মধ্যপ্রাচ্যের মুক্তা হিসেবে পরিচিত বাহরাইনে যাওয়ার স্বপ্ন দেখেন আমাদের দেশের অনেক রেমিট্যান্স যোদ্ধা। আপনিও যদি সুন্দর আগামীর আশায় বাহরাইন যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে থাকেন, তবে আপনার প্রথম এবং প্রধান কাজ হলো নিজের ভিসাটি যাচাই করে নেওয়া।
দালাল বা এজেন্সির ওপর পুরোপুরি নির্ভর না করে নিজের স্মার্টফোন দিয়ে মাত্র কয়েক মিনিটে বাহরাইন ভিসা চেক করা এখন অনেক সহজ। এতে আপনি প্রতারণার হাত থেকে বাঁচবেন এবং নিশ্চিত হতে পারবেন যে আপনার কষ্টের টাকা সঠিক জায়গায় বিনিয়োগ হচ্ছে।
কেন বাহরাইন ভিসা চেক করবেন?
বিদেশে যাওয়ার প্রক্রিয়ায় সবচেয়ে বড় ভীতি হলো জাল ভিসার খপ্পরে পড়া। অনেক সময় অসাধু ব্যক্তিরা ভুয়া কাগজ ধরিয়ে দিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়।
আপনি যদি আগেভাগেই অনলাইনে বাহরাইন ভিসা চেক করে বর্তমান অবস্থা দেখে নেন, তবে এয়ারপোর্টে গিয়ে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঝামেলায় পড়তে হবে না। এটি আপনার মনে প্রশান্তি দেবে এবং বিদেশ যাত্রার প্রতিটি ধাপকে করবে অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী।
তাছাড়া, আপনার ভিসার মেয়াদ কতদিন আছে বা এটি কোন ক্যাটাগরির ভিসা, তা জানার জন্য অনলাইন বাহরাইন ভিসা চেক করা অত্যন্ত জরুরি। এটি আপনাকে বাহরাইনে পৌঁছানোর পর আইনি জটিলতা থেকেও দূরে রাখবে।
বাহরাইন ভিসা চেক করতে যে গুরুত্বপুর্ন তথ্য লাগবে
অনেকেই মনে করেন বাহরাইন ভিসা চেক করা হয়তো খুব জটিল কোনো প্রক্রিয়া, যেখানে অনেক কাগজের প্রয়োজন হয়। আসলে বিষয়টি একদমই তেমন নয়, বরং আপনার হাতের কাছে থাকা সাধারণ কিছু তথ্যই যথেষ্ট। অনলাইনে আপনার ভিসার স্ট্যাটাস দেখার জন্য মূলত নিচের তথ্যগুলো প্রয়োজন হয়ঃ
- আপনার পাসপোর্ট নম্বর (অবশ্যই সঠিক হতে হবে)।
- পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হওয়ার তারিখ।
- আপনার জন্ম তারিখ অথবা জাতীয়তা (বাংলাদেশ)।
- ভিসা অ্যাপ্লিকেশন নম্বর (যদি আপনার কাছে থাকে)।
এই সাধারণ তথ্যগুলো আপনার হাতের কাছে থাকলে আপনি যেকোনো সময় বিশ্বের যেকোনো প্রান্ত থেকে নিজের ভিসার সত্যতা যাচাই করতে পারবেন।
বাহরাইন ভিসা চেক করার সঠিক ওয়েবসাইটের ঠিকানা
বাহরাইন সরকার তাদের অভিবাসন প্রক্রিয়াকে অত্যন্ত আধুনিক এবং ডিজিটাল করেছে। আপনি যদি আপনার ভিসা যাচাই করতে চান, তবে আপনাকে বাহরাইনের অফিসিয়াল পোর্টালে যেতে হবে। নিচে বাহরাইন ভিসা চেক করার জন্য সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ওয়েবসাইটের ঠিকানা দেওয়া হলোঃ
