দুবাই প্রবাসীদের জন্য ইউএসএ বি১ বি২ ভিসা পাওয়ার নিয়ম

সংযুক্ত আরব আমিরাতে বসবাসরত চাকরিজীবী ও ব্যবসায়ীদের জন্য দুবাই প্রবাসীদের জন্য ইউএসএ বি১ বি২ ভিসা পাওয়ার সুনির্দিষ্ট কিছু আইনি সুবিধা রয়েছে। আমিরাতের ভ্যালিড রেসিডেন্স ভিসা থাকলে সরাসরি দুবাই বা আবুধাবিতে অবস্থিত মার্কিন কনস্যুলেটে ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ক্যাটাগরির এই নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসার জন্য আবেদন করা যায়।

সরাসরি মূল বিষয়ে আসি, অনেকেই মনে করেন আবেদন করলেই ভিসা পাওয়া সহজ, কিন্তু মার্কিন ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ন্যাশনালিটি অ্যাক্টের ২১৪(বি) ধারা অনুযায়ী শক্তিশালী ‘টাইস’ প্রমাণ করতে না পারলে রিজেকশন হতে পারে। এই পূর্ণাঙ্গ সহায়িকায় অনলাইন আবেদন, ডিএস-১৬০ ফরমের টেকনিক্যাল ধাপ, কনস্যুলার ইন্টারভিউ ও রিজেকশন এড়ানোর নির্ভরযোগ্য গাইডলাইন তুলে ধরা হলো।

দুবাই প্রবাসীদের জন্য ইউএসএ বি১ বি২ ভিসা পাওয়ার শর্ত ও যোগ্যতা

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণের ক্ষেত্রে বি১ (ব্যবসায়িক মিটিং, কনফারেন্স) এবং বি২ (পর্যটন, অবকাশ ও চিকিৎসা) সাধারণত একটি সম্মিলিত মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসা হিসেবে ইস্যু করা হয়। দুবাই থেকে আবেদন করার প্রধানতম আইনি শর্ত হলো আবেদনকারীর আমিরাতে একটি বৈধ ও স্থিতিশীল অবস্থান প্রমাণ করা।

কনস্যুলার অফিসাররা সবচেয়ে বেশি মূল্যায়ন করেন আবেদনকারী কেন যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে পুনরায় ইউএই-তে ফিরে আসবেন। এর জনয একটি স্থায়ী চাকরি, ভালো বেতন এবং ইউএই সরকারের কেন্দ্রীয় ডাটাবেজে সঠিক ট্যাক্স ও রেসিডেন্সি স্ট্যাটাস থাকা আবশ্যক।

  • বৈধ রেসিডেন্স পারমিট: ইউএই রেসিডেন্স ভিসার মেয়াদ ভ্রমণের তারিখ থেকে কমপক্ষে ৬ মাস থাকতে হবে।
  • পাসপোর্টের বৈধতা: মূল পাসপোর্টের মেয়াদ অন্তত ৬ মাস অবশিষ্ট থাকা বাধ্যতামূলক।
  • কর্মসংস্থানের স্থায়িত্ব: ইউএই-তে একই কোম্পানিতে ন্যূনতম ৬ মাস থেকে ১ বছরের চাকরির অভিজ্ঞতা।
  • আর্থিক সংগতি: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে থাকার খরচ বহনের মতো নিয়মিত ব্যাংক লেনদেন ও পর্যাপ্ত সেভিংস।
  • ভ্রমণের স্পষ্ট উদ্দেশ্য: হোটেল বুকিং, মিটিং ইনভাইটেশন বা সুনির্দিষ্ট ট্রাভেল প্ল্যান থাকা।

গোল্ডেন ও গ্রিন ভিসা হোল্ডারদের সুবিধা বনাম সাধারণ পেশাজীবীদের প্রস্তুতি

আমিরাতের ভিসার ধরন এবং প্রার্থীর পেশাগত ডেজিগনেশন মার্কিন কনস্যুলারদের মূল্যায়নে বড় ধরনের প্রভাব ফেলে। গোল্ডেন বা গ্রিন ভিসা থাকা আবেদনকারীদের দীর্ঘমেয়াদী বসবাস ও অর্থনৈতিক সক্ষমতার ইতিবাচক প্রতিফলন হিসেবে দেখা হয়।

