মধ্য এশিয়ার শিল্প ও খনিজ খাতে বিদেশি কর্মীদের জন্য বর্তমানে উজবেকিস্তান কাজের ভিসা পাওয়ার সম্ভাবনা বেশ জোরালো। বিশেষ করে নাভোই ফ্রি ইকোনমিক জোন কিংবা কাশকাদারিয়ার গ্যাস প্রজেক্টে দক্ষ ও কারিগরি কর্মীদের কাজের ক্ষেত্র দ্রুত বড় হচ্ছে। নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান স্থানীয় শ্রম মন্ত্রণালয় থেকে পারমিট ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে অফিশিয়াল কনফার্মেশন নিশ্চিত করলে প্রতি মাসে থাকা-খাওয়া বাদেও ৬০,০০০ থেকে ১,৪০,০০০ টাকা সমমানের বেতন নিরাপদে দেশে পাঠানো যায়।
সরাসরি ব্যবহারিক তথ্যে আসি, মধ্যপ্রাচ্যের মতো এই দেশে কিন্তু ফ্রি ভিসা বা আজাদ ভিসা বলে কোনো ব্যবস্থা নেই। অনেকেই ট্যুরিস্টদের জন্য নির্ধারিত অনলাইন ই-ভিসা নিয়ে কারখানায় ঢুকতে গিয়ে বড় ধরনের আইনি বিপদে পড়েন। বৈধ পথে তাসখন্দে পা রাখতে চাইলে ওয়ার্ক পারমিটের ডিজিটাল অনুমোদন, মন্ত্রণালয়ের বিশেষ টেলিগ্রাম কোড এবং কর্মক্ষেত্রের নির্দিষ্ট নিয়মগুলো স্পষ্ট বোঝা দরকার।
উজবেকিস্তান কাজের ভিসা পাওয়ার ক্ষেত্রে বৈধ রুট ও কোটার নিয়ম
উজবেকিস্তানে কাজ করতে যাওয়ার মূল আইনি ভিত্তি হলো নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের নামে ইস্যু করা অফিশিয়াল ওয়ার্ক পারমিট লাইসেন্স। সেদেশের অভিবাসন আইন অনুসারে কোনো কোম্পানি চাইলেই সরাসরি বাইরে থেকে লোক আনতে পারে না। প্রথমে তাদের শ্রম মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা বৈদেশিক শ্রম অভিবাসন সংস্থা (Agency for External Labour Migration) থেকে নির্দিষ্ট কোটার বিপরীতে কাজের অনুমোদন নিতে হয়।
এই সরকারি অনুমোদন ছাড়া কোনো কর্মী নিয়োগ দিলে কোম্পানির বড় অঙ্কের জরিমানা হয় এবং কর্মীকে দেশ ছাড়তে বাধ্য করা হয়। আমার দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতায় দেখেছি, গ্যাস পাইপলাইন, ওয়েল্ডিং ও মেকানিক্যাল লাইনে যাদের কাজের বাস্তব প্রমাণপত্র থাকে, তাদের সরকারি কোটা ছাড়পত্র সবচেয়ে দ্রুত মঞ্জুর হয়। সাধারণ কায়িক শ্রমের পদের চেয়ে টেকনিক্যাল পদে সরকারি অনুমোদনের গতি অনেক বেশি থাকে।
- নির্দিষ্ট পেশায় স্বীকৃত কারিগরি ও বৃত্তিমূলক ট্রেনিং সনদ।
- বিগত কর্মক্ষেত্রের ন্যূনতম ২ থেকে ৩ বছরের অভিজ্ঞতাপত্র।
- উজবেক নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের সাথে স্বাক্ষরিত আইনি কাজের চুক্তিপত্র।
- সরকারি নিয়মে সত্যায়িত দাগমুক্ত পুলিশ ক্লিয়ারেন্স রিপোর্ট।
- হেপাটাইটিস ও যক্ষ্মামুক্ত আন্তর্জাতিক মেডিকেল ফিটনেস কার্ড।
আসল এমপ্লয়মেন্ট টাইপ-ই ভিসা বনাম ট্যুরিস্ট ই-ভিসা প্রতারণা
