মাল্টা থেকে ফ্রান্স ভ্রমণের নিয়ম: বৈধ শেনজেন ভিসা গাইড (২০২৬ আপডেট)

মাল্টায় অবস্থানরত অনেক বাংলাদেশি প্রবাসী ছুটির দিনে বা কাজের ফাঁকে ফ্রান্সে ঘুরতে যেতে চান। মাল্টা এবং ফ্রান্স—দুটি দেশই ইউরোপের শেনজেন (Schengen) ভুক্ত হওয়ায় যাতায়াতের নিয়ম বেশ সহজ।

তবে অনেকেই না জেনে মারাত্মক একটি ভুল করে বসেন। তারা ভাবেন, মাল্টার রেসিডেন্স কার্ড বা ওয়ার্ক পারমিট থাকলেই ফ্রান্সে গিয়ে ইচ্ছামতো কাজ বা বসবাস করা যায়। আইনিভাবে এটি সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। আপনি যদি মাল্টায় বসে লিগ্যাল বা বৈধ উপায়ে ফ্রান্সে ভ্রমণের প্ল্যান করেন, তবে ২০২৬ সালের নতুন নিয়মগুলো নিচে ধাপে ধাপে জেনে নিন।

মাল্টা থেকে ফ্রান্সে যাওয়ার আইনি নিয়ম (৯০/১৮০ দিনের রুল)

আপনার কাছে যদি মাল্টার বৈধ রেসিডেন্স কার্ড (Residence Card) অথবা লং-স্টে ভিসা থাকে, তবে আপনাকে ফ্রান্সে যাওয়ার জন্য আলাদা কোনো ভিসা করতে হবে না। কিন্তু এখানে সবচেয়ে কড়া এবং গুরুত্বপূর্ণ নিয়মটি হলো ৯০/১৮০ দিনের রুল (90/180 Rule)।

এর মানে হলো, বিগত ১৮০ দিনের মধ্যে আপনি ফ্রান্সসহ অন্যান্য শেনজেন দেশে সব মিলিয়ে সর্বোচ্চ ৯০ দিন অবস্থান করতে পারবেন।

২০২৬ সালের বিশেষ আপডেট (EES সিস্টেম): গত এপ্রিল ২০২৬ থেকে ইউরোপে সম্পূর্ণ নতুন ইইএস (EES – Entry/Exit System) চালু হয়েছে। এর ফলে বর্ডারে আর ম্যানুয়াল সিল মারা হয় না; আপনার প্রবেশ এবং বের হওয়ার হিসাব ইলেকট্রনিকভাবে রেকর্ড করা হয়। তাই এক দিনও ওভারস্টে (Overstay) করলে সেটি অটোমেটিক ইমিগ্রেশনের কম্পিউটারে ধরা পড়ে যাবে।

মাল্টার ভিসার ধরন অনুযায়ী আপনার আইনি অধিকার

মাল্টায় আপনার বর্তমান স্ট্যাটাস অনুযায়ী ফ্রান্সে আপনার কী কী অধিকার আছে, তা নিচে পরিষ্কার করা হলো:

মাল্টায় আপনার বর্তমান স্ট্যাটাসফ্রান্সে কি ঘুরতে পারবেন?সর্বোচ্চ কতদিন থাকতে পারবেন?গুরুত্বপূর্ণ আইনি শর্ত
ওয়ার্ক পারমিট বা রেসিডেন্স কার্ডধারীহ্যাঁ (ট্যুরিজম বা বিজনেস ভিজিট)যেকোনো ১৮০ দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ ৯০ দিনফ্রেঞ্চ সরকারের ওয়ার্ক পারমিট ছাড়া ফ্রান্সে কোনো কাজ করা যাবে না।
স্টুডেন্ট ভিসা বা স্টুডেন্ট রেসিডেন্স কার্ডধারীহ্যাঁ (শর্ট ভিজিট)যেকোনো ১৮০ দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ ৯০ দিনমাল্টায় এনরোলমেন্ট ঠিক রাখতে হবে; ফ্রান্সে গিয়ে পড়াশোনা বা কাজ করা যাবে না।
মাল্টা শেনজেন শর্ট-স্টে ভিসাহ্যাঁপুরো শেনজেনে ১৮০ দিনে মোট ৯০ দিনভিসার মেয়াদ এবং অনুমোদিত দিন পার করা যাবে না।
মাল্টা ট্যুরিস্ট ভিসাহ্যাঁযেকোনো ১৮০ দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ ৯০ দিনমাল্টিপল এন্ট্রি ভিসা থাকলেও এক নাগাড়ে বা ভেঙে ভেঙে মোট ৯০ দিনই থাকতে পারবেন।