সাধারণ ড্রাইভার, সেলসম্যান বা টেকনিশিয়ান ক্যাটাগরির কর্মীদের ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক টাইস দুর্বল মনে করে ভিসা বাতিলের হার তুলনামূলক বেশি থাকে। তবে সঠিক ও বাস্তবসম্মত প্রমাণপত্র উপস্থাপন করতে পারলে এ ধরনের প্রোফাইলও সফল হতে পারে।

  • পারিবারিক অবস্থান: স্ত্রী ও সন্তান ইউএই-তে বৈধ রেসিডেন্ট হিসেবে বসবাস করার প্রমাণপত্র।
  • আবাসন চুক্তি (Ejari): নিজের নামে নিবন্ধিত দীর্ঘমেয়াদী অ্যাপার্টমেন্ট লিজ বা এজারির কপি।
  • কোম্পানির অনুমোদন: বাৎসরিক পেইড লিভ এবং সফর শেষে কাজে পুনর্বহালের স্পষ্ট অঙ্গীকারপত্র।
  • দীর্ঘমেয়াদী রেকর্ড: আমিরাতে টানা কয়েক বছর ধরে বৈধভাবে অবস্থানের নিরবচ্ছিন্ন ট্র‍্যাক রেকর্ড।

প্রসেসিং ফি, কনস্যুলার ক্যাটাগরি ও খরচের পূর্ণাঙ্গ হিসাব

ইউএস ভিজিটর ভিসা আবেদনের জন্য সরকারি ফি ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব স্টেট কর্তৃক নির্ধারিত থাকে। এই ফি সম্পূর্ণ অফেরতযোগ্য এবং আবেদন শুরুর প্রাথমিক পর্যায়ে ডিজিটাল পেমেন্ট গেটওয়ের মাধ্যমে পরিশোধ করতে হয়। নিচে দুবাই থেকে বি১/বি২ ভিসা প্রসেসিংয়ের সাথে জড়িত সকল সম্ভাব্য খরচের একটি স্বচ্ছ ও বাস্তবসম্মত তালিকা তুলে ধরা হলোঃ

খরচের বিবরণসরকারি ফি (USD / AED)বাংলাদেশি সমমূল্য (BDT)কার দায়িত্ব ও পরিশোধের মাধ্যম
MRV কনস্যুলার ভিসা ফি$১৮৫ USD (প্রায় ৬৮০ AED)প্রায় ২২,০০০ – ২৩,৫০০ টাকাআবেদনকারী নিজে (অনলাইন কার্ড বা এক্সচেঞ্জ)
DS-160 ফরম সাবমিশনসম্পূর্ণ ফ্রি ($০)০ টাকাঅফিশিয়াল সরকারি পোর্টালে বিনামূল্যে
অফিশিয়াল ডিজিটাল ফটো৩০ – ৫০ AEDপ্রায় ১,০০০ – ১,৫০০ টাকাঅনুমোদিত স্টুডিও থেকে ২x২ ইঞ্চি ছবি
ডকুমেন্ট নোটারাইজেশন/অনুবাদ৫০ – ১০০ AED (যদি লাগে)প্রায় ১,৫০০ – ৩,২০০ টাকাইংরেজি ভিন্ন অন্য ভাষায় কাগজপত্র থাকলে
প্রিমিয়াম কুরিয়ার ডেলিভারি৩০ – ৬০ AEDপ্রায় ১,০০০ – ২,০০০ টাকাপাসপোর্ট সরাসরি বাসায় বা অফিসে রিসিভ করতে

ধাপে ধাপে অফিশিয়াল আবেদন প্রক্রিয়া ও DS-160 সংশোধনের নিয়ম

মার্কিন ভিসার পুরো প্রক্রিয়াটি দুটি ভিন্ন সরকারি পোর্টালের মাধ্যমে সম্পন্ন করতে হয়। আবেদনকারীদের এই ভুলটি সবচেয়ে বেশি করতে দেখা যায় যে, তারা ডিএস-১৬০ পূরণ করার পর ইন্টারভিউ বুকিং সিস্টেমে তথ্য মেলাতে গিয়ে গরমিল করে ফেলেন।