আমাদের দেশের সহজ-সরল মানুষ সবচেয়ে বেশি প্রতারিত হন অনলাইন ই-ভিসা নিয়ে। প্রতারক চক্র ৩০ বা ৪০ ডলারের সাধারণ ট্যুরিস্ট ই-ভিসা প্রার্থীর হাতে ধরিয়ে দিয়ে বলে যে এটাই আসল কাজের ভিসা। উজবেকিস্তানের অভিবাসন আইনে স্পষ্ট বলা আছে, পর্যটন বা ব্যক্তিগত ভিজিট ভিসা নিয়ে কোনো ধরনের সাইট বা কারখানায় শ্রম দেওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এমন অবস্থায় ধরা পড়লে তাৎক্ষণিক জেল ও সারা জীবনের জন্য দেশটিতে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়।
বৈধ কাজের ক্ষেত্রে পাসপোর্টের পাতায় ‘Type-E’ বা এমপ্লয়মেন্ট ক্যাটাগরির ভিসা স্ট্যাম্প থাকা বাধ্যতামূলক। এই স্ট্যাম্প অনুমোদনের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাইগ্রেশন বিভাগ থেকে দূতাবাসে কনফার্মেশন পাঠানো হয়। কেউ যদি পাসপোর্ট কোনো কনস্যুলার সেকশনে জমা না দিয়ে শুধু প্রিন্ট করা পিডিএফ পাতা দিয়ে উজবেকিস্তানে কাজে পাঠানোর চেষ্টা করে, তবে শুরুতেই নিশ্চিত থাকুন এটি জালিয়াতি।
কাজের প্রধান ইন্ডাস্ট্রিয়াল হাব ও পদের ভিত্তিতে ইন-হ্যান্ড বেতন
উজবেকিস্তানে বিদেশি শ্রমিকদের কাজের বড় ক্ষেত্রগুলো রাজধানী তাসখন্দ ছাড়াও দেশের বড় বড় শিল্পাঞ্চলে অবস্থিত। বর্তমানে নাভোই (Navoi Free Economic Zone), কাশকাদারিয়া (Kashkadarya) গ্যাস শোধনাগার এবং বুখারার বিভিন্ন কনস্ট্রাকশন মেগা প্রজেক্টে কর্মীদের সবচেয়ে বেশি পদায়ন করা হয়। স্থানীয় মুদ্রা উজবেকিস্তানি সোম (UZS)-এর মান ডলারের তুলনায় দ্রুত ওঠানামা করে, তাই চুক্তিতে বেতন ফিক্সড ইউএস ডলারে (USD) রাখা অত্যন্ত বুদ্ধিমানের কাজ।
| কাজের পদের নাম | প্রধান কাজের অঞ্চল | প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতা | গড় মাসিক গ্রস বেতন | নেট ইন-হ্যান্ড আয় (BDT) |
|---|---|---|---|---|
| স্ট্রাকচারাল ওয়েল্ডার (6G) | কাশকাদারিয়া গ্যাস প্রজেক্ট | ৩ থেকে ৫ বছর | $৮০০ – $১,১০০ USD | ৯০,০০০ – ১,২৫,০০০ টাকা |
| হেভি ইকুইপমেন্ট মেকানিক | নাভোই ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন | ৩+ বছর | $৭০০ – $১,০০০ USD | ৮০,০০০ – ১,১৫,০০০ টাকা |
| টেক্সটাইল মেশিন টেকনিশিয়ান | ফেরগানা ও তাসখন্দ | ২ থেকে ৪ বছর | $৬০০ – $৮৫০ USD | ৭০,০০০ – ৯৫,০০০ টাকা |
| ইন্ডাস্ট্রিয়াল পাইপফিটার | পেট্রোকেমিক্যাল প্ল্যান্ট | ২ বছর | $৫৫০ – $৭৫০ USD | ৬২,০০০ – ৮৫,০০০ টাকা |
| সাইট হেল্পার ও কনস্ট্রাকশন | তাসখন্দ সিটি প্রজেক্ট | অভিজ্ঞতাহীন গ্রহণযোগ্য | $৪৫০ – $৫৫০ USD | ৫০,০০০ – ৬৫,০০০ টাকা |
এমভিডি তেলেগ্রাম (MVD Telex) কোড ও বিমানবন্দর অন-অ্যারাইভাল সুবিধা
