সন্তানকে ছোটবেলা থেকেই বিদেশের বিশ্বমানের শিক্ষাব্যবস্থায় গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখেন অনেক অভিভাবক। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য এই স্বপ্ন পূরণে অস্ট্রেলিয়ায় স্কুলিং ভিসা বর্তমানে অন্যতম সেরা একটি সুযোগ।
বাংলাদেশি শিশু ও কিশোরদের জন্য এই ভিসা (Subclass 500 – Schools Sector) সম্পূর্ণ উন্মুক্ত রয়েছে। সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, ১৮ বছরের কম বয়সী সন্তানের দেখাশোনার জন্য বাবা-মা বা আইনগত অভিভাবকও সাথে যেতে পারেন ‘স্টুডেন্ট গার্ডিয়ান ভিসা’ (Subclass 590) নিয়ে।
তবে ২ অক্টোবর ২০২৬ থেকে অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (Department of Home Affairs) স্কুলিং ভিসা ও পরিবার যুক্ত করার নিয়মে বেশ কিছু কড়া পরিবর্তন এনেছে। তাই পুরোনো তথ্যে বিভ্রান্ত না হয়ে, বর্তমান সরকারি নিয়ম, বয়সসীমা, খরচের সঠিক হিসাব এবং আবেদনের ধারাবাহিক ধাপগুলো পরিষ্কারভাবে জেনে নিন।
স্কুলিং ভিসা ও অভিভাবক ভিসা কী? (Subclass 500 বনাম 590)
অস্ট্রেলিয়ায় স্কুল লেভেলে যেতে হলে মূল শিক্ষার্থী এবং সাথে যাওয়া অভিভাবকের জন্য দুটি আলাদা ক্যাটাগরির ভিসা প্রযোজ্য হয়। এদের মূল পার্থক্যগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
| বৈশিষ্ট্য | সাবক্লাস ৫০০ (Schools Sector) | সাবক্লাস ৫৯০ (Student Guardian) |
|---|---|---|
| কার জন্য প্রযোজ্য? | অনুমোদিত স্কুলে ফুল-টাইম পড়তে যাওয়া ৬ থেকে ১৮ বছর বয়সী শিক্ষার্থী। | শিক্ষার্থীর দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা বাবা-মা, আইনগত অভিভাবক বা ২১+ বয়সের নিকটাত্মীয়। |
| মূল শর্ত | CRICOS অনুমোদিত স্কুলের অফার লেটার, CoE, OSHC হেলথ কভার ও আর্থিক সচ্ছলতা। | শিশুর বাসস্থান ও সুরক্ষার দায়িত্ব, পর্যাপ্ত ফান্ড এবং OVHC হেলথ ইন্স্যুরেন্স। |
| কাজের অধিকার | পড়াশোনার সময় প্রতি পক্ষে (Fortnight) সর্বোচ্চ ৪৮ ঘণ্টা (তবে স্কুল শিক্ষার্থীদের মূল মনোযোগ পড়াশোনাতেই থাকতে হয়)। | সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ (Condition 8101): অভিভাবক কোনো ধরনের পেইড কাজ করতে পারবেন না। |
| ভিসার মেয়াদ | প্রাইমারি স্কুলের জন্য সর্বোচ্চ ৩ বছর; সেকেন্ডারি/হাইস্কুলের জন্য সর্বোচ্চ ৫ বছর পর্যন্ত। | শিক্ষার্থীর ১৮ বছর বয়স পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত বা কোর্সের মেয়াদ অনুযায়ী। |
ভিসা আবেদন ফি (Visa Pricing): সাবক্লাস ৫৯০ (Student Guardian) ভিসার মূল আবেদনকারীর জন্য অস্ট্রেলিয়া সরকারের ভিসা ফি ন্যূনতম ২,৫০০ অস্ট্রেলিয়ান ডলার (AUD) থেকে শুরু হয়। এর সাথে অতিরিক্ত কোনো ডিপেন্ডেন্ট সন্তান থাকলে তার জন্য আলাদা ফি যুক্ত হবে।
২০২৬ সালের সর্বশেষ সরকারি নিয়ম ও আইনি অবস্থা
অস্ট্রেলিয়া সরকার আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের মান ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে অভিবাসন আইনে বেশ কিছু কড়াকড়ি কার্যকর করেছে:
- ২ অক্টোবর ২০২৬-এর নতুন নীতিমালা: নতুন নিয়মে অস্ট্রেলিয়ার ভেতর থেকে (Onshore) কারা আবেদন করতে পারবেন এবং স্টুডেন্ট ভিসায় পরিবারের সদস্যদের যুক্ত করার সুযোগে বড় পরিবর্তন এসেছে। স্কুলিং সেক্টরে শিক্ষার্থীর সাথে সাধারণত কোনো ডিপেন্ডেন্ট বা পার্টনার যুক্ত করা যায় না (বিশেষ ব্যতিক্রম ছাড়া)।
- জেনুইন স্টুডেন্ট (GS) রিকোয়ারমেন্ট: ২৩ মার্চ ২০২৪ থেকে পুরোনো GTE নিয়মের বদলে ‘Genuine Student’ (GS) অ্যাসেসমেন্ট চালু হয়েছে। অপ্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রে অভিভাবকের মূল উদ্দেশ্য কী, পরিবারের আর্থিক ব্যাকগ্রাউন্ড কেমন এবং পড়াশোনা শেষে দেশে ফেরার বাস্তব পরিকল্পনা আছে কি না—ভিসা অফিসার এগুলো খুব কড়াভাবে যাচাই করেন।
- অভিভাবকের ক্ষেত্রে GTE বহাল: শিক্ষার্থীকে GS প্রমাণ করতে হলেও, সাথে যাওয়া অভিভাবকের জন্য কিন্তু এখনও ‘Genuine Temporary Entrant’ (GTE) নিয়ম বহাল রয়েছে। অর্থাৎ অভিভাবক সেখানে স্থায়ীভাবে থেকে যাওয়ার উদ্দেশ্যে যাচ্ছেন না, তা প্রমাণ করতে হবে।
বয়স ও শ্রেণিভিত্তিক কড়া আইনি সীমা
অস্ট্রেলিয়ায় স্কুলিং ভিসার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীর বয়স নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (Department of Home Affairs) অত্যন্ত কড়াকড়ি আরোপ করে। আপনার সন্তানকে অবশ্যই তার ভর্তির কাঙ্ক্ষিত শ্রেণির (Grade) জন্য ‘যথাযথ বয়সের’ (Appropriate Age) হতে হবে।
অফিশিয়াল বয়সসীমাগুলো নিচে দেওয়া হলো:
- প্রাইমারি স্কুল (Primary School): স্কুলে ভর্তির জন্য শিশুর বয়স ন্যূনতম ৬ বছর হতে হবে। প্রাইমারি লেভেলের জন্য সাধারণত সর্বোচ্চ ৩ বছর মেয়াদের ভিসা দেওয়া হয়।
- ইয়ার ৯ (Year 9): ইয়ার ৯ শুরুর সময় শিক্ষার্থীর বয়স অবশ্যই ১৭ বছরের কম হতে হবে।
- ইয়ার ১০ (Year 10): ইয়ার ১০ শুরুর সময় বয়স ১৮ বছরের কম হতে হবে।
- ইয়ার ১১ (Year 11): ইয়ার ১১ শুরুর সময় বয়স ১৯ বছরের কম হতে হবে।
- ইয়ার ১২ (Year 12): ইয়ার ১২ শুরুর সময় বয়স অবশ্যই ২০ বছরের কম হতে হবে।
স্কুলিং ভিসা ও অভিভাবক ভিসার ধাপে ধাপে আবেদন প্রক্রিয়া
অস্ট্রেলিয়ায় স্কুলিং ভিসা এবং স্টুডেন্ট গার্ডিয়ান ভিসা সাধারণত একসাথেই আবেদন করতে হয়। দালালকে টাকা দেওয়ার আগে বা আবেদনের প্রস্তুতি নেওয়ার সময় নিচের ৭টি সরকারি ধাপ অনুসরণ করুন:
ধাপ ১: CRICOS অনুমোদিত স্কুল খুঁজে বের করা
প্রথমেই অস্ট্রেলিয়ার অফিশিয়াল ‘CRICOS’ (Commonwealth Register of Institutions and Courses for Overseas Students) ওয়েবসাইট থেকে আপনার পছন্দের স্টেট (যেমন: সিডনি, মেলবোর্ন), শ্রেণির লেভেল এবং কোর্স সার্চ করতে হবে। শুধুমাত্র CRICOS নিবন্ধিত স্কুলেই আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা পড়তে পারে।
ধাপ ২: অফার লেটার (Offer Letter) সংগ্রহ
স্কুল নির্বাচন করার পর সন্তানের জন্মসনদ, আগের স্কুলের একাডেমিক রেকর্ড, এবং কোনো ইংরেজি পরীক্ষার প্রমাণ (যদি চায়) দিয়ে আবেদন করতে হয়। অনেক স্কুল সরাসরি ইন্টারভিউ বা অ্যাসেসমেন্ট নিয়ে সন্তুষ্ট হলে তবেই ‘অফার লেটার’ দেয়।
ধাপ ৩: টিউশন ফি ও হেলথ কভার (OSHC/OVHC) পরিশোধ
