সোশ্যাল মিডিয়া বা লোকমুখে ইদানীং একটি খবর খুব বেশি শোনা যাচ্ছে যে, আমেরিকা ডিভি লটারি (US DV Lottery) নাকি আবারও শুরু হতে যাচ্ছে। অনেকেই নতুন করে আমেরিকায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখছেন এবং “ডিভি লটারি বাংলাদেশ থেকে আবেদন” লিখে গুগলে ও ইউটিউবে প্রচুর সার্চ করছেন।
আমেরিকায় স্থায়ীভাবে বসবাস করার জন্য এই ডাইভারসিটি ভিসা বা ডিভি লটারি সারাবিশ্বের মানুষের কাছেই একটি সোনার হরিণ। কিন্তু আসল সত্যটা কী? আসলেই কি বাংলাদেশ থেকে আমেরিকায় যাওয়ার এই সহজ দরজাটি খুলছে? নাকি এর পেছনে লুকিয়ে আছে দালালদের কোনো নতুন প্রতারণার ফাঁদ?
আজকের এই পোস্টে আমরা আমেরিকার স্টেট ডিপার্টমেন্টের (US Department of State) লেটেস্ট তথ্যের ওপর ভিত্তি করে ডিভি লটারি ২০২৬-এর আসল সত্য, বাংলাদেশিদের আবেদনের যোগ্যতা এবং দালালদের প্রতারণা থেকে বাঁচার উপায়গুলো একদম সহজ ভাষায় তুলে ধরব।
আমেরিকা ডিভি লটারি (২০২৬): বাংলাদেশ থেকে কি আবেদন করা যাবে?
এককথায় এর পরিষ্কার উত্তর হলো— না।
২০২৬ সালের শেষের দিকে আমেরিকার যে নতুন ডিভি লটারি (যাকে ইমিগ্রেশনের ভাষায় DV-2028 বলা হচ্ছে) শুরু হতে যাচ্ছে, সেখানে বাংলাদেশিদের আবেদন করার কোনো আইনি সুযোগ নেই। আমেরিকার নিয়ম অনুযায়ী ডিভি লটারির যোগ্যতা নির্ভর করে আপনার ‘জন্মস্থানের’ ওপর, বর্তমান নাগরিকত্বের ওপর নয়। তাই আপনার যদি অন্য কোনো দেশের পাসপোর্টও থাকে, কিন্তু জন্মস্থান ‘বাংলাদেশ’ হয়, তাহলেও আপনি এই লটারিতে অংশ নিতে পারবেন না।
কেন বাংলাদেশিরা ডিভি লটারির অযোগ্য?
আমেরিকার ইমিগ্রেশন আইনে একটি বিশেষ নিয়ম আছে যাকে “রোলিং টেস্ট” (Rolling test) বলা হয়। ঠিক এই আইনি মারপ্যাঁচের কারণেই বাংলাদেশ লটারি থেকে বাদ পড়েছে। এর পেছনের মূল কারণগুলো নিচে সহজভাবে দেওয়া হলো:
- ৫০ হাজার ইমিগ্রান্টের নিয়ম: আমেরিকার আইন অনুযায়ী, গত ৫ বছরে কোনো দেশ থেকে যদি ৫০ হাজারেরও বেশি মানুষ বৈধভাবে আমেরিকায় ইমিগ্রান্ট বা অভিবাসী হয়, তবে সেই দেশকে “উচ্চ-অভিবাসন দেশ” (High-admission country) হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এই দেশগুলোর নাগরিকদের জন্য ডিভি লটারি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যায়।
- যাদেরকে এই কোটায় ধরা হয়: এই ৫০ হাজারের বিশাল হিসাবে কিন্তু স্টুডেন্ট ভিসা (F-1), রিফিউজি (উদ্বাস্তু) বা অ্যাসাইলাম ভিসায় যাওয়া মানুষদের গোনা হয় না। শুধুমাত্র ফ্যামিলি স্পন্সর (পরিবারের মাধ্যমে) এবং এমপ্লয়মেন্ট বা কাজের ভিসায় যারা আমেরিকায় গেছেন, তাদেরই এই কোটায় ধরা হয়।
- বাংলাদেশ কবে থেকে বাদ পড়ল: ইউএস স্টেট ডিপার্টমেন্টের অফিশিয়াল তথ্যমতে, ২০০৭ থেকে ২০১২ সালের মধ্যেই বাংলাদেশ থেকে ফ্যামিলি ও এমপ্লয়মেন্ট ভিসায় ৫০ হাজারেরও বেশি মানুষ আমেরিকায় পাড়ি জমান। ঠিক এই কারণেই ২০১২ সাল (DV-2013 চক্র) থেকে বাংলাদেশিদের জন্য ডিভি লটারি সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়।
- বর্তমানের অবস্থা: যেহেতু প্রতি ৫ বছর পরপর এই হিসাব করা হয় এবং বাংলাদেশ থেকে আমেরিকায় যাওয়ার হার আজও ওই ৫০ হাজারের সীমানার ওপরেই আছে, তাই ২০২৬ সালেও বাংলাদেশিদের জন্য লটারি খোলার