উজবেকিস্তানের ভিসা স্ট্যাম্পিংয়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কারিগরি নথিটি হলো স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের (MVD) বিশেষ অনুমোদনের তারবার্তা, যাকে স্থানীয় পরিভাষায় “তেলেগ্রামা” (Telegram/Telex Approval) বলা হয়। মন্ত্রণালয় যখন ওয়ার্ক পারমিট নিশ্চিত করে, তখন তারা কনস্যুলার শাখায় একটি এনক্রিপ্টেড কোড পাঠায়। এই কোড নম্বর সিস্টেমে না পাওয়া পর্যন্ত কোনো কনস্যুলার কর্মকর্তা ভিসার স্ট্যাম্প দিতে পারেন না।
বাংলাদেশে উজবেকিস্তানের কোনো পূর্ণাঙ্গ আবাসিক দূতাবাস নেই, যার কারণে অনেক কর্মী দিল্লি যাওয়ার ঝামেলায় পড়েন। তবে স্বস্তির খবর হলো, যদি উজবেক স্পন্সর কোম্পানি তাসখন্দ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মিনিস্ট্রি অব ফরেন অ্যাফেয়ার্স (MFA) কাউন্টার থেকে আগাম ভিসা অন-অ্যারাইভাল কনফার্মেশন লেটার সংগ্রহ করে রাখে, তবে কর্মীরা দিল্লি না গিয়েও ট্রানজিট ফ্লাইটে সরাসরি তাসখন্দ বিমানবন্দরে নেমে পাসপোর্টে ভিসা স্ট্যাম্প করিয়ে নিতে পারেন।
তাসখন্দে পৌঁছে পুলিশ রেজিস্ট্রেশন (Propiska), PINFL ও রেমিট্যান্স পাঠানোর নিয়ম
বিমানে নেমে উজবেকিস্তানের মাটিতে পা রাখার পর প্রথম ৩ কার্যদিবসের মধ্যে স্থানীয় পুলিশ রেজিস্ট্রেশন বা ‘প্রপিস্কা’ সম্পন্ন করা প্রতিটি কর্মীর জন্য আইনি বাধ্যবাধকতা। আপনার নিয়োগকর্তা আপনার পাসপোর্ট ও থাকার ঠিকানার চুক্তি নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আঞ্চলিক মাইগ্রেশন অফিসে জমা দিয়ে এই রেজিস্ট্রেশন স্লিপটি তুলে দেবেন। বিমানবন্দর দিয়ে ফেরার সময় এই স্লিপ না দেখাতে পারলে বড় অঙ্কের জরিমানার মুখে পড়তে হয়।
কাজে যোগ দেওয়ার সাথে সাথেই কর্মীকে স্থানীয় গণসেবা কেন্দ্র (Davlat Xizmatlari Markazi) থেকে ১৪ ডিজিটের একটি বিশেষ কর ও নাগরিক পরিচয় নম্বর তুলতে হয়, যাকে PINFL বলা হয়। এই PINFL নম্বর ছাড়া উজবেকিস্তানের কোনো বাণিজ্যিক ব্যাংকে কর্মীর নামে স্যালারি অ্যাকাউন্ট খোলা যায় না। এরপর ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে বৈধ চ্যানেলে বা আন্তর্জাতিক পেমেন্ট নেটওয়ার্কের মাধ্যমে অর্জিত ডলার অনায়াসেই বাংলাদেশে পরিবারের কাছে রেমিট্যান্স আকারে পাঠিয়ে দেওয়া যায়।
ফাইল প্রসেসিং থেকে শুরু করে জয়েনিং পর্যন্ত কাজের ধাপ
আবেদনের প্রতিটি পর্যায় সুনির্দিষ্ট নিয়মে এক টেবিল থেকে অন্য টেবিলে স্থানান্তরিত হয়। পুরো কার্যক্রমটি কীভাবে পর্যায়ক্রমে শেষ হয়, তা নিচে স্পষ্টভাবে দেওয়া হলো:
| কাজের বিবরণ | প্রয়োজনীয় গড় সময় | মূল দায়িত্বপ্রাপ্ত পক্ষ |
|---|---|---|
| স্কিল অ্যাসেসমেন্ট ও কাজের চুক্তিপত্র স্বাক্ষর | ১ থেকে ২ সপ্তাহ | আবেদনকারী ও নিয়োগকারী |
| শ্রম মন্ত্রণালয় থেকে কোটা ক্লিয়ারেন্স অনুমোদন | ৩ থেকে ৪ সপ্তাহ | উজবেক স্পন্সর কোম্পানি |