অফার লেটার পাওয়ার পর স্কুলের নির্দেশ অনুযায়ী প্রথম বছরের টিউশন ফি বা ডিপোজিট জমা দিতে হবে। একই সাথে শিক্ষার্থীর জন্য ‘OSHC’ (Overseas Student Health Cover) এবং সাথে যাওয়া অভিভাবকের জন্য ‘OVHC’ (Overseas Visitors Health Cover) নামক বাধ্যতামূলক হেলথ ইন্স্যুরেন্স কিনতে হবে।
ধাপ ৪: CoE (Confirmation of Enrolment) গ্রহণ
টিউশন ফি এবং হেলথ কভারের পেমেন্ট সম্পন্ন হলে স্কুল থেকে একটি ‘CoE’ ইস্যু করা হবে। মনে রাখবেন, এই CoE লেটার ছাড়া ভিসা আবেদন শুরু করা সম্পূর্ণ অসম্ভব।
ধাপ ৫: ওয়েলফেয়ার বা বাসস্থানের ব্যবস্থা (Welfare Arrangement)
১৮ বছরের কম বয়সী শিক্ষার্থীর জন্য অস্ট্রেলিয়ায় একটি অনুমোদিত ওয়েলফেয়ার বা বাসস্থানের প্রমাণ দেখানো বাধ্যতামূলক। যদি বাবা-মা বা নিকটাত্মীয় ‘গার্ডিয়ান ভিসা’ (Subclass 590) নিয়ে সাথে যান, তবে ফর্ম 157N (Form 157N) পূরণ করে সেটি নিশ্চিত করতে হয়।
বিকল্প ওয়েলফেয়ার (CAAW): যদি কোনো কারণে বাবা-মায়ের অভিভাবক ভিসা (Subclass 590) রিজেক্ট হয় বা তারা সাথে যেতে না পারেন, তবে নির্দিষ্ট বয়সের ওপরের শিক্ষার্থীদের জন্য স্কুল চাইলে নিজস্ব দায়িত্বে ওয়েলফেয়ার লেটার বা CAAW (Confirmation of Appropriate Accommodation and Welfare) ইস্যু করতে পারে। এক্ষেত্রে শিক্ষার্থী স্কুলের অনুমোদিত হোস্টেল বা হোমস্টে-তে (Homestay) থেকে পড়াশোনা করতে পারে।
ধাপ ৬: ডকুমেন্টস ও জেনুইন স্টুডেন্ট (GS/GTE) স্টেটমেন্ট প্রস্তুত
এবার মূল ডকুমেন্টগুলো সাজাতে হবে। সন্তানের জন্য ‘জেনুইন স্টুডেন্ট’ (GS) স্টেটমেন্ট এবং অভিভাবকের জন্য ‘জেনুইন টেম্পোরারি এন্ট্রান্ট’ (GTE) স্টেটমেন্ট লিখতে হবে। এই স্টেটমেন্টে স্পষ্টভাবে প্রমাণ করতে হবে যে, আপনারা কেবল পড়াশোনার জন্যই সেখানে যাচ্ছেন এবং পড়া শেষে দেশে ফিরে আসবেন।
প্যারেন্টাল কনসেন্ট ফর্ম (Form 1229): ১৮ বছরের কম বয়সী সন্তানের সাথে যদি বাবা অথবা মায়ের মধ্যে যেকোনো একজন অস্ট্রেলিয়া যান, তবে দেশে অবস্থানরত অন্য অভিভাবকের লিখিত আইনি সম্মতিপত্র হিসেবে Form 1229 জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। এটি ছাড়া নাবালক শিশুর ভিসা ফাইল প্রসেস করা হয় না।
ধাপ ৭: ImmiAccount-এ অনলাইনে চূড়ান্ত আবেদন
সবশেষ ধাপে অস্ট্রেলিয়ান সরকারের অফিশিয়াল ‘ইমিঅ্যাকাউন্ট’ (ImmiAccount) পোর্টালে গিয়ে মা ও সন্তানের দুটি ভিসার ফাইল একসাথে অনলাইনে লজ (Lodge) বা সাবমিট করতে হবে। এরপর নিয়ম অনুযায়ী বায়োমেট্রিক এবং মেডিকেল চেকআপ সম্পন্ন করে ভিসা সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।
HAP ID ও বায়োমেট্রিক (eMedical): অনলাইনে ফাইল লজ করার সাথে সাথেই একটি ‘HAP ID’ জেনারেট হয়। এই আইডি দিয়ে বাংলাদেশের অনুমোদিত প্যানেল ফিজিশিয়ান (যেমন- IOM বা Green Crescent) থেকে মেডিকেল চেকআপ করাতে হয়। একইসাথে, ভিএফএস গ্লোবাল (VFS Global) ঢাকা, সিলেট বা চট্টগ্রাম সেন্টার থেকে আঙুলের ছাপ বা বায়োমেট্রিক দিয়ে আসতে হয়। মনে রাখবেন, মেডিকেল রিপোর্ট ও বায়োমেট্রিক ইমিগ্রেশনের সিস্টেমে আপডেট না হওয়া পর্যন্ত আপনার ভিসা ফাইলটি প্রসেসিংয়ে যাবে না।
বাংলাদেশ থেকে স্কুলিং ভিসা হতে কতদিন সময় লাগে?
