দুবাই গ্রিন ভিসা। ৫ বছরের রেসিডেন্সি ও আবেদনের নিয়মাবলী 

আপনি কি দুবাইয়ের নীল আকাশে নিজের ক্যারিয়ারের স্বপ্ন বুনছেন? তাহলে আপনার জন্য দারুণ এক সুখবর নিয়ে এসেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকার, যার নাম দুবাই গ্রিন ভিসা। এটি এমন এক বিশেষ রেসিডেন্সি পারমিট যা আপনাকে কোনো কোম্পানির স্পন্সরশিপ ছাড়াই দুবাইয়ে থাকার ও কাজ করার স্বাধীনতা দেয়।

সাধারণত দুবাইয়ে থাকতে হলে কোনো নিয়োগকর্তা বা কফিলের প্রয়োজন হয়, কিন্তু দুবাই গ্রিন ভিসা সেই চিরাচরিত নিয়ম বদলে দিয়েছে। আপনি যদি একজন দক্ষ পেশাজীবী, ফ্রিল্যান্সার বা উদ্যোক্তা হন, তবে এই ভিসা আপনার জন্য এক সোনার হরিণ। এটি মূলত মেধাবী মানুষদের দীর্ঘমেয়াদে দুবাইয়ে থাকার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য চালু করা হয়েছে।

দুবাই গ্রিন ভিসা কী?

সহজ কথায় বলতে গেলে, দুবাই গ্রিন ভিসা হলো ৫ বছর মেয়াদী একটি রেসিডেন্সি ভিসা। এটি সাধারণ কর্মসংস্থান ভিসার চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী এবং নমনীয়। এই ভিসার সবচেয়ে বড় চমক হলো, এটি পাওয়ার জন্য আপনার কোনো স্থানীয় স্পন্সরের প্রয়োজন নেই। আপনি নিজেই নিজের স্পন্সর হিসেবে গণ্য হবেন।

প্রথাগত ভিসায় চাকরি চলে গেলে দেশ ছাড়ার একটা ভয় থাকে, কিন্তু দুবাই গ্রিন ভিসা থাকলে সেই দুশ্চিন্তা নেই। এটি আপনাকে সংযুক্ত আরব আমিরাতে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর পূর্ণ স্বাধীনতা দেয়। আপনি নিজের ব্যবসা করতে পারেন অথবা কোনো প্রতিষ্ঠানে উচ্চপদে কাজ করতে পারেন।

দুবাই গ্রিন ভিসা কেন চালু করা হয়েছে?

সংযুক্ত আরব আমিরাত বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক হাবে পরিণত হয়েছে। তারা চায় সারা বিশ্বের সেরা মেধাবীরা এখানে এসে বসতি স্থাপন করুক। মূলত বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং দক্ষ জনশক্তিকে আকৃষ্ট করতেই দুবাই গ্রিন ভিসা চালু করা হয়েছে।

এই ভিসার মাধ্যমে দুবাই সরকার তাদের অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করতে চায়। বিশেষ করে প্রযুক্তি, বিজ্ঞান এবং সৃজনশীল খাতের মানুষদের স্থায়ীভাবে থাকার সুযোগ দিয়ে তারা দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়ন নিশ্চিত করতে চায়। দুবাই গ্রিন ভিসা তাই আধুনিক দুবাই গড়ার একটি বড় হাতিয়ার।

গ্রিন ভিসার প্রধান সুবিধাগুলো

দুবাই গ্রিন ভিসা পাওয়ার পর আপনি একগুচ্ছ আকর্ষণীয় সুবিধা ভোগ করবেন। নিচে এর প্রধান কিছু সুবিধা তুলে ধরা হলোঃ

প্রথমত, আপনি ৫ বছরের জন্য নিশ্চিন্তে দুবাইয়ে থাকার অনুমতি পাবেন। এর জন্য আপনাকে কোনো কোম্পানির ওপর নির্ভর করতে হবে না। আপনি নিজেই নিজের মালিক।