প্রথম ধাপে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রধান ভিসা পোর্টাল CEAC DS-160 Official Portal-এ গিয়ে নির্ভুলভাবে যাবতীয় ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও কর্মসংস্থানের তথ্য এন্ট্রি দিতে হবে। ফরমটি সাবমিট করার পর প্রাপ্ত বারকোড কনফার্মেশন পেজটি সংরক্ষণ করতে হবে।

[DS-160 অনলাইন ফরম পূরণ ও বারকোড জেনারেট]
                        ↓
[Official US Visa Appointment পোর্টালে প্রোফাইল তৈরি]
                        ↓
[MRV ফি ($185) প্রদান ও ট্রানজেকশন ভেরিফিকেশন]
                        ↓
[দুবাই কনস্যুলেট বা আবুধাবি এম্বাসিতে স্লট নির্বাচন]
                        ↓
[বায়োমেট্রিক ও সশরীরে কনস্যুলার ইন্টারভিউ প্রদান]

যদি স্লট বুক করার পর বুঝতে পারেন পূর্বের ডিএস-১৬০ ফর্মে বড় কোনো ভুল রয়েছে, তবে সরাসরি পুরানো ফর্ম এডিট করা সম্ভব নয়। এক্ষেত্রে সিইএসি পোর্টালে নতুন একটি ডিএস-১৬০ ফর্ম পূরণ করে সাবমিট করতে হবে এবং US Visa Appointment Service UAE পোর্টালে লগইন করে প্রোফাইল এডিট অপশন থেকে নতুন বারকোড নম্বরটি ইন্টারভিউয়ের অন্তত ৩ দিন আগে আপডেট করে নিতে হবে।

প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস চেকলিস্ট ও ব্যাংক স্টেটমেন্টের মানদণ্ড

ইউএস ভিসা প্রক্রিয়া মূলত একটি ‘ডকুমেন্ট-লেস’ বা ইন্টারভিউ-কেন্দ্রিক ইন্টারঅ্যাকশন হলেও যেকোনো দাবি প্রমাণের জন্য সাপোর্টিং পেপারস সাথে থাকা প্রয়োজন। কনস্যুলার অফিসার চাইলে যেন তাৎক্ষণিকভাবে যেকোনো কাগজ উপস্থাপন করা যায়।

একটি সাধারণ বাস্তব নিয়ম হলো, কোনো ভুয়া বা অতিরঞ্জিত কাগজ ফাইলে না রাখা, কারণ আমেরিকান ইমিগ্রেশন যাচাই প্রক্রিয়ায় ভুয়া তথ্য ধরা পড়লে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি হতে পারে।

  • পাসপোর্টের মূল কপি এবং পূর্বের সকল বাতিল পাসপোর্টের কপি।
  • ইউএই রেসিডেন্স ভিসার রঙিন প্রিন্টআউট ও এমিরেটস আইডির মূল কপি।
  • ডিএস-১৬০ কনফার্মেশন পেজ এবং অ্যাপয়েন্টমেন্ট লেটার।
  • শেষ ৬ মাসের অরিজিনাল ব্যাংক স্টেটমেন্ট (ব্যাংকের সিল ও স্বাক্ষরসহ)।
  • কোম্পানি কর্তৃক ইস্যুকৃত নো-অবজেকশন লেটার (NOC) এবং পে-স্লিপ।
  • ট্রেড লাইসেন্স ও পার্টনারশিপ ডিড (যদি আবেদনকারী ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক হন)।

ব্যাংক অ্যাকাউন্টে হঠাৎ করে কোনো বড় অঙ্কের ক্যাশ ডিপোজিট দেখানো যাবে না। নিয়মিত বেতনের টাকা ব্যাংকে জমা হচ্ছে কি না এবং ব্যালেন্সে কমপক্ষে ২০,০০০ থেকে ৩৫,০০০ এইডি (AED) বা সমমানের ফান্ড থাকা ইতিবাচক হিসেবে গণ্য হয়। আবেদনকারীর শ্রম চুক্তির সত্যতা যাচাই করতে মার্কিন কনস্যুলাররা প্রয়োজনে Ministry of Human Resources and Emiratisation (MOHRE)-এর অফিশিয়াল ডেটাবেজের রেফারেন্স দেখতে পারেন।