অস্ট্রেলিয়ার স্কুলিং ভিসার প্রসেসিং সময়টি নির্ভর করে আপনি কত দ্রুত এবং কতটা নিখুঁতভাবে ফাইল লজ করছেন তার ওপর। তবে সরকারিভাবে (অফশোর বা বাংলাদেশ থেকে আবেদনের ক্ষেত্রে) ভিসা প্রসেসিংয়ের একটি আনুমানিক সময়কাল নিচে দেওয়া হলো:
| ভিসার ক্যাটাগরি | আনুমানিক প্রসেসিং সময় (অফিসিয়াল) |
|---|---|
| স্কুলিং ভিসা (Subclass 500) | অধিকাংশ ক্ষেত্রে ৪ থেকে ১২ সপ্তাহ (১ থেকে ৩ মাস) |
| স্টুডেন্ট গার্ডিয়ান ভিসা (Subclass 590) | অধিকাংশ ক্ষেত্রে ৩ থেকে ৪ মাস (তবে স্কুলিং ভিসার সাথেই সিদ্ধান্ত আসে) |
ভিসা দ্রুত পাওয়ার স্পেশাল টিপস
অস্ট্রেলিয়ার স্কুলে সাধারণত টার্ম ১ (জানুয়ারি/ফেব্রুয়ারি) এবং টার্ম ৩ (জুলাই)-তে মূল ইনটেক থাকে। ক্লাস শুরুর আগে ইমিগ্রেশনে প্রচুর ফাইলের চাপ থাকে। তাই ক্লাস শুরুর অন্তত ৩ থেকে ৪ মাস আগে (যেমন: জানুয়ারি ইনটেকের জন্য সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে) ফাইল লজ করাটা সবচেয়ে নিরাপদ।
শো-মানি বা আর্থিক সক্ষমতার নিখুঁত হিসাব
অস্ট্রেলিয়ায় ভিসা আবেদনের ক্ষেত্রে ‘শো-মানি’ বা ‘ফাইন্যান্সিয়াল ক্যাপাসিটি’ প্রমাণ করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। ২০২৪ সালের মে মাস থেকে কার্যকর এবং ২০২৬ সালেও প্রযোজ্য নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ব্যাংক ব্যালেন্সের একটি পরিষ্কার হিসাব নিচে দেওয়া হলো:
| খরচের খাত (প্রথম ১২ মাস) | ন্যূনতম অর্থের পরিমাণ (AUD) | মন্তব্য |
|---|---|---|
| শিক্ষার্থীর জীবনযাত্রা (Living Cost) | ২৯,৭১০ ডলার | বাধ্যতামূলক |
| অভিভাবকের জীবনযাত্রা (Guardian) | ২৯,৭১০ ডলার | বাধ্যতামূলক (যদি সাথে যান) |
| যাতায়াত খরচ (Travel Cost) | প্রায় ২,০০০ ডলার (জনপ্রতি) | অফশোর আবেদনের জন্য |
| টিউশন ফি (Tuition Fee) | স্কুলের CoE অনুযায়ী | প্রকৃত ফি দেখাতে হবে |
| অতিরিক্ত সন্তান (Living Cost) | ৪,৪৪৯ ডলার (জনপ্রতি) | যদি অন্য সন্তান সাথে থাকে |
| অতিরিক্ত সন্তানের স্কুল খরচ | ১৩,৫০২ ডলার (জনপ্রতি) | ৬ বছরের বেশি বয়সী হলে |
- বাস্তব খরচের একটি উদাহরণ: ধরা যাক, আপনার সন্তান ক্লাস এইটে (Year 8) পড়তে যাবে এবং সাথে মা অভিভাবক হিসেবে যাবেন। তবে ব্যাংকে টিউশন ফি বাদে শুধু লিভিং ও ট্রাভেল কস্ট বাবদ দেখাতে হবে: শিক্ষার্থীর ২৯,৭১০ ডলার + অভিভাবকের ২৯,৭১০ ডলার + দুজনের বিমান ভাড়া ৪,০০০ ডলার = মোট ৬৩,৪২০ অস্ট্রেলিয়ান ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় অর্ধ কোটি টাকা)। এর সাথে স্কুলের প্রথম বছরের পুরো টিউশন ফি এবং OSHC/OVHC ইন্স্যুরেন্সের খরচ যোগ করে চূড়ান্ত ফান্ড প্রস্তুত করতে হবে।