দ্বিতীয়ত, আপনার পরিবারের সদস্যদের (স্ত্রী, সন্তান এবং এমনকি বাবা-মা) স্পন্সর করা এখন অনেক সহজ। এই ভিসার আওতায় আপনি আপনার ছেলে সন্তানদের ২৫ বছর বয়স পর্যন্ত এবং অবিবাহিত মেয়েদের যেকোনো বয়স পর্যন্ত সাথে রাখতে পারবেন।

তৃতীয়ত, যদি কোনো কারণে আপনার ভিসা বাতিল হয়ে যায় বা মেয়াদ শেষ হয়, তবে আপনি দেশ ছাড়ার জন্য ৬ মাস পর্যন্ত অতিরিক্ত সময় পাবেন। সাধারণ ভিসায় এই সময়টা থাকে মাত্র ৩০ দিন। এই বাড়তি সময় আপনাকে নতুন করে সব গুছিয়ে নিতে সাহায্য করবে।

কারা দুবাইয়ের গ্রিন ভিসার জন্য আবেদন করতে পারবেন?

সবাই চাইলেই এই ভিসা পাবেন না, এর জন্য নির্দিষ্ট কিছু ক্যাটাগরি ঠিক করে দেওয়া হয়েছে। মূলত তিনটি প্রধান গ্রুপের মানুষ দুবাই গ্রিন ভিসা এর জন্য যোগ্য বলে বিবেচিত হন।

দক্ষ কর্মী

আপনি যদি কোনো স্বীকৃত প্রতিষ্ঠানে উচ্চপদে কর্মরত থাকেন এবং আপনার শিক্ষাগত যোগ্যতা অন্তত স্নাতক ডিগ্রি হয়, তবে আপনি আবেদন করতে পারেন। এক্ষেত্রে আপনার মাসিক বেতন হতে হবে ন্যূনতম ১৫,০০০ দিরহাম।

ফ্রিল্যান্সার ও স্ব-নিয়োজিত

বর্তমান যুগে ফ্রিল্যান্সিং একটি জনপ্রিয় পেশা। আপনি যদি ফ্রিল্যান্সার হিসেবে সফল হন এবং গত দুই বছরে আপনার আয় অন্তত ৩,৬০,০০০ দিরহাম হয়ে থাকে, তবে দুবাই গ্রিন ভিসা আপনার হাতের নাগালে।

বিনিয়োগকারী ও উদ্যোক্তা

দুবাইয়ে ব্যবসা শুরু করতে চান এমন বিনিয়োগকারীদের জন্য এটি সেরা সুযোগ। আপনি যদি কোনো অনুমোদিত ব্যবসায়িক প্রকল্পে নির্দিষ্ট পরিমাণ বিনিয়োগ করেন, তবে আপনি ৫ বছরের এই গ্রিন ভিসা পেতে পারেন।

দুবাইয়ের গ্রিন ভিসার জন্য প্রয়োজনীয় যোগ্যতা

দুবাই গ্রিন ভিসা পেতে হলে আপনাকে কিছু নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে হবে। দক্ষ কর্মীদের ক্ষেত্রে মানবসম্পদ মন্ত্রণালয় (MOHRE) কর্তৃক নির্ধারিত প্রথম, দ্বিতীয় বা তৃতীয় স্তরের পেশাজীবী হতে হবে।

আপনার মাসিক আয় এবং ব্যাংক ব্যালেন্স একটি বড় ভূমিকা পালন করে। ফ্রিল্যান্সারদের ক্ষেত্রে তাদের কাজের প্রমাণের পাশাপাশি আর্থিক সচ্ছলতার প্রমাণ দেখাতে হয়। মূলত আপনি দুবাইয়ে থেকে নিজের খরচ নিজে চালাতে পারবেন কি না, সেটিই যাচাই করা হয়।

বিনিয়োগকারীদের জন্য শর্ত হলো তাদের বিনিয়োগটি অবশ্যই স্থানীয় কর্তৃপক্ষের দ্বারা অনুমোদিত হতে হবে। আপনি যদি একাধিক ব্যবসায় অংশীদার হন, তবে মোট বিনিয়োগের পরিমাণ আপনার যোগ্যতার মাপকাঠি হিসেবে কাজ করবে। দুবাই গ্রিন ভিসা নিশ্চিত করতে এই বিষয়গুলো মাথায় রাখা জরুরি।