কনস্যুলার ইন্টারভিউয়ের ট্রিকি প্রশ্নোত্তর ও সফল হওয়ার কৌশল

ইউএস বি১/বি২ ভিসার অনুমোদন প্রায় ৮০% নির্ভর করে কনস্যুলার অফিসারের সাথে আপনার ৩ থেকে ৫ মিনিটের সরাসরি কথোপকথনের ওপর। অফিসার মূলত যাচাই করেন আপনার অভিবাসনের কোনো গোপন ইচ্ছা আছে কি না।

আমার দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা থেকে দেখেছি, অনেকেই অতিরিক্ত নার্ভাস হয়ে অপ্রাসঙ্গিক উত্তর দিতে গিয়ে আবেদন বাতিল করিয়ে বসেন। নিচে সচরাচর জিজ্ঞাসিত কিছু কৌশলগত প্রশ্ন ও তার আদর্শ উত্তরের নমুনা দেওয়া হলোঃ

  • প্রশ্ন: আপনি ইউএই-তে কত বছর ধরে আছেন এবং এখানে আপনার বর্তমান ভূমিকা কী?আদর্শ উত্তর: “আমি বিগত ৪ বছর ধরে দুবাইয়ে [কোম্পানির নাম]-এ সিনিয়র অ্যাকাউন্ট্যান্ট হিসেবে কর্মরত আছি এবং আমার পুরো পেশাগত ক্যারিয়ার এখানেই প্রতিষ্ঠিত।”
  • প্রশ্ন: ভ্রমণের সকল খরচ কে বহন করছে? আদর্শ উত্তর: “আমার বিগত কয়েক বছরের ব্যক্তিগত সঞ্চয় থেকে আমি নিজেই এই ৭ দিনের অবকাশ যাপনের সম্পূর্ণ খরচ বহন করছি।”
  • প্রশ্ন: বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার বদলে আপনি আমেরিকা যাওয়ার প্ল্যান কেন করলেন?আদর্শ উত্তর: “আমি প্রতি বছর বাৎসরিক ছুটিতে পরিবারের সাথে বাংলাদেশে যাই, তবে এবার আমার দীর্ঘদিনের স্বপ্ন নিউইয়র্ক ও ওয়াশিংটনের দর্শনীয় স্থানগুলো ঘুরে দেখা।”

221(g) প্রশাসনিক প্রক্রিয়া ও পাসপোর্ট ট্র্যাকিং

ইন্টারভিউ শেষে যদি কনস্যুলার অফিসার তাৎক্ষণিকভাবে ভিসা অনুমোদন না করেন, তবে অনেক সময় সাদা বা হলুদ রঙের 221(g) Administrative Processing স্লিপ ধরিয়ে দেন। এটি সরাসরি রিজেকশন নয়, বরং প্রার্থীর ব্যাকগ্রাউন্ড বা অতিরিক্ত তথ্যের আনুষ্ঠানিক যাচাইকরণ।

যদি স্লিপে কোনো নির্দিষ্ট ডকুমেন্ট চাওয়া হয়, তবে নির্দেশিত অফিশিয়াল ইমেইলে তা দ্রুত স্ক্যান করে পাঠাতে হবে। যদি পাসপোর্ট রেখে দেওয়া হয়, তবে সিইএসি পোর্টালে স্ট্যাটাস ট্র্যাক করতে হবে এবং প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে ভিসা লাগানো পাসপোর্ট ফেরত দেওয়া হয়।

দুবাই বনাম আবুধাবি ইউএস মিশন

সংযুক্ত আরব আমিরাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দুটি মিশন রয়েছে—একটি দুবাইয়ে অবস্থিত মার্কিন কনস্যুলেট জেনারেল এবং অন্যটি আবুধাবিতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস। আবেদনকারী তার সুবিধাজনক যেকোনো একটি মিশনে ইন্টারভিউ স্লট নিতে পারেন। দুবাই মিশনে আবেদনের চাপ বেশি থাকায় সাধারণত আবুধাবি মিশনের চেয়ে ইন্টারভিউ ডেট পেতে কিছুটা বেশি সময় লাগে।

কনস্যুলার মিশনভৌগোলিক অবস্থানগড় ইন্টারভিউ অপেক্ষার সময়কাদের জন্য সুবিধাজনক
US Consulate General Dubaiআল সিফ রোড, বুর দুবাই২ থেকে ৪ মাসদুবাই, শারজাহ ও উত্তর আমিরাতের বাসিন্দা
US Embassy Abu Dhabiএম্বাসি ডিস্ট্রিক্ট, আবুধাবি১ থেকে ৩ মাসআবুধাবি, আল আইন এবং দ্রুত স্লট প্রত্যাশীরা