LMRA (Labour Market Regulatory Authority) অফিসিয়াল পোর্টাল
এই ওয়েবসাইটটি বাহরাইনে কর্মরত বিদেশি শ্রমিকদের সব তথ্য সংরক্ষণ করে। আপনি যদি কাজের ভিসায় যেতে চান, তবে এই পোর্টালটি আপনার জন্য সবচেয়ে বিশ্বস্ত মাধ্যম।
এছাড়া ভিজিট ভিসা বা ই-ভিসার জন্য আপনি ক্লিক করুন এখানে।
বাহরাইন ভিসা চেক করার নিয়ম সহজে
খন নিশ্চয়ই জানতে ইচ্ছে করছে ঠিক কিভাবে আপনি এই ওয়েবসাইটে গিয়ে নিজের তথ্যগুলো ইনপুট দেবেন? আমি ধাপে ধাপে পুরো বিষয়টি বুঝিয়ে বলছি।
এলএমআরএ (LMRA) পোর্টালের মাধ্যমে চেক করার ধাপসমূহ
প্রথমে আপনার ফোনের ব্রাউজার থেকে বাহরাইনের LMRA ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন অথাবা সরাসরি প্রবেশ করতে এখানে ক্লিক করুন। নীচের পেজের মত একটি পেজ ওপেন হবে।

এখানে প্রথম অপশন থেকে Identity Card/Work Permit/Application ID/Passport যেকোন একটি সিলেক্ট করুন। দ্বিতীয় অপশনে চাহিত তথ্য দিয়ে I’m not a robot অপশনে টিক চিহ্ন দিয়ে Search বাটনে ক্লিক করুন। সার্চ বাটনে ক্লিক করলেই আপনার ভিসার বিস্তারিত স্ক্রিনে চলে আসবে।
ই-ভিসা পোর্টালের মাধ্যমে চেক করার নিয়ম
আপনি যদি ভ্রমণ বা ব্যবসার কাজে বাহরাইন যেতে চান এবং ই-ভিসার আবেদন করে থাকেন, তবে ই-ভিসা পোর্টালে যান। সেখানে ‘Check Application Status’ বাটনে ক্লিক করুন।
আপনার অ্যাপ্লিকেশন রেফারেন্স নম্বর এবং পাসপোর্ট নম্বর দিয়ে সার্চ করলে আপনি দেখতে পাবেন আপনার আবেদনটি কোন পর্যায়ে আছে। এটি কি অনুমোদিত হয়েছে নাকি এখনো প্রক্রিয়াধীন-সবই সেখানে পরিষ্কারভাবে লেখা থাকবে।
বাহরাইন ভিসা চেক করে কিভাবে বুঝবো ভিসাটি সঠিক
অনলাইনে সার্চ করার পর কিছু নির্দিষ্ট বিষয় দেখে আপনি নিশ্চিত হতে পারবেন যে আপনার ভিসাটি আসল নাকি নকল। একটি আসল ভিসার ক্ষেত্রে আপনি পোর্টালে আপনার নিজের নাম, ছবি এবং পাসপোর্টের তথ্যের হুবহু মিল পাবেন। নিচের টেবিলটি দেখে আপনি সহজেই আসল ও নকল ভিসার পার্থক্য বুঝতে পারবেনঃ
| ফিচারের নাম | আসল ভিসা (Original) | নকল ভিসা (Fake) |
|---|---|---|
| ওয়েবসাইটের তথ্য | সরকারি পোর্টালে নাম ও তথ্য দেখাবে। | পোর্টালে কোনো তথ্য পাওয়া যাবে না। |
| কিউআর কোড | স্ক্যান করলে সরকারি লিংকে নিয়ে যাবে। | কোড কাজ করবে না বা ভুল তথ্য দেবে। |
| স্পন্সরের নাম | নিয়োগকর্তা বা কোম্পানির নাম স্পষ্ট থাকবে। | অস্পষ্ট বা ভুল কোম্পানির নাম থাকবে। |
| ভিসার স্ট্যাটাস | ‘Issued’ বা ‘Valid’ লেখা থাকবে। | ‘Invalid’ বা কোনো রেকর্ড পাওয়া যাবে না। |