| স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (MVD) থেকে টেলিগ্রাম কোড ইস্যু | ২ থেকে ৩ সপ্তাহ | উজবেকিস্তান মাইগ্রেশন বিভাগ |
| ভিসা স্ট্যাম্পিং (দিল্লি কনস্যুলার বা তাসখন্দ এয়ারপোর্ট) | ৫ থেকে ৭ কার্যদিবস | পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় উইং |
| বিএমইটি (BMET) ইমিগ্রেশন ক্লিয়ারেন্স ও ফ্লাইট | ৫ থেকে ৭ কার্যদিবস | বাংলাদেশ জনশক্তি ব্যুরো |
ভিসা প্রক্রিয়ার প্রকৃত সরকারি ব্যয় ও বাড়তি খরচ এড়ানো
মধ্য এশিয়ার কাজের ভিসার নাম ভাঙিয়ে অনেক মধ্যস্বত্বভোগী ৬ থেকে ৮ লাখ টাকা দাবি করে, যা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। কোম্পানি যদি সরাসরি অনুমোদন বের করে, তবে সরকারি ফি এবং আনুষঙ্গিক নথিপত্রের খরচ একেবারেই সীমিত থাকে। অতিরিক্ত আর্থিক ক্ষতি থেকে সতর্ক থাকতে বাস্তব ব্যয়ের তালিকাটি দেখে নিন:
- উজবেক শ্রম মন্ত্রণালয় অনুমোদন ফি: আনুমানিক $৫০ – $১০০ USD (কোম্পানি জমা দেয়)।
- এমপ্লয়মেন্ট টাইপ-ই লং-টার্ম ভিসা ফি: কনস্যুলার ভেদে প্রায় $৬০ – $১৫০ USD।
- পুলিশ ক্লিয়ারেন্স ও কাগজপত্র সরকারি সত্যায়ন: আনুমানিক ৳৩,০০০ – ৳৫,০০০ টাকা।
- গামকা বা অনুমোদিত ক্লিনিকের পূর্ণাঙ্গ মেডিকেল টেস্ট: আনুমানিক ৳৮,০০০ – ৳১০,০০০ টাকা।
- বিএমইটি স্মার্ট কার্ড ও সরকারি অভিবাসন কল্যাণ ফি: প্রায় ৳৪,৫০০ – ৳৬,০০০ টাকা।
- বিমান টিকিট (ঢাকা থেকে ট্রানজিট হয়ে তাসখন্দ): প্রায় ৳৫০,০০০ – ৳৭০,০০০ টাকা।
ঢাকা বিমানবন্দর ইমিগ্রেশন ও ভিসা রিজেকশন এড়ানোর কৌশল
ফাইল বাতিল হওয়ার প্রধান কারণগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো ভুয়া কাজের সনদ দেওয়া বা মেডিকেল পরীক্ষায় সংক্রমণ ধরা পড়া। উজবেকিস্তানের সরকার স্বাস্থ্য পরীক্ষার ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স নীতি মেনে চলে; রক্ত পরীক্ষায় কোনো সংক্রামক ব্যাধি ধরা পড়লে পারমিট বাতিল হয়ে যায়। তাই ফাইল তোলার আগেই দেশীয় কোনো ভালো প্যাথলজি থেকে নিজের রক্ত ও এক্স-রে পরীক্ষা করিয়ে নেওয়া ভালো।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ঢাকা এয়ারপোর্ট ইমিগ্রেশন পার হওয়া। অনেক সময় টিকিট থাকা সত্ত্বেও ইমিগ্রেশন পুলিশ মধ্য এশিয়ার যাত্রীদের আটকে দেয়। এ সমস্যা এড়াতে পাসপোর্টের মূল ভিসার পাশাপাশি বিএমইটি স্মার্ট কার্ড এবং উজবেক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের টেলিগ্রাম অ্যাপ্রুভাল লেটারের প্রিন্ট কপি সবসময় সাথে রাখবেন। কাগজপত্র সম্পূর্ণ আসল ও অফিশিয়াল হলে এয়ারপোর্টে কোনো প্রশ্নের মুখে পড়তে হয় না।
উজবেকিস্তান কাজের ভিসা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর (FAQ)
সাধারণ ভিজিট ভিসা নিয়ে সেখানে গেলে কি কাজের অনুমতি পাওয়া যায়?
