ইতালি ভিসা চেক করার নিয়ম ২০২৬। আপডেট তথ্য
ইতালি যাওয়ার স্বপ্ন কার না থাকে। ইউরোপের এই সুন্দর দেশটিতে পাড়ি জমানোর জন্য আপনি নিশ্চয়ই অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন।
ভিসা আবেদন করার পর সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তার বিষয় হলো এর আপডেট জানা। আপনি কি জানেন, ঘরে বসেই এখন আপনার হাতের স্মার্টফোন দিয়ে জেনে নিতে পারেন আপনার ভিসার বর্তমান অবস্থা?
ইতালি ভিসা চেক করার বিষয়টি এখন অনেক সহজ হয়ে গেছে। আপনাকে আর দালালের পেছনে ঘুরতে হবে না বা বারবার দূতাবাসে যাওয়ার ঝামেলা পোহাতে হবে না।
ইতালি ভিসা চেক করার উপকারিতা কি?
ইতালি ভিসা চেক করার সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো মানসিক প্রশান্তি। যখন আপনি নিজের চোখের সামনে আপনার আবেদনের অগ্রগতি দেখতে পান, তখন টেনশন অনেক কমে যায়।
এটি আপনাকে পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য প্রস্তুত হতে সাহায্য করে। ধরুন, আপনার ভিসার কাজ শেষ পর্যায়ে, তখন আপনি আগেভাগেই বিমানের টিকিট বা প্যাকিংয়ের কাজ গুছিয়ে নিতে পারেন।
এছাড়া কোনো ভুল বা তথ্য ঘাটতি থাকলে তা দ্রুত ধরা পড়ে। আপনি সময়মতো ব্যবস্থা নিতে পারেন যাতে আবেদনের কোনো ক্ষতি না হয়।
সবচেয়ে বড় কথা, আপনি প্রতারণার হাত থেকে রক্ষা পান। অনেক সময় অসাধু ব্যক্তিরা ভুয়া ভিসার কথা বলে টাকা হাতিয়ে নেয়, যা নিজে চেক করলে সহজেই ধরা সম্ভব।
ইতালি ভিসা চেক করতে কি কি ডকুমেন্ট লাগে?
আপনার মনে হতে পারে ভিসা চেক করা বুঝি অনেক ঝামেলার কাজ। আসলে কিন্তু তা নয়, মাত্র দুটি তথ্য থাকলেই আপনি কাজ শুরু করতে পারেন।
প্রথমেই আপনার পাসপোর্ট নম্বরটি হাতের কাছে রাখুন। এটি আপনার সবচেয়ে বড় পরিচয়পত্র এবং সিস্টেম আপনাকে এই নম্বরের মাধ্যমেই খুঁজে নেবে।
দ্বিতীয়ত, আপনার কাছে একটি রেফারেন্স নম্বর বা ডিও নম্বর (DO Number) থাকতে হবে। যখন আপনি ভিএফএস গ্লোবালে পাসপোর্ট জমা দিয়েছিলেন, তারা আপনাকে একটি রিসিট দিয়েছিল।
সেই রিসিটের ওপর একটি ইউনিক রেফারেন্স নম্বর লেখা থাকে। এই দুটি তথ্য থাকলেই আপনি পৃথিবীর যেকোনো প্রান্ত থেকে আপনার ইতালি ভিসার স্ট্যাটাস দেখে নিতে পারবেন।
ইতালি ভিসা চেক করার নিয়ম ২০২৬
ইতালি ভিসা চেক করতে প্রথমে vfsglobal.com ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন।

এবার বাংলাদেশ এবং ইতালি সিলেক্ট করে নিন। নীচে থাকা “Take Me To The Website” বাটনে ক্লিক করুন।

এরপর “Track your application” অপশনটি খুঁজে ক্লিক করুন।

এবার ” track your application status online” এ ক্লিক করলে নীচের পেজটি দেখতে পাবেন।