যদি সার্চ করার পর দেখেন ‘No Record Found’ অথবা তথ্যে কোনো গরমিল আছে, তবে সাথে সাথে আপনার এজেন্সির সাথে যোগাযোগ করুন। কখনোই সন্দেহজনক ভিসা নিয়ে বিদেশ যাওয়ার ঝুঁকি নেবেন না।
ভিসার স্ট্যাটাস বা বর্তমান অবস্থা বোঝার উপায়
যখন আপনি অনলাইনে চেক করবেন, তখন কিছু নির্দিষ্ট ইংরেজি শব্দ দেখতে পাবেন যা আপনার ভিসার বর্তমান অবস্থা বোঝাবে। এগুলো বুঝতে পারলে আপনার জন্য সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হবে।
যদি দেখেন ‘Approved’ লেখা আছে, তার মানে আপনার ভিসাটি অনুমোদিত হয়েছে এবং আপনি যাওয়ার জন্য প্রস্তুত। যদি ‘Under Process’ লেখা থাকে, তবে বুঝবেন আপনার আবেদনটি এখনো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
আবার অনেক সময় ‘Expired’ লেখা আসতে পারে, যার অর্থ আপনার ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। এই ছোট ছোট শব্দগুলো খেয়াল করলে আপনি নিজেই নিজের ভিসার ম্যানেজার হয়ে উঠতে পারবেন।
মনে রাখবেন, সচেতনতাই হলো আপনার বিদেশ যাত্রার সবচেয়ে বড় সুরক্ষা। তাই বাহরাইন যাওয়ার আগে অবশ্যই নিজের ভিসাটি অনলাইনে চেক করে নিশ্চিত হয়ে নিন এবং নিরাপদ প্রবাস জীবন উপভোগ করুন।
বাহরাইন ভিসা সংক্রান্ত কিছু সাধারণ প্রশ্ন (FAQ)
ভিসা চেক করার সময় আমাদের মনে অনেক ধরনের প্রশ্ন উঁকি দেয়। চলুন এমন কিছু সাধারণ প্রশ্নের উত্তর জেনে নেওয়া যাক যা আপনাকে আরও পরিষ্কার ধারণা দেবে।
ভিসা চেক করতে কি কোনো টাকা লাগে?
না, বাহরাইনের সরকারি ওয়েবসাইট থেকে ভিসা চেক করতে কোনো ফি বা টাকা দিতে হয় না। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি একটি সেবা যা সবার জন্য উন্মুক্ত।
অনলাইনে তথ্য না দেখালে আমার কি করা উচিত?
যদি আপনার পাসপোর্ট নম্বর দিয়ে সার্চ করার পর কোনো তথ্য না আসে, তবে আপনার ভিসাটি এখনো সিস্টেমে আপলোড হয়নি অথবা এটি জাল হতে পারে। কয়েকদিন অপেক্ষা করে আবার চেষ্টা করুন এবং আপনার এজেন্সিকে বিষয়টি জানান।
পাসপোর্ট নম্বর ছাড়া কি ভিসা চেক করা সম্ভব?
সাধারণত পাসপোর্ট নম্বরই হলো প্রধান মাধ্যম। তবে আপনার কাছে যদি ভিসা অ্যাপ্লিকেশন নম্বর বা পার্সোনাল নম্বর থাকে, তবে সেটি দিয়েও কিছু ক্ষেত্রে চেক করা সম্ভব।
মোবাইলে কি বাহরাইন ভিসা চেক করা যায়?
অবশ্যই! আপনার হাতে থাকা স্মার্টফোনের যেকোনো ব্রাউজার (যেমনঃ Google Chrome) ব্যবহার করে আপনি খুব সহজেই এই কাজটি করতে পারবেন। কোনো বাড়তি অ্যাপ ডাউনলোড করার প্রয়োজন নেই।
আরো জানুনঃ


