিসা পাওয়ার উপায়। জানুন সহজ টিপস
- মালয়েশিয়া বিজনেস ভিসা। খরচ, যোগ্যতা ও আবেদন