গ্রিন ভিসার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র কি কি

আবেদন করার আগে আপনার সব নথিপত্র গুছিয়ে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ। নিচের টেবিলে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের একটি তালিকা দেওয়া হলোঃ

প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের নামবিবরণ
পাসপোর্টঅন্তত ৬ মাস মেয়াদী অরিজিনাল পাসপোর্ট এবং কপি
ছবিসাদা ব্যাকগ্রাউন্ডের পাসপোর্ট সাইজ ছবি
শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদস্নাতক বা উচ্চতর ডিগ্রির সত্যায়িত কপি
ব্যাংক স্টেটমেন্টগত ৬ মাসের আয়ের প্রমাণপত্র
কাজের অভিজ্ঞতাফ্রিল্যান্সিং পারমিট বা কাজের চুক্তিনামা
মেডিকেল রিপোর্টআমিরাত সরকার অনুমোদিত সেন্টার থেকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার রিপোর্ট

দুবাই গ্রিন ভিসা আবেদন করার ধাপে ধাপে নিয়ম

আবেদন প্রক্রিয়াটি বেশ স্বচ্ছ এবং আধুনিক। আপনি চাইলে ঘরে বসেই অনেকটা কাজ এগিয়ে নিতে পারেন। তবে সঠিক তথ্য দেওয়া খুব গুরুত্বপূর্ণ।

আবেদন ফি ও ডকুমেন্ট জমা দেওয়ার নিয়ম

অনলাইনে ফর্ম পূরণ করার পর আপনাকে নির্দিষ্ট ফি জমা দিতে হবে। এরপর আপনার দেওয়া তথ্যগুলো যাচাই-বাছাই করা হবে। সবকিছু ঠিক থাকলে আপনাকে বায়োমেট্রিক এবং মেডিকেল টেস্টের জন্য ডাকা হতে পারে। দুবাই গ্রিন ভিসা পাওয়ার এই ধাপগুলো বেশ সহজ যদি আপনার সব নথি সঠিক থাকে।

দুবাইয়ের গ্রিন ভিসার সরকারি ফি ও অন্যান্য সম্ভাব্য খরচ

এই ভিসার খরচ কিছুটা বেশি হলেও এর দীর্ঘমেয়াদী সুবিধা অনেক। সাধারণত আবেদন ফি, প্রসেসিং ফি এবং মেডিকেল টেস্ট মিলিয়ে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা খরচ হয়।

সরকারি ফি মূলত ৫ বছরের জন্য নির্ধারিত থাকে। এর সাথে এমিরেটস আইডি এবং ইনস্যুরেন্সের খরচ যুক্ত হয়। সব মিলিয়ে একজন আবেদনকারীর প্রায় ৪,০০০ থেকে ৫,০০০ দিরহাম খরচ হতে পারে। তবে সময়ের সাথে সাথে এবং ক্যাটাগরি ভেদে এই খরচ কিছুটা কম-বেশি হতে পারে। মনে রাখবেন, এটি একটি বিনিয়োগ যা আপনাকে ৫ বছরের নিরাপত্তা দেবেইয়েগ্রিন ভিসা প্রসেসিং হতে কত সময় লাগে?

সব কাগজপত্র জমা দেওয়ার পর আপনি নিশ্চয়ই চিন্তায় থাকবেন যে ভিসা পেতে কতদিন লাগবে। সাধারণত সব ঠিক থাকলে ১৫ থেকে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে দুবাই গ্রিন ভিসা ইস্যু করা হয়।

তবে কিছু ক্ষেত্রে নথিপত্র যাচাইয়ের জন্য অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে। বিশেষ করে যদি আপনার শিক্ষাগত সনদ বা কাজের অভিজ্ঞতা নিয়ে কোনো অস্পষ্টতা থাকে। তাই আবেদনের শুরুতেই নিশ্চিত হয়ে নিন যে আপনার সব তথ্য নির্ভুল।

গ্রিন ভিসার মেয়াদ কত বছর?