ফ্রান্সে নামার পর কী কী কাগজপত্র চেক করা হবে?

যেহেতু মাল্টা এবং ফ্রান্স দুটিই শেনজেন ভুক্ত দেশ, তাই ফ্লাইটে ওঠার আগে খুব বেশি চেকিং হয় না। কিন্তু ২০২৬ সালের অক্টোবর পর্যন্ত ফ্রান্স তাদের অভ্যন্তরীণ বর্ডারে কড়া নিরাপত্তা (Internal border controls) বহাল রেখেছে। তাই ফ্রেঞ্চ পুলিশ এয়ারপোর্টে নামার পর র‍্যান্ডম চেকিং করতে পারে।

নিচের মূল ডকুমেন্টসগুলো কোনোভাবেই লাগেজে দেবেন না, সবসময় হ্যান্ড-ব্যাগে বা নিজের কাছে রাখবেন:

১. পাসপোর্ট ও কার্ড: পাসপোর্টের মেয়াদ ফেরার দিনের পর থেকে অন্তত ৩ মাস থাকতে হবে (পাসপোর্টটি অবশ্যই গত ১০ বছরের মধ্যে ইস্যু করা হতে হবে)। সাথে মাল্টার অরিজিনাল রেসিডেন্স কার্ড বা ভিসা রাখতে হবে (মোবাইলে ছবি দেখালে হবে না)।

২. রিটার্ন টিকিট ও হোটেল বুকিং: আপনি ঠিক কবে মাল্টায় ফিরে যাবেন তার কনফার্ম ফ্লাইট টিকিট এবং ফ্রান্সে কোথায় থাকবেন তার হোটেল বুকিং বা ইনভাইটেশন লেটার।

৩. মাল্টায় ফেরার প্রমাণ (Strong Ties): পুলিশ নিশ্চিত হতে চাইবে যে আপনি মাল্টায় ফিরে যাবেন। প্রমাণ হিসেবে আপনার চাকরির কন্ট্রাক্ট পেপার, বেতনের রসিদ (Payslips), ছুটির অনুমোদনের কাগজ (Leave approval) অথবা স্টুডেন্টদের ক্ষেত্রে এনরোলমেন্ট লেটার সাথে রাখুন।

৪. ব্যাংক ব্যালেন্স ও ইন্স্যুরেন্স: ফ্রান্সে প্রতিদিন চলার মতো পর্যাপ্ত টাকা (ক্যাশ বা কার্ড) এবং অন্তত ৩০ হাজার ইউরো কভারেজ সম্পন্ন ট্রাভেল মেডিকেল ইন্স্যুরেন্স।

মাল্টা থেকে ফ্রান্সের ফ্লাইট রুট ও টিকিটের খরচ (২০২৬ আপডেট)

মাল্টা থেকে ফ্রান্সে যাওয়ার সবচেয়ে সহজ ও জনপ্রিয় মাধ্যম হলো সরাসরি ফ্লাইট। মাল্টা ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট (MLA) থেকে প্যারিস এবং মার্সেই শহরে প্রতিদিন বেশ কিছু ফ্লাইট চলাচল করে।

২০২৬ সালের বাজার অনুযায়ী ফ্লাইট রুট, সময় এবং আনুমানিক ভাড়ার একটি বাস্তব চিত্র নিচের টেবিলে দেওয়া হলো:

রুট (এয়ারপোর্ট)এয়ারলাইন্স ও ফ্লাইটের সময়একমুখী আনুমানিক ভাড়া (ইউরো)
মাল্টা (MLA) থেকে প্যারিস বোভে (BVA)রায়ানএয়ার (Ryanair)
প্রায় ২ ঘণ্টা ৫০ মিনিট
২১ – ২৮ ইউরো (প্রমোশনাল)। লাগেজের জন্য অতিরিক্ত চার্জ প্রযোজ্য।
মাল্টা (MLA) থেকে প্যারিস (CDG / Orly)কেএম মাল্টা, এয়ার ফ্রান্স, ট্রান্সাভিয়া
প্রায় ২ ঘণ্টা ৫৫ মিনিট
৬০ – ১৪০ ইউরো। বুকিংয়ের তারিখ অনুযায়ী দাম ওঠানামা করে।
মাল্টা (MLA) থেকে মার্সেই (MRS)রায়ানএয়ার (Ryanair)
প্রায় ১ ঘণ্টা ৫৫ মিনিট – ২ ঘণ্টা ৫ মিনিট
১৫ – ২১ ইউরো (প্রমোশনাল)। শেষ মুহূর্তে কিনলে দাম অনেক বেশি হয়।

ফ্লাইট বুকিংয়ের গোপন টিপস: রায়ানএয়ারের (Ryanair) টিকিট সস্তা হলেও তারা প্যারিসের বোভে (Beauvais) এয়ারপোর্টে ল্যান্ড করে, যা মূল প্যারিস শহর থেকে প্রায় ৮০-৯০ কিলোমিটার দূরে। সেখান থেকে মূল শহরে যেতে বাস বা ট্রেনের বাড়তি টাকা ও সময় লাগে। তাই একটু বেশি ভাড়া হলেও CDG বা Orly এয়ারপোর্টে ল্যান্ড করে এমন ফ্লাইট (যেমন কেএম মাল্টা বা এয়ার ফ্রান্স) বেছে নেওয়াটা অনেক সময় বেশি সুবিধাজনক।

পাসপোর্টে আপনার নামের বানান ঠিক যেভাবে আছে, টিকিট কাটার সময় হুবহু সেই বানান ব্যবহার করবেন। যদি আপনার ব্যাংক ব্যালেন্স কম থাকে, তবে ‘সেম-ডে রিটার্ন’ (একই দিনে যাওয়া-আসা) টিকিট কাটা থেকে বিরত থাকুন, কারণ এটি পুলিশের চোখে সন্দেহজনক মনে হতে পারে।

ফ্রান্সে কাজ করা বা স্থায়ীভাবে থাকার চেষ্টা (আইনি সতর্কতা)

একটি বিষয় একদম পরিষ্কারভাবে মনে রাখবেন—মাল্টার ওয়ার্ক পারমিট বা রেসিডেন্স কার্ড আপনাকে ফ্রান্সে কাজ করার কোনো আইনি অধিকার দেয় না। ফ্রান্সে কাজ করতে হলে ফ্রেঞ্চ সরকারের নিজস্ব ওয়ার্ক পারমিট লাগে। মাল্টার পারমিট শুধু শেনজেন এলাকায় ঘোরাঘুরির জন্য।

ভ্রমণে গিয়ে নিচের কাজগুলো করা থেকে ১০০% বিরত থাকবেন:

  • ক্যাশে (Cash-in-hand) কোনো ধরনের পার্ট-টাইম বা ফুল-টাইম কাজ করা।
  • ফ্রেঞ্চ সরকারের অনুমতি ছাড়া মাল্টার কোনো কোম্পানির হয়ে ফ্রান্সে বসে ‘রিমোট ওয়ার্ক’ করা।
  • শেনজেনের ৯০/১৮০ দিনের রুল ‘রিসেট’ করার জন্য শেনজেনের বাইরে গিয়ে আবার সাথে সাথে ঢুকে পড়া। (নতুন EES সিস্টেমে এটি এখন সরাসরি ধরা পড়ে যায়)।
  • ফ্রেঞ্চ স্টুডেন্ট ভিসা না নিয়ে ফ্রান্সে গিয়ে কোনো কোর্সে ভর্তি হওয়ার চেষ্টা করা।