- কারা স্পন্সর হতে পারবেন: সাধারণত শিক্ষার্থীর বাবা-মা, ভাই-বোন, দাদা-দাদি, নানা-নানি এবং মা-বাবার ভাই-বোন (চাচা, মামা, খালা, ফুফু) স্পন্সর হতে পারেন। তবে তৃতীয় পক্ষ স্পন্সর করলে তাদের সাথে সম্পর্কের প্রমাণ, আয়ের বৈধ উৎস এবং ওই টাকার ওপর আপনার ব্যবহারের আইনি অধিকার (Genuine Access) অকাট্য প্রমাণের মাধ্যমে দেখাতে হবে। ফান্ড হিসেবে সেভিংস ডিপোজিট বা অনুমোদিত এডুকেশন লোন গ্রহণযোগ্য।
বিকল্প আয়ের প্রমাণ: যদি ব্যাংকে একসাথে বড় অংকের টাকা না দেখিয়ে স্পন্সরের (বাবা-মা) বার্ষিক আয় দেখাতে চান, তবে স্পন্সরের বার্ষিক আয় সিঙ্গেল হলে অন্তত ৮৭,৮৫৬ AUD এবং পরিবারসহ হলে ১,০২,৫০০ AUD হতে হবে। সতর্কতা: স্পন্সর যিনিই হোন না কেন, হঠাৎ করে ব্যাংকে বড় অঙ্কের টাকা জমা দেখালে ভিসার ক্ষেত্রে সন্দেহ তৈরি হয়। অর্থের আসল উৎস (Source of Funds) এবং সেই টাকা ব্যবহারের সত্যিকারের অধিকার (Genuine Access) প্রমাণ করাটা এখানে সবচেয়ে জরুরি।
কাজের অধিকার এবং অভিভাবকের কড়া বিধিনিষেধ
- শিক্ষার্থীর কাজের সুযোগ: স্টুডেন্ট ভিসায় সাধারণত প্রতি ১৫ দিন বা প্রতি পক্ষে (Fortnight) ৪৮ ঘণ্টা কাজের সুযোগ থাকে। তবে স্কুল-বয়সী নাবালকদের ক্ষেত্রে পড়াশোনাতেই মূল ফোকাস থাকতে হয়।
- অভিভাবকের কাজ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ (Condition 8101): সাবক্লাস ৫৯০ ভিসায় যাওয়া অভিভাবক অস্ট্রেলিয়ায় কোনোভাবেই পেইড কাজ (Paid work) করতে পারবেন না। এটি সম্পূর্ণ বেআইনি। তবে তারা চাইলে সপ্তাহে ২০ ঘণ্টার কম ইংরেজি কোর্স (ELICOS) বা ৩ মাস পর্যন্ত অন্য কোনো ট্রেনিং করতে পারেন।
- দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা (Condition 8537/8538): অভিভাবক কোনোভাবেই শিক্ষার্থীকে একা রেখে অস্ট্রেলিয়ার বাইরে যেতে পারবেন না। যদি জরুরি প্রয়োজনে যেতেই হয়, তবে স্কুলের অনুমোদিত বিকল্প ওয়েলফেয়ারের ব্যবস্থা করে তবেই যেতে হবে।
- স্কুল পরিবর্তনের কড়া নিয়ম (Condition 8202): অস্ট্রেলিয়ায় পৌঁছানোর পর যদি কোনো কারণে ওই নির্দিষ্ট স্কুল ভালো না লাগে, তবে প্রথম ৬ মাসের মধ্যে আপনি চাইলেই স্কুল পরিবর্তন করতে পারবেন না। ৬ মাসের আগে স্কুল বদলাতে হলে আগের স্কুল থেকে অফিশিয়াল ‘রিলিজ লেটার’ (Release Letter) বা ছাড়পত্র নিতে হয়। এই শর্ত ভাঙলে শিক্ষার্থীর স্টুডেন্ট ভিসা সরাসরি বাতিল হয়ে যেতে পারে।
অস্ট্রেলিয়া স্কুলিং ও অভিভাবক ভিসার মূল যোগ্যতা
- শিক্ষার্থীর যোগ্যতা:
- বয়স ন্যূনতম ৬ বছর হতে হবে এবং কাঙ্ক্ষিত শ্রেণির নির্ধারিত বয়সসীমার ভেতরে থাকতে হবে (যেমন: Year 9-এ ১৭ বছরের কম)।
- অস্ট্রেলিয়ার CRICOS অনুমোদিত স্কুল থেকে অফার লেটার এবং নিশ্চিত ভর্তির প্রমাণপত্র (CoE) থাকতে হবে।
- প্রকৃত পড়াশোনার উদ্দেশ্য ও দেশে ফেরার পরিকল্পনা প্রমাণে ‘জেনুইন স্টুডেন্ট’ (GS) শর্ত পূরণ করতে হবে।
- স্কুলের চাহিদা অনুযায়ী প্রাথমিক ইংরেজি বোঝার দক্ষতা থাকতে হবে।
- অভিভাবকের (Guardian) যোগ্যতা:
- বয়স ন্যূনতম ২১ বছর হতে হবে (বাবা, মা বা রক্তের নিকটাত্মীয়)।
- শিক্ষার্থীর সাথে অস্ট্রেলিয়ায় থেকে তার সার্বিক দায়িত্ব ও বাসস্থান নিশ্চিত করার সক্ষমতা থাকতে হবে।
- অস্ট্রেলিয়ায় কোনো পেইড কাজ না করে চলার মতো পর্যাপ্ত ব্যাংক ব্যালেন্সের প্রমাণ দিতে হবে।
- দেশে স্থায়ী সম্পদ ও পারিবারিক বন্ধন প্রমাণ করে ‘GTE’ শর্ত পূরণ করতে হবে।
প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের সম্পূর্ণ চেকলিস্ট
ভিসা আবেদনের জন্য শিক্ষার্থী এবং অভিভাবক—উভয়ের ফাইল আলাদাভাবে প্রস্তুত করতে হয়। নিচের চেকলিস্ট অনুযায়ী কাগজগুলো রেডি করে নিতে হবে:
১. শিক্ষার্থীর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
- পাসপোর্ট: অন্তত ১ বছর মেয়াদযুক্ত মূল পাসপোর্ট।
- জন্মসনদ: ইংরেজিতে অনুবাদ ও নোটারি করা সরকারি জন্মনিবন্ধন সনদ।
- ভর্তির প্রমাণ (CoE): স্কুলের ইস্যু করা অফিশিয়াল Confirmation of Enrolment।
- একাডেমিক রেকর্ড: আগের স্কুলের গত ২-৩ বছরের মার্কশিট, রিপোর্ট কার্ড ও প্রশংসাপত্র।
- হেলথ কভার: পুরো মেয়াদের জন্য কেনা অনুমোদিত ‘OSHC’ হেলথ ইন্স্যুরেন্স।
- জিএস স্টেটমেন্ট (GS Statement): অস্ট্রেলিয়ায় পড়ার কারণ ও দেশে ফেরার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্বলিত স্টেটমেন্ট।
- প্যারেন্টাল কনসেন্ট (Form 1229): বাবা বা মায়ের একজন সাথে গেলে, অন্যজনের লিখিত আইনি সম্মতিপত্র।
২. অভিভাবকের (Guardian) প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
- পাসপোর্ট ও ছবি: অভিভাবকের মূল পাসপোর্ট এবং সদ্য তোলা সাদা ব্যাকগ্রাউন্ডের ছবি।
- সম্পর্কের প্রমাণ: শিক্ষার্থী যে আপনার সন্তান (বা নিকটাত্মীয়), তার আইনি প্রমাণপত্র (জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্মসনদ বা পারিবারিক প্রত্যয়ন)।
- গার্ডিয়ান ফর্ম (Form 157N): অভিভাবকত্বের দায়িত্ব গ্রহণের অফিশিয়াল ডিক্লারেশন ফর্ম।
- হেলথ কভার: অভিভাবকের জন্য কেনা অনুমোদিত ‘OVHC’ হেলথ ইন্স্যুরেন্স।
- পুলিশ ক্লিয়ারেন্স: অভিভাবকের নামে কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড নেই—তার প্রমাণ হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশের ক্লিয়ারেন্স সনদ।
- জিটিই স্টেটমেন্ট (GTE Statement): দায়িত্ব পালন শেষে দেশে ফিরে আসার সুস্পষ্ট কারণ ব্যাখ্যা করে লিখিত বক্তব্য।
৩. আর্থিক ও অন্যান্য প্রমাণপত্র (উভয়ের জন্য)
- ব্যাংক স্টেটমেন্ট ও সলভেন্সি: স্পন্সরের ব্যাংক ব্যালেন্স, আয়ের উৎস (ট্যাক্স রিটার্ন, ব্যবসার ট্রেড লাইসেন্স বা বেতনের প্রমাণ)।
- মেডিকেল ও বায়োমেট্রিক: ইমিগ্রেশন থেকে ইস্যু করা HAP ID দিয়ে অনুমোদিত প্যানেল ডাক্তার থেকে মেডিকেল টেস্ট এবং VFS সেন্টারে বায়োমেট্রিক স্লিপ।