দুবাই গ্রিন ভিসা এর সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো এর মেয়াদ। এই ভিসাটি সরাসরি ৫ বছরের জন্য দেওয়া হয়। সাধারণ রেসিডেন্সি ভিসা যেখানে ২ বা ৩ বছরের হয়, সেখানে এটি আপনাকে দীর্ঘ সময় নিশ্চিন্তে থাকার সুযোগ দিচ্ছে।

এই ৫ বছর শেষ হওয়ার পর আপনি আবার এটি নবায়ন করতে পারবেন। এই দীর্ঘ সময় আপনাকে দুবাইয়ের জীবনযাত্রার সাথে মানিয়ে নিতে এবং আপনার ক্যারিয়ার বা ব্যবসাকে স্থিতিশীল করতে অনেক সাহায্য করবে।

দুবাই গ্রিন ভিসা ও গোল্ডেন ভিসার মধ্যে পার্থক্য

অনেকেই এই দুটি ভিসার মধ্যে গুলিয়ে ফেলেন। নিচের টেবিলটি দেখলে আপনি পরিষ্কার ধারণা পাবেনঃ

বৈশিষ্ট্যদুবাই গ্রিন ভিসাদুবাই গোল্ডেন ভিসা
মেয়ার৫ বছর১০ বছর
মূল লক্ষ্যদক্ষ কর্মী, ফ্রিল্যান্সার, উদ্যোক্তাবড় বিনিয়োগকারী, বিজ্ঞানী, বিশেষ প্রতিভা
আয়ের শর্ততুলনামূলক কম (১৫,০০০ দিরহাম)অনেক বেশি বা বিশেষ কৃতিত্ব
স্পন্সরশিপনিজে নিজের স্পন্সরনিজে নিজের স্পন্সর

দুবাই গ্রিন ভিসায় পরিবার স্পন্সর করা যায় কি?

হ্যাঁ, অবশ্যই! দুবাই গ্রিন ভিসা এর অন্যতম বড় সুবিধা হলো আপনার পরিবারকে সাথে রাখার সুযোগ। আপনি আপনার স্ত্রী এবং সন্তানদের খুব সহজেই নিজের স্পন্সরে দুবাই নিয়ে আসতে পারেন।

এমনকি আপনি আপনার বাবা-মাকেও এই ভিসার আওতায় স্পন্সর করতে পারবেন। পরিবারকে সাথে নিয়ে থাকার জন্য দুবাই সরকার এখন অনেক বেশি নমনীয় নিয়ম করছে, যা আগে বেশ কঠিন ছিল।

গ্রিন ভিসায় স্ত্রী ও সন্তান আনার নিয়ম

আপনার যদি দুবাই গ্রিন ভিসা থাকে, তবে আপনার পরিবারের সদস্যদের জন্য আলাদা রেসিডেন্সি পারমিট নিতে হবে। আপনার সন্তানদের বয়স যদি ২৫ বছরের নিচে হয়, তবে তাদের স্পন্সর করা যাবে। আগে এই বয়সসীমা ছিল ১৮ বছর।

মেয়েদের ক্ষেত্রে যদি তারা অবিবাহিত থাকে, তবে যেকোনো বয়সেই তারা আপনার সাথে থাকতে পারবে। পরিবারের সদস্যদের জন্য আলাদা করে মেডিকেল টেস্ট এবং এমিরেটস আইডি করতে হবে। এই প্রক্রিয়াটি আপনার ভিসার সাথেই সম্পন্ন করা যায়।

দুবাই গ্রিন ভিসায় কাজ পরিবর্তন করা যায় কি?