যেখানে আপনার কাছে রেফারেন্স নম্বর ও Last Name চাওয়া হবে। আপনার রিসিট দেখে সাবধানে সেই নম্বরটি ও আপনার নামের শেষ অংশ লিখুন।
সর্বশেষ ক্যাপচা পূরণ করে “SUBMIT” বাটনে ক্লিক করলেই স্ক্রিনে আপনার ভিসার বর্তমান অবস্থা ভেসে উঠবে।
যদি দেখেন ‘Under Process‘ লেখা আছে, তবে বুঝবেন কাজ চলছে। আর যদি লেখা থাকে ‘Processed application has been received‘ তবে বুঝবেন আপনার পাসপোর্ট ফেরত আসার জন্য তৈরি।
ইতালি ভিসা প্রক্রিয়াকরণের সময় কত দিন?
ভিসা পেতে কতদিন লাগবে তা নির্ভর করে আপনি কোন ক্যাটাগরিতে আবেদন করেছেন তার ওপর। সাধারণত ইতালির সিজনাল বা কাজের ভিসার জন্য একটু বেশি সময় লাগে।
সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, ১৫ থেকে ৯০ দিনের মধ্যে ভিসার সিদ্ধান্ত চলে আসে। তবে কিছু ক্ষেত্রে এটি আরও দেরি হতে পারে যদি আপনার কাগজপত্রে কোনো জটিলতা থাকে।
টুরিস্ট বা ভিজিট ভিসার ক্ষেত্রে সাধারণত ১৫ থেকে ৩০ দিনের মধ্যেই রেজাল্ট পাওয়া যায়। তাই ধৈর্য ধরা খুব জরুরি, কারণ দূতাবাস প্রতিটি ফাইল খুব নিখুঁতভাবে যাচাই করে।
ইতালির ভিসা অনুমোদন হয়েছে কিনা কিভাবে বুঝবো?
অনলাইনে ইতালি ভিসা চেক করার সময় আপনি সরাসরি ‘Visa Granted’ বা ‘Rejected’ লেখাটি দেখতে পাবেন না। গোপনীয়তার খাতিরে তারা এটি সরাসরি অনলাইনে প্রকাশ করে না।
যখন ইতালি ভিসা চেক স্ট্যাটাসে দেখবেন যে আপনার পাসপোর্টটি দূতাবাসে প্রক্রিয়াকরণ শেষ করে ভিএফএস সেন্টারে পাঠানো হয়েছে, তখনই বুঝবেন রেজাল্ট তৈরি। আপনাকে একটি সিল করা খাম দেওয়া হবে।
সেই খাম খোলার আগ পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয় ভিসা হয়েছে কি না। তবে স্ট্যাটাস যদি ‘Ready for collection’ দেখায়, তবে দ্রুত আপনার পাসপোর্ট সংগ্রহ করে নিন।
পাসপোর্ট হাতে পাওয়ার পর ভেতরে যদি একটি রঙিন স্টিকার বা ভিসা পেপার লাগানো দেখেন, তবেই বুঝবেন আপনার স্বপ্ন সত্যি হয়েছে। আর যদি শুধু একটি সাদা কাগজ পান যেখানে কারণ লেখা আছে, তবে বুঝবেন আবেদনটি সফল হয়নি।
ইতালি ভিসা চেক করে বাতিল হলে কি করবেন?
যদি দুর্ভাগ্যবশত ইতালি ভিসা চেক করে দেখেন আপনার ভিসা রিজেক্ট বা বাতিল হয়েছে, তবে একদম ভেঙে পড়বেন না। এটি জীবনের শেষ কথা নয়, বরং নতুন করে শুরু করার একটি সুযোগ।
রিজেকশন লেটারটি খুব ভালো করে পড়ুন, সেখানে স্পষ্ট লেখা থাকে কেন আপনার আবেদনটি গ্রহণ করা হয়নি। হতে পারে ব্যাংক স্টেটমেন্টে সমস্যা ছিল অথবা আপনার উদ্দেশ্য তারা পরিষ্কার বুঝতে পারেনি।
আপনি চাইলে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারেন। ইতালিয়ান আইন অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আইনিভাবে চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ থাকে।
অথবা আপনি চাইলে ভুলগুলো সংশোধন করে আবার নতুন করে আবেদন করতে পারেন। এবার অভিজ্ঞ কারো পরামর্শ নিন যাতে আগের ভুলগুলোর পুনরাবৃত্তি না হয়।
VFS এর কাজ কি?
অনেকেই মনে করেন ভিএফএস গ্লোবাল হয়তো ভিসা দিয়ে থাকে। আসলে কিন্তু বিষয়টি তেমন নয়, তারা কেবল একটি মাধ্যম বা সেতু হিসেবে কাজ করে।
ভিএফএস আপনার কাছ থেকে পাসপোর্ট এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করে দূতাবাসে পৌঁছে দেয়। আবার দূতাবাস থেকে সিদ্ধান্ত আসার পর পাসপোর্টটি আপনাকে বুঝিয়ে দেয়।
তারা আপনার বায়োমেট্রিক বা আঙুলের ছাপ এবং ছবি সংগ্রহের কাজও করে থাকে। সহজ কথায়, আপনার এবং দূতাবাসের মাঝখানে তারা একটি সহায়ক প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করে।
ভিএফএস পাসপোর্ট ফেরত দিতে কত দিন লাগে?
দূতাবাস যখন আপনার পাসপোর্টের ওপর সিদ্ধান্ত নিয়ে নেয়, তখন তারা সেটি ভিএফএস সেন্টারে পাঠিয়ে দেয়। এই হস্তান্তরের জন্য সাধারণত ১ থেকে ২ কার্যদিবস সময় লাগে।
আপনার পাসপোর্ট ভিএফএস সেন্টারে পৌঁছানোর সাথে সাথে আপনার মোবাইলে একটি এসএমএস বা ইমেইল চলে আসবে। এরপর আপনি সশরীরে গিয়ে সেটি সংগ্রহ করতে পারবেন।
যদি আপনি কুরিয়ার সার্ভিস অপশনটি নিয়ে থাকেন, তবে আপনার ঠিকানায় পৌঁছাতে আরও ২ থেকে ৩ দিন সময় লাগতে পারে। সব মিলিয়ে দূতাবাস থেকে পাসপোর্ট ছাড়ার পর সর্বোচ্চ এক সপ্তাহের মধ্যেই আপনি তা হাতে পেয়ে যাবেন।
মনে রাখবেন, পাসপোর্ট সংগ্রহের সময় অবশ্যই আপনার অরিজিনাল রিসিট এবং জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি সাথে নিয়ে যাবেন। অন্য কেউ আপনার হয়ে পাসপোর্ট তুলতে গেলে যথাযথ অথোরাইজেশন লেটার প্রয়োজন হবে।
আরো জানুনঃ