না, কোনো ধরনের ট্যুরিস্ট বা ইলেকট্রনিক ভিজিট ভিসাকে সরাসরি সেদেশে বসে কাজের ভিসায় পরিবর্তন করার নিয়ম নেই। কাজ করতে চাইলে শুরু থেকেই শ্রম মন্ত্রণালয়ের ছাড়পত্র ও টেলিগ্রাম কোড নিয়ে টাইপ-ই ভিসায় দেশটিতে প্রবেশ করতে হয়।
উজবেকিস্তানে কোম্পানিগুলো কি থাকা-খাওয়ার সুবিধা দিয়ে থাকে?
হ্যাঁ, মেগা প্রজেক্ট ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফ্যাক্টরিগুলোতে নিয়োগকর্তা কর্মীদের নিজস্ব ডরমিটরিতে থাকা এবং দিনে তিন বেলা মানসম্মত খাবারের ব্যবস্থা নিশ্চিত করে। চুক্তিনামায় এই বিষয়টি সুস্পষ্টভাবে লেখা থাকে।
দেশটিতে কাজের জন্য কি স্থানীয় ভাষা জানা জরুরি?
বাধ্যতামূলক কোনো ভাষা পরীক্ষার সনদ লাগে না। তবে সাইটে যোগাযোগ রক্ষা এবং কাজের সুবিধার জন্য রুশ (Russian) বা উজবেক ভাষার প্রাথমিক কিছু কাজের শব্দ ও সংখ্যা শিখে রাখা দারুণ উপকারে আসে।
তাসখন্দ বিমানবন্দরে ভিসা অন-অ্যারাইভাল পাওয়ার নিয়ম কী?
কোম্পানি যদি তাসখন্দ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কনস্যুলার উইংয়ে কর্মীর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ছাড়পত্র ও ইনভাইটেশন আগাম জমা রেখে কনফার্মেশন লেটার বের করে রাখে, তবেই ফ্লাইটে উঠে সরাসরি বিমানবন্দরে নেমে পাসপোর্টে ভিসা লাগানো সম্ভব।
বিএমইটি (BMET) ক্লিয়ারেন্স কার্ড ছাড়া কি দেশটিতে যাওয়া বৈধ?