এই ভিসার সবচেয়ে বড় স্বাধীনতা হলো আপনি যেকোনো সময় আপনার কাজ বা কোম্পানি পরিবর্তন করতে পারেন। যেহেতু আপনি কোনো নির্দিষ্ট কোম্পানির স্পন্সরে নেই, তাই আপনার চাকরি ছাড়লে ভিসার ওপর কোনো প্রভাব পড়বে না।

আপনি এক কোম্পানি থেকে অন্য কোম্পানিতে যেতে পারেন অথবা নিজের ফ্রিল্যান্সিং পেশা চালিয়ে যেতে পারেন। দুবাই গ্রিন ভিসা আপনাকে ক্যারিয়ারের ক্ষেত্রে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ দেয়, যা একজন পেশাজীবীর জন্য অনেক বড় পাওয়া।

গ্রিন ভিসার নবায়ন পদ্ধতি ও খরচ কত

৫ বছর পর যখন আপনার ভিসার মেয়াদ শেষ হবে, তখন আপনি এটি আবার নবায়ন করতে পারবেন। নবায়নের সময় আপনাকে পুনরায় যোগ্যতার প্রমাণ দিতে হবে, যেমন আপনার আয় বা ব্যবসার অবস্থা।

নবায়ন ফি সাধারণত নতুন ভিসার ফির কাছাকাছিই থাকে। তবে সেই সময়ের সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ফি কিছুটা পরিবর্তন হতে পারে। নবায়নের প্রক্রিয়াটি অনলাইনেই সম্পন্ন করা যায় এবং এটি বেশ দ্রুত হয়।

গ্রিন ভিসা বাতিল হলে কী করবেন ও গুরুত্বপুর্ন কিছু তথ্য

যদি কোনো কারণে আপনার ভিসা বাতিল হয়ে যায়, তবে ঘাবড়ানোর কিছু নেই। দুবাই গ্রিন ভিসা হোল্ডারদের জন্য সরকার ৬ মাসের গ্রেস পিরিয়ড বা অতিরিক্ত সময় দেয়।

এই ৬ মাসের মধ্যে আপনি নতুন কোনো ভিসার জন্য আবেদন করতে পারেন অথবা দেশ ছাড়ার প্রস্তুতি নিতে পারেন। এই সুবিধাটি সাধারণ ভিসার ক্ষেত্রে পাওয়া যায় না, যা গ্রিন ভিসার একটি বিশেষ দিক।

দুবাই গ্রিন ভিসা প্রত্যাখ্যান হওয়ার সাধারণ কারণগুলো কি

অনেক সময় আবেদন করার পর ভিসা রিজেক্ট হতে পারে। এর প্রধান কারণ হতে পারে ভুল তথ্য প্রদান বা অসম্পূর্ণ কাগজপত্র। আপনি যদি আয়ের সঠিক প্রমাণ না দিতে পারেন, তবে আবেদন বাতিল হতে পারে।

এছাড়া মেডিকেল টেস্টে কোনো বড় ধরণের সমস্যা ধরা পড়লে বা সিকিউরিটি ক্লিয়ারেন্স না পেলে ভিসা প্রত্যাখ্যান হতে পারে। তাই আবেদনের আগে অভিজ্ঞ কারো পরামর্শ নেওয়া বা সব নথি দুইবার পরীক্ষা করা জরুরি।

দুবাইয়ের গ্রিন ভিসার জন্য ব্যাংক স্টেটমেন্টের প্রয়োজন আছে কি?

হ্যাঁ, দুবাই গ্রিন ভিসা পাওয়ার জন্য ব্যাংক স্টেটমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি দলিল। বিশেষ করে আপনি যদি ফ্রিল্যান্সার বা বিনিয়োগকারী হিসেবে আবেদন করেন, তবে আপনার আর্থিক সচ্ছলতা প্রমাণের জন্য এটি বাধ্যতামূলক।

দক্ষ কর্মীদের ক্ষেত্রে তাদের মাসিক বেতনের স্লিপ বা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে বেতন আসার প্রমাণ দেখাতে হয়। সাধারণত গত ৬ মাসের স্টেটমেন্ট চাওয়া হয় যাতে আপনার নিয়মিত আয়ের একটি পরিষ্কার চিত্র ফুটে ওঠে।