- ডকুমেন্ট অনুবাদ ও ভেরিফিকেশন (NAATI): যেকোনো বাংলা ডকুমেন্ট ইংরেজিতে অনুবাদ করতে হবে। অস্ট্রেলিয়া সরকার ‘NAATI’ (National Accreditation Authority for Translators and Interpreters) অনুমোদিত অনুবাদকদের কাগজ বেশি পছন্দ করে। সাধারণ উকিল দিয়ে নোটারি করালে অনেক সময় এম্বাসি সন্দেহ করে। তাই অনুবাদ করা কাগজের নিচে অনুবাদকের সিল, স্বাক্ষর, ফোন নম্বর এবং “This is a true translation of the original document” কথাটি অবশ্যই ইংরেজিতে স্পষ্টভাবে লেখা থাকতে হবে।
বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে কিছু স্পেশাল টিপস
- বাচ্চাদের জুম ইন্টারভিউ (Zoom Interview): অনেকেই ভাবেন ছোট বাচ্চাদের ইন্টারভিউ হয় না। কিন্তু বাস্তব অভিজ্ঞতা হলো, অফার লেটার দেওয়ার আগে অস্ট্রেলিয়ার স্কুলগুলো এখন সরাসরি বাচ্চার সাথে ১০-১৫ মিনিটের জুম (Zoom) ভিডিও ইন্টারভিউ নেয়। এখানে বাচ্চার বেসিক ইংরেজি বোঝার ক্ষমতা এবং জড়তা যাচাই করা হয়। তাই আগে থেকেই বাচ্চাকে মানসিকভাবে প্রস্তুত রাখুন।
- ব্যাংক ভেরিফিকেশন ও ফাঁদ: ভিসা লজ করার পর এম্বাসি থেকে প্রায়ই বাংলাদেশের ব্যাংকে সরাসরি ফোন করে বা ইমেইল দিয়ে ফান্ডের সত্যতা যাচাই করা হয়। ভিসা হাতে না পাওয়া পর্যন্ত এফডিআর (FDR) বা ব্যাংক একাউন্টের বড় ফান্ড কোনোভাবেই ভাঙবেন না বা সরাবেন না।
- GS স্টেটমেন্টে এআই (AI) ব্যবহারের ঝুঁকি: জেনুইন স্টুডেন্ট (GS) স্টেটমেন্ট কখনোই চ্যাটজিপিটি (ChatGPT) বা কোনো এআই দিয়ে হুবহু লিখবেন না। ভিসা অফিসাররা এটা খুব সহজে ধরে ফেলেন। বাংলাদেশের নামিদামি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের বদলে ঠিক কেন আপনি এত টাকা খরচ করে অস্ট্রেলিয়ায় পড়াতে চাইছেন, তার আবেগপূর্ণ ও যৌক্তিক কারণ নিজের ভাষায় তুলে ধরলে ভিসা পাওয়ার হার ৯৯% বেড়ে যায়।
অস্ট্রেলিয়ায় স্কুলিং ভিসা নিয়ে সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)
আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা কি অস্ট্রেলিয়ার সরকারি (Public) স্কুলে পড়তে পারে?
হ্যাঁ, পারে। প্রতিটি স্টেটের সরকারি শিক্ষা বিভাগ (যেমন- ডিপার্টমেন্ট ফর এডুকেশন) আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ভর্তি নেয়। সরকারি স্কুলের টিউশন ফি সাধারণত বছরে ১৪,০০০ থেকে ১৮,০০০ অস্ট্রেলিয়ান ডলার হয়ে থাকে, যা বেসরকারি বা প্রাইভেট স্কুলের (বার্ষিক ২৫,০০০ থেকে ৪০,০০০+ ডলার) তুলনায় অনেক কম।
বাবা এবং মা কি দুজনেই একসাথে অভিভাবক ভিসায় যেতে পারবেন?
না। অস্ট্রেলিয়ার অভিবাসন আইন অনুযায়ী একজন শিক্ষার্থীর জন্য মাত্র একজনকেই সাবক্লাস ৫৯০ (Student Guardian) ভিসা দেওয়া হয়। অন্য অভিভাবক সন্তানের সাথে দেখা করতে চাইলে তাকে আলাদাভাবে ভিজিটর ভিসা (Subclass 600) নিয়ে স্বল্প সময়ের জন্য যেতে হবে।
অস্ট্রেলিয়ার স্কুলগুলোতে নতুন শিক্ষাবর্ষ বা ইনটেক কখন শুরু হয়?