জরুরি বিজনেস ট্রিপ বা জরুরি চিকিৎসার ক্ষেত্রে রেগুলার অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুক করার পর অফিশিয়াল পোর্টালে ইমার্জেন্সি অ্যাপয়েন্টমেন্টের (Expedited Appointment) রিকোয়েস্ট পাঠানো যায়।

ভুয়া গ্যারান্টি ও ট্রাভেল এজেন্সির ফাঁদ থেকে বাঁচার উপায়

দুবাই ও শারজার কিছু অসাধু এজেন্সি প্রবাসীদের “১০০% ভিসা নিশ্চিত” বা “স্পন্সর ছাড়া ভিসা কনফার্ম” বলে বিভ্রান্ত করে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেয়। বাস্তবে কোনো এজেন্ট বা তৃতীয় পক্ষের কনস্যুলার সিদ্ধান্তের ওপর হস্তক্ষেপ করার বিন্দুমাত্র ক্ষমতা নেই।

ভিসা অনুমোদনের একমাত্র এখতিয়ার মার্কিন কনস্যুলার অফিসারের। অনেক সময় এজেন্সিগুলো ফর্ম পূরণের সময় নিজেরা ভুল তথ্য বা কাল্পনিক তথ্য বসিয়ে দেয়, যার দায়ভার পুরোপুরি আবেদনকারীর ওপর এসে পড়ে। তাই নিজের ডিএস-১৬০ ফরমের ইউজারনেম, পাসওয়ার্ড ও সিকিউরিটি প্রশ্নের নিয়ন্ত্রণ সবসময় নিজের কাছে রাখতে হবে।

সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQ)

সেলারি কম হলে বা ক্যাশ স্যালারি পেলে কি ইউএস ভিসা পাওয়া সম্ভব?

বেতন যদি ব্যাংকের মাধ্যমে না এসে সরাসরি ক্যাশে আসে, তবে ভিসা পাওয়া অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে। মার্কিন কনস্যুলেট ব্যাংক স্টেটমেন্টে বেতনের সুনির্দিষ্ট লেনদেন দেখতে চায়। বেতন কম হলেও যদি নিয়মিত ব্যাংকে ডিপোজিট থাকে এবং পর্যাপ্ত সঞ্চয় দেখানো যায়, তবে আবেদন বিবেচনাযোগ্য হতে পারে।

ইউএই গ্রিন ভিসা বা গোল্ডেন ভিসা হোল্ডারদের জন্য কি কোনো বিশেষ ছাড় আছে?

গোল্ডেন বা গ্রিন ভিসা থাকা মানেই ভিসা নিশ্চিত নয়, তবে এটি প্রার্থীর অর্থনৈতিক সক্ষমতা ও ইউএই-তে দীর্ঘমেয়াদী বসবাসের শক্তিশালী প্রমাণ হিসেবে কাজ করে। ফলে কনস্যুলার অফিসারের কাছে আবেদনকারীর সোশ্যাল ও ইকোনমিক টাইস অনেক বেশি মজবুত বলে প্রতীয়মান হয়।

ভিসার মেয়াদ সাধারণত কত বছরের জন্য দেওয়া হয়ে থাকে?

বাংলাদেশি পাসপোর্টধারী হলে সাধারণত সর্বোচ্চ ৫ বছর মেয়াদী মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসা প্রদান করা হয়। তবে প্রার্থীর প্রোফাইল ও ভ্রমণ উদ্দেশ্যের ওপর ভিত্তি করে কনস্যুলার অফিসার চাইলে ১ বা ২ বছর মেয়াদী সিঙ্গেল কিংবা মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসাও ইস্যু করতে পারেন।

ইন্টারভিউতে ভিসা রিজেক্ট হলে পুনরায় কত দিন পর আবেদন করা যায়?

আইনত নির্দিষ্ট কোনো অপেক্ষার সময়সীমা নেই, চাইলে পরের দিনই নতুন ফি দিয়ে আবেদন করা যায়। তবে আপনার বর্তমান কাজের পদবী, স্যালারি বা সার্বিক পরিস্থিতিতে কোনো বড় পরিবর্তন না এলে দ্রুত পুনরায় আবেদন করলে আবারও প্রত্যাখ্যাত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

আমেরিকায় প্রবেশের পর একবারের ভ্রমণে সর্বোচ্চ কত দিন থাকা যায়?