অবৈধ কাজ বা ওভারস্টে করার মারাত্মক পরিণতি

ফ্রান্সে গিয়ে যদি আপনি লুকিয়ে কাজ করেন বা ৯০ দিনের বেশি থেকে যান (Overstay), তবে এর পরিণতি হবে মারাত্মক।

আপনাকে সাথে সাথে ফ্রান্স থেকে রিমুভ বা ডিপোর্ট করা হতে পারে। শুধু তাই নয়, আপনার পাসপোর্টে ‘এন্ট্রি ব্যান’ বা নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হবে। এর ফলে ভবিষ্যতে মাল্টার রেসিডেন্স কার্ড নবায়ন করা বা শেনজেনের অন্য কোনো দেশের ভিসা পাওয়া আপনার জন্য প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে। অবৈধভাবে কাজ করলে শুধু আপনারই নয়, ফ্রান্সে যে মালিক আপনাকে কাজে নেবে তাকেও কড়া শাস্তির মুখে পড়তে হবে।

যদি কোনো জরুরি বিপদ বা দুর্ঘটনার কারণে আপনার ওভারস্টে হয়েই যায়, তবে সেটি লুকাবেন না। যত দ্রুত সম্ভব ফ্রান্স ছাড়ার চেষ্টা করুন এবং কোনো ফ্রেঞ্চ ইমিগ্রেশন আইনজীবীর পরামর্শ নিন।

এয়ারপোর্টে পুলিশি জেরা ও বাস্তব টিপস

শেনজেন থেকে শেনজেনে ফ্লাইটে সাধারণত ইমিগ্রেশন পার হতে হয় না। কিন্তু নিরাপত্তার কারণে ফ্রান্স তাদের এয়ারপোর্ট ও বর্ডারগুলোতে সাময়িকভাবে কড়া চেকিং ব্যবস্থা (Internal border control) চালু করেছে, যা ২০২৬ সালের অক্টোবর মাস পর্যন্ত কার্যকর আছে এবং পরবর্তীতে এর মেয়াদ আরও বাড়তে পারে।

এয়ারপোর্টে পুলিশ আপনাকে থামিয়ে নিচের প্রশ্নগুলো করতে পারে:

  • ফ্রান্সে কেন এসেছেন? কতদিন থাকবেন?
  • কোথায় থাকবেন এবং ফেরার টিকিট আছে কি না?
  • মাল্টায় আপনি কী কাজ করেন বা কী পড়েন?

পুলিশকে কী উত্তর দেবেন: সবসময় আত্মবিশ্বাসের সাথে সত্য কথা বলবেন। পুলিশকে বলবেন, “আমি মাল্টায় থাকি এবং বৈধভাবে কাজ করি/পড়াশোনা করি। আমি এখানে মাত্র কয়েকদিনের ছুটিতে ঘুরতে এসেছি এবং অমুক তারিখে আমার ডিউটি/ক্লাস শুরু হওয়ার আগেই মাল্টায় ফিরে যাব।” কখনোই মাল্টার কার্ড দেখিয়ে ফ্রান্সে কাজ করার অধিকার দাবি করবেন না।

ডকুমেন্টসের ফটোকপি আলাদা রাখা: অরিজিনাল পাসপোর্টের পাশাপাশি সব ডকুমেন্টের এক সেট ফটোকপি আপনার অন্য একটি ব্যাগে আলাদাভাবে রাখবেন। মূল ব্যাগ চুরি বা হারিয়ে গেলে এটি আপনাকে বড় বাঁচা বাঁচাবে।

সেকেন্ডারি ইন্সপেকশন (Secondary Inspection): পুলিশ যদি আপনার কথায় সন্তুষ্ট না হয়ে আপনাকে আলাদা কোনো রুমে (সেকেন্ডারি চেকিং) নিয়ে যায়, তবে একদম ভয় পাবেন না। শান্ত থেকে শুধু এই কথাটি বলবেন: “আমি মাল্টায় থাকি এবং সেখানে বৈধভাবে কাজ/পড়াশোনা করি। আমি এখানে মাত্র [X] দিনের ছুটিতে ঘুরতে এসেছি এবং [অমুক তারিখে] আমি আমার ডিউটি বা ক্লাসে যোগ দেওয়ার জন্য মাল্টায় ফিরে যাব।”

বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে কিছু গোপন টিপস

সরকারি ওয়েবসাইটের নিয়মকানুনের বাইরেও, যারা নিয়মিত মাল্টা থেকে ফ্রান্সে যাতায়াত করেন তাদের কিছু বাস্তব অভিজ্ঞতা রয়েছে। আপনার ভ্রমণকে নিরাপদ করতে এই ছোট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো মাথায় রাখুন:

  • ‘বোভে’ (Beauvais) এয়ারপোর্টের ফাঁদ: রায়ানএয়ারের (Ryanair) টিকিট দেখে অনেকেই লোভে পড়ে যান। কিন্তু মনে রাখবেন, প্যারিস বোভে এয়ারপোর্টটি মূল শহর থেকে প্রায় দেড় ঘণ্টার রাস্তা। ফ্লাইটের ভাড়ার চেয়ে অনেক সময় এয়ারপোর্ট বাসের ভাড়াই বেশি পড়ে যায়! তাই সময় ও বাস ভাড়ার হিসাব মিলিয়ে তবেই টিকিট কাটবেন।
  • প্লেনের দরজায় পুলিশের চেকিং: শেনজেন থেকে শেনজেনে ফ্লাইট হলেও, ফ্রান্সে প্লেন ল্যান্ড করার পর অনেক সময় প্লেনের গেটেই ফ্রেঞ্চ পুলিশ দাঁড়িয়ে থাকে। তারা সেখানে দাঁড়িয়েই সবার পাসপোর্ট ও রেসিডেন্স কার্ড চেক করে। তাই মাল্টার অরিজিনাল কার্ডটি সবসময় পকেটে বা হ্যান্ড-ব্যাগে সহজে বের করা যায় এমন জায়গায় রাখবেন।
  • বড় লাগেজ বা বস্তা এড়িয়ে চলুন: আপনি যদি বলেন “আমি ৩ দিনের ছুটিতে এসেছি”, কিন্তু আপনার সাথে থাকে বিশাল আকারের দুই-তিনটি লাগেজ—তবে পুলিশ নিশ্চিত সন্দেহ করবে যে আপনি ফ্রান্সে থেকে যাওয়ার বা কাজ করার উদ্দেশ্যে এসেছেন। শর্ট ট্রিপের জন্য শুধু ব্যাকপ্যাক বা ছোট ট্রলি নিয়ে ভ্রমণ করাটা সবচেয়ে নিরাপদ।
  • ‘রিসিপ্ট’ (Receipt) দিয়ে ভ্রমণ নয়: মাল্টায় আপনার রেসিডেন্স কার্ড নবায়নের জন্য দেওয়া ‘ব্লু পেপার’ বা রিসিপ্ট নিয়ে কখনোই ফ্রান্সে যাওয়ার ঝুঁকি নেবেন না। কার্ড হাতে পাওয়ার পরই কেবল শেনজেনে ভ্রমণের প্ল্যান করবেন।
  • অফলাইন ডকুমেন্ট সেভ রাখুন: এয়ারপোর্টে অনেক সময় ইন্টারনেটের সমস্যা হতে পারে। তাই আপনার রিটার্ন টিকিট, হোটেল বুকিং এবং ট্রাভেল ইন্স্যুরেন্সের পিডিএফ ফাইলগুলো ফোনেই ডাউনলোড করে রাখবেন, যাতে ইন্টারনেট ছাড়াই পুলিশকে দেখাতে পারেন।

ফ্লাইটে ওঠার আগে আপনার ফাইনাল চেকলিস্ট

সবশেষে, এয়ারপোর্টের উদ্দেশ্যে বের হওয়ার আগে আপনার ফাইলটি একবার মিলিয়ে নিন:

১. বিগত ১৮০ দিনের হিসাব মিলিয়ে দেখুন আপনার শেনজেন কোটা (৯০ দিন) পার হয়ে যাচ্ছে কি না।

২. আপনার মাল্টার রেসিডেন্স কার্ড বা ভিসার মেয়াদ পুরো ট্রিপ জুড়ে বৈধ আছে কি না।

৩. আপ-ডাউন ফ্লাইট টিকিট এবং কনফার্ম হোটেল বুকিংয়ের হার্ডকপি।

৪. ট্রিপের দিনগুলোর জন্য পর্যাপ্ত ব্যাংক ব্যালেন্স বা ক্যাশ ইউরো।

৫. শেনজেন স্ট্যান্ডার্ড ট্রাভেল ইন্স্যুরেন্স।

৬. মাল্টায় আপনার চাকরি বা পড়াশোনার প্রমাণের কাগজ (যেমন: জব কন্ট্রাক্ট, লিভ লেটার)।

৭. ফ্রান্সে চেকিংয়ের কারণে এয়ারপোর্টে স্বাভাবিকের চেয়ে একটু বেশি সময় হাতে নিয়ে পৌঁছানো।

সোজা কথায়—ফ্রান্সকে কেবল একটি ছুটির গন্তব্য (Tourist Destination) হিসেবে দেখুন, মাল্টার কর্মক্ষেত্রের কোনো সম্প্রসারিত অংশ হিসেবে নয়। সঠিক নিয়ম মেনে ভ্রমণ করলে ফ্রান্সের সৌন্দর্য উপভোগ করা আপনার জন্য দুর্দান্ত এক অভিজ্ঞতা হবে।

ফ্রান্স ভ্রমণ হোক নিরাপদ ও ঝামেলামুক্ত

মাল্টা থেকে ফ্রান্সে যাওয়ার সুযোগটি মাল্টায় থাকা প্রবাসীদের জন্য একটি দারুণ সুবিধা। প্যারিসের আইফেল টাওয়ার দেখা বা মার্সেইয়ের সমুদ্রসৈকতে ঘোরাঘুরি করা—সবই সম্ভব, যদি আপনি ইমিগ্রেশনের নিয়মগুলো ঠিকমতো মেনে চলেন।

ফ্রান্সকে কেবল একটি সুন্দর ছুটির গন্তব্য (Tourist Destination) হিসেবে দেখুন। সেখানে লুকিয়ে কাজ করার বা থেকে যাওয়ার চেষ্টা করলে শুধু আপনার জমানো টাকাই নষ্ট হবে না, পুরো ইউরোপের দরজাই আপনার জন্য চিরতরে বন্ধ হয়ে যেতে পারে। তাই ভ্রমণের আগে নিজের শেনজেন কোটার (৯০/১৮০ দিন) সঠিক হিসাব রাখুন, বৈধ ডকুমেন্টস সাথে নিন এবং বুক ফুলিয়ে প্যারিস ভ্রমণ উপভোগ করুন।

তথ্যসূত্র ও অফিশিয়াল লিংক

পাঠকদের শতভাগ নির্ভুল তথ্য দেওয়ার জন্য এই গাইডের প্রতিটি নিয়ম মাল্টা ও ফ্রান্সের সরকারি ইমিগ্রেশন পোর্টাল থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। নিজে যাচাই করতে নিচের অফিশিয়াল লিংকগুলোতে ভিজিট করতে পারেন:

আরো জানুনঃ

ফ্রান্স ওয়ার্ক পারমিট ভিসা

সতর্কবার্তা:

আমাদের ওয়েবসাইটের তথ্যসমূহ কেবল দেশী ও প্রবাসীদের তথ্যগত সহায়তা ও সচেতনতার জন্য প্রকাশিত। আমরা কোনো ভিসা এজেন্সি নই এবং সরাসরি ভিসা প্রদান করি না। ভিসা আবেদনের পূর্বে সবসময় সংশ্লিষ্ট দেশের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট বা এম্বাসির নির্দেশনা অনুসরণ করুন। যেকোনো আর্থিক লেনদেন নিজ দায়িত্বে করুন।

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Scroll to Top