অস্ট্রেলিয়ার স্কুলের শিক্ষাবর্ষ জানুয়ারি মাসের শেষে বা ফেব্রুয়ারির শুরুতে (Term 1) শুরু হয়ে ডিসেম্বরে শেষ হয়। পুরো বছরে মোট চারটি টার্ম থাকে। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য টার্ম ১ (জানুয়ারি/ফেব্রুয়ারি) এবং টার্ম ৩ (জুলাই) হলো ভর্তির সবচেয়ে সেরা সময়।
বাংলাদেশ থেকে স্কুলিং ভিসা হতে সাধারণত কতদিন সময় লাগে?
অফিশিয়ালি ফাইল জমা দেওয়ার পর সাধারণত ১ থেকে ৩ মাস (৪ থেকে ১২ সপ্তাহ) সময় লাগতে পারে। তবে জানুয়ারি বা জুলাই ইনটেকের আগে ফাইল বেশি থাকায় সময় কিছুটা বেশি লাগতে পারে। তাই ক্লাস শুরুর অন্তত ৩ থেকে ৪ মাস আগেই আবেদন জমা দেওয়া নিরাপদ।
সন্তানের বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হয়ে গেলে অভিভাবকের ভিসার কী হবে?
সন্তানের বয়স ১৮ বছর হওয়া মাত্রই অভিভাবকের সাবক্লাস ৫৯০ ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। এরপর অভিভাবককে অস্ট্রেলিয়া ছাড়তে হয় অথবা নতুন কোনো বৈধ ভিসায় আবেদন করতে হয়। তবে সন্তান তার নিজস্ব স্টুডেন্ট ভিসায় পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারে।
স্কুলিং ভিসা থেকে কি ভবিষ্যতে সরাসরি পিআর (PR) বা স্থায়ী নাগরিকত্ব পাওয়া যায়?
না, স্কুলিং বা গার্ডিয়ান ভিসা থেকে সরাসরি পিআর পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তবে সন্তান হাইস্কুল শেষ করে সেখানে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ডিগ্রি নিয়ে গ্র্যাজুয়েট ওয়ার্ক ভিসা এবং পরবর্তীতে পয়েন্ট-ভিত্তিক স্কিলড মাইগ্রেশনের মাধ্যমে নিজস্ব যোগ্যতায় পিআরের আবেদন করতে পারে।
অফিশিয়াল ওয়েবসাইট ও লিংক
যেকোনো তথ্য যাচাই বা আবেদনের জন্য সরাসরি অস্ট্রেলিয়া সরকারের এই অফিশিয়াল ওয়েবসাইটগুলোতে প্রবেশ করুন:
- ডিপার্টমেন্ট অফ হোম অ্যাফেয়ার্স (ভিসা): immi.homeaffairs.gov.au
- CRICOS (স্কুল ও কোর্স খোঁজার সাইট): cricos.education.gov.au
- ভিসা ফি ক্যালকুলেটর: Current Visa Pricing
আরো জানুনঃ
সতর্কবার্তা:
আমাদের ওয়েবসাইটের তথ্যসমূহ কেবল দেশী ও প্রবাসীদের তথ্যগত সহায়তা ও সচেতনতার জন্য প্রকাশিত। আমরা কোনো ভিসা এজেন্সি নই এবং সরাসরি ভিসা প্রদান করি না। ভিসা আবেদনের পূর্বে সবসময় সংশ্লিষ্ট দেশের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট বা এম্বাসির নির্দেশনা অনুসরণ করুন। যেকোনো আর্থিক লেনদেন নিজ দায়িত্বে করুন।

আমি মুরশিদ আলম- পেশায় শিক্ষক ও ইমিগ্রেশন বিষয়ক গবেষক। বিদেশগামী বাংলাদেশী নাগরিকেরা যেন সঠিক, তথ্যভিত্তিক ও প্রতারণামুক্ত তথ্য পেতে পারেন, সে লক্ষ্যেই visapabo.com-এ নিয়মিত গবেষণাভিত্তিক আর্টিকেল লিখি। আর্টিকেলের তথ্যাবলী বিভিন্ন দেশের অফিশিয়াল ইমিগ্রেশন পোর্টাল থেকে যাচাই করে প্রকাশ করি। তথ্যের কোনো গরমিল থাকলে সংশ্লিষ্ট দেশের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে আপডেট জেনে নিন অথবা মতামত থাকলে নিচের কমেন্ট বক্সে জানানোর অনুরোধ রইল।
✉ ইমেইলঃ visapabo@gmail.com | 🌐 ওয়েবসাইটঃ visapabo.com