না, বাংলাদেশ সরকারের অভিবাসন আইন অনুযায়ী কর্মী ভিসায় যেকোনো দেশে যাওয়ার আগে জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো বা Bureau of Manpower, Employment and Training (BMET) থেকে ম্যানপাওয়ার স্মার্ট কার্ড নেওয়া শতভাগ বাধ্যতামূলক।
মধ্য এশিয়ার শিল্প খাতে কাজের সঠিক সিদ্ধান্ত
প্রয়োজনীয় কারিগরি দক্ষতা এবং অফিশিয়াল কাজের ছাড়পত্র সঙ্গে থাকলে উজবেকিস্তান কাজের ভিসা নিয়ে নিজের আয় ও ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা সম্পূর্ণ বাস্তবসম্মত। তবে মনে রাখতে হবে, কোনো ধরনের শর্টকাট রাস্তা বেছে নিয়ে ট্যুরিস্ট ভিসায় যাওয়ার চেষ্টা করা চলবে না। সবসময় নিয়োগকর্তার মূল ইনভাইটেশন ও টেলিগ্রাম রেফারেন্স নম্বরের ওপর ভরসা রেখে সামনে এগোনো উচিত।
আপনার প্রথম কাজ হওয়া উচিত কোনো সংস্থাকে অর্থ দেওয়ার আগে তাদের দেওয়া জব কন্ট্রাক্টে থাকা কোম্পানির নাম ও রেজিস্ট্রেশন নম্বরটি অনলাইনে ভালো করে খতিয়ে দেখা। এছাড়া নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের বৈধতা জানতে দেশটির সরকারি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা Ministry of Foreign Affairs of Uzbekistan পোর্টালে তাদের কনস্যুলার সেকশনের নির্দেশনা দেখে নেওয়া যায়। সম্পূর্ণ আইনি তথ্য জেনে ও সরকারি চ্যানেল অনুসরণ করে এগোলে কোনো ঝুঁকি ছাড়াই উজবেকিস্তানের কর্মসংস্থানে নিজের অবস্থান তৈরি করতে পারবেন।
প্রয়োজনীয় অফিশিয়াল রিসোর্স ও লিংক
যেকোনো ভিসা ও আইনি তথ্যের সত্যতা সরাসরি যাচাই করতে নিচের অফিশিয়াল পোর্টালগুলো ব্যবহার করুন:
- উজবেকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ভিসা নীতি: Ministry of Foreign Affairs of Uzbekistan
- বাংলাদেশ সরকারের বিদেশগমন ছাড়পত্র পোর্টাল: Bureau of Manpower, Employment and Training (BMET)
- উজবেকিস্তান সরকারের কেন্দ্রীয় তথ্য বাতায়ন: Government Portal of the Republic of Uzbekistan
আরো জানুনঃ
- অস্ট্রেলিয়া হোটেল ভিসা।
- এস্তোনিয়া হোটেল ভিসা।
- পোল্যান্ড রেস্টুরেন্ট ভিসা।
- কানাডা রেস্টুরেন্ট ভিসা।
- দুবাই রেস্টুরেন্ট ভিসা।
- গ্রীস রেস্টুরেন্ট ভিসা।
সতর্কবার্তা:
আমাদের ওয়েবসাইটের তথ্যসমূহ কেবল দেশী ও প্রবাসীদের তথ্যগত সহায়তা ও সচেতনতার জন্য প্রকাশিত। আমরা কোনো ভিসা এজেন্সি নই এবং সরাসরি ভিসা প্রদান করি না। ভিসা আবেদনের পূর্বে সবসময় সংশ্লিষ্ট দেশের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট বা এম্বাসির নির্দেশনা অনুসরণ করুন। যেকোনো আর্থিক লেনদেন নিজ দায়িত্বে করুন।

আমি মুরশিদ আলম- পেশায় শিক্ষক ও ইমিগ্রেশন বিষয়ক গবেষক। বিদেশগামী বাংলাদেশী নাগরিকেরা যেন সঠিক, তথ্যভিত্তিক ও প্রতারণামুক্ত তথ্য পেতে পারেন, সে লক্ষ্যেই visapabo.com-এ নিয়মিত গবেষণাভিত্তিক আর্টিকেল লিখি। আর্টিকেলের তথ্যাবলী বিভিন্ন দেশের অফিশিয়াল ইমিগ্রেশন পোর্টাল থেকে যাচাই করে প্রকাশ করি। তথ্যের কোনো গরমিল থাকলে সংশ্লিষ্ট দেশের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে আপডেট জেনে নিন অথবা মতামত থাকলে নিচের কমেন্ট বক্সে জানানোর অনুরোধ রইল।
✉ ইমেইলঃ visapabo@gmail.com | 🌐 ওয়েবসাইটঃ visapabo.com