গ্রিন ভিসায় মেডিকেল টেস্ট ও বায়োমেট্রিক

যেকোনো রেসিডেন্সি ভিসার মতো এখানেও আপনাকে স্বাস্থ্য পরীক্ষা বা মেডিকেল টেস্ট দিতে হবে। এটি মূলত করা হয় ছোঁয়াচে রোগ যেমন যক্ষ্মা বা এইচআইভি আছে কি না তা দেখার জন্য।

মেডিকেল টেস্টের পাশাপাশি আপনাকে বায়োমেট্রিক সেন্টারে গিয়ে আঙুলের ছাপ এবং চোখের স্ক্যান দিয়ে আসতে হবে। এটি আপনার এমিরেটস আইডি তৈরির জন্য প্রয়োজন। এই প্রক্রিয়াগুলো দুবাইয়ের বিভিন্ন সেন্টারে খুব দ্রুত সম্পন্ন করা যায়।

দুবাইয়ের গ্রিন ভিসা নিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতে বসবাসের সুবিধা

দুবাইয়ে বসবাস করা মানে একটি বিশ্বমানের জীবনযাপন উপভোগ করা। দুবাই গ্রিন ভিসা থাকলে আপনি সেখানকার শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং অন্যান্য নাগরিক সুবিধাগুলো ভোগ করতে পারবেন।

আপনার সন্তানরা সেখানকার নামি স্কুলে পড়তে পারবে এবং আপনি উন্নত চিকিৎসা সেবা পাবেন। এছাড়া দুবাইয়ের নিরাপদ পরিবেশ এবং আধুনিক সুযোগ-সুবিধা আপনার জীবনযাত্রাকে অনেক সহজ ও আনন্দময় করে তুলবে।

গ্রিন ভিসা করার সময় যেসব ভুল এড়িয়ে চলবেন

আবেদন করার সময় ছোটখাটো ভুল বড় সমস্যার কারণ হতে পারে। যেমন, পাসপোর্টের নামের সাথে শিক্ষাগত সনদের নামের মিল না থাকা। তাই সব কাগজে নাম ও জন্মতারিখ একই আছে কি না তা নিশ্চিত করুন।

আরেকটি সাধারণ ভুল হলো পুরনো বা অস্পষ্ট ছবি আপলোড করা। সবসময় সাম্প্রতিক এবং পরিষ্কার ছবি ব্যবহার করুন। এছাড়া আয়ের উৎস সম্পর্কে কোনো লুকোচুরি করবেন না, কারণ কর্তৃপক্ষ এগুলো খুব গুরুত্বের সাথে যাচাই করে।

ভুয়া ভিসা এজেন্সি ও প্রতারণা থেকে নিরাপদ থাকার উপায়

বাংলাদেশে অনেক সময় ভিসা দেওয়ার নামে প্রতারণা করা হয়। মনে রাখবেন, দুবাই গ্রিন ভিসা একটি উচ্চমানের ভিসা যা সরাসরি সরকারি পোর্টালের মাধ্যমে আবেদন করতে হয়। কেউ যদি আপনাকে খুব অল্প টাকায় বা বিনা যোগ্যতায় এই ভিসা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়, তবে সতর্ক হোন।

সবসময় অনুমোদিত এজেন্সি বা সরাসরি সরকারি ওয়েবসাইটের মাধ্যমে কাজ করার চেষ্টা করুন। কোনো লেনদেন করার আগে এজেন্সির লাইসেন্স যাচাই করে নিন এবং রসিদ সংগ্রহ করুন।

দুবাই এর গ্রিন ভিসার সর্বশেষ আপডেট কীভাবে জানবেন?

দুবাই সরকার প্রায়ই তাদের ভিসার নিয়মে ছোটখাটো পরিবর্তন আনে। সর্বশেষ আপডেট পেতে নিয়মিত ICP (Federal Authority for Identity, Citizenship, Customs & Port Security) বা GDRFA এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ভিজিট করুন।

এছাড়া দুবাইয়ের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম যেমন ‘খালিজ টাইমস’ বা ‘গালফ নিউজ’ অনুসরণ করতে পারেন। আপনি যদি সচেতন থাকেন, তবে কোনো সুযোগই আপনার হাতছাড়া হবে না।

আরো জানুনঃ

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top