ইউএস এয়ারপোর্টে ইউএস কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন (CBP) অফিসার আপনার এন্ট্রি সিল ও আই-৯৪ (I-94) ফর্মে অবস্থানের নির্দিষ্ট মেয়াদ নির্ধারণ করেন। সাধারণত পর্যটন বা ভিজিটরদের ক্ষেত্রে একবারে সর্বোচ্চ ৬ মাস বা ১৮০ দিন পর্যন্ত অবস্থানের বৈধ অনুমতি মেলে।

শেষকথা

সঠিক প্রস্তুতি ও স্বচ্ছ নথিপত্র নিশ্চিত করতে পারলে দুবাই প্রবাসীদের জন্য ইউএসএ বি১ বি২ ভিসা প্রাপ্তির যাত্রা অনেক সহজ ও ঝুঁকিমুক্ত হতে পারে। নিজের অর্থনৈতিক সক্ষমতা এবং আমিরাতে প্রত্যাবর্তনের স্পষ্ট কারণ প্রমাণ করাই এই ভিসা প্রাপ্তির মূল চাবিকাঠি।

আপনার পরবর্তী তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ হওয়া উচিত কোনো থার্ড পার্টির ভুয়া আশ্বাসে পা না দিয়ে নিজে বসে ডিএস-১৬০ ফর্মের ড্রাফট তৈরি করা। ব্যাংক স্টেটমেন্ট ও কোম্পানির যাবতীয় ছাড়পত্র প্রস্তুত করে অফিশিয়াল পোর্টালে ফি জমা দিয়ে ইন্টারভিউয়ের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করুন।

তথ্যসুত্র

ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব স্টেট – ট্রাভেল গাইড (U.S. Department of State – Travel) – মার্কিন ভিজিটর ভিসা (B1/B2), ২১৪(বি) ধারা, ২২১(জি) অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ প্রসেসিং এবং কনস্যুলার নিয়মের মূল অফিশিয়াল পোর্টাল।

সিইএসি ডিএস-১৬০ অনলাইন পোর্টাল (Consular Electronic Application Center – CEAC) – বি১/বি২ ভিসার জন্য অফিশিয়াল ডিএস-১৬০ ফরম পূরণ, ড্রাফট সেভ এবং বারকোড কনফার্মেশন পাওয়ার সাইট।

ইউএস অফিসিয়াল ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্ট সার্ভিস (Official US Visa Information & Appointment UAE) – সংযুক্ত আরব আমিরাতে মার্কিন কনস্যুলার ফি ($১৮৫) প্রদান, ইন্টারভিউ স্লট বুকিং এবং ডিএস-১৬০ বারকোড নম্বর আপডেটের সরকারি সিস্টেম।

ইউএই মানবসম্পদ মন্ত্রণালয় (Ministry of Human Resources and Emiratisation – MOHRE) – সংযুক্ত আরব আমিরাতে বিদেশি কর্মীদের বৈধ শ্রমচুক্তি, বেতন ও কর্মসংস্থান স্ট্যাটাস যাচাইয়ের সরকারি ডেটাবেজ।

ফেডারেল অথরিটি ফর আইডেন্টিটি অ্যান্ড সিটিজেনশিপ (ICP UAE) – ইউএই রেসিডেন্স পারমিট, এমিরেটস আইডি এবং গোল্ডেন/গ্রিন ভিসার বৈধতা ট্র্যাকিং পোর্টাল।

আরো জানুনঃ

সতর্কবার্তা:

আমাদের ওয়েবসাইটের তথ্যসমূহ কেবল দেশী ও প্রবাসীদের তথ্যগত সহায়তা ও সচেতনতার জন্য প্রকাশিত। আমরা কোনো ভিসা এজেন্সি নই এবং সরাসরি ভিসা প্রদান করি না। ভিসা আবেদনের পূর্বে সবসময় সংশ্লিষ্ট দেশের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট বা এম্বাসির নির্দেশনা অনুসরণ করুন। যেকোনো আর্থিক লেনদেন নিজ দায়িত্বে করুন।

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Scroll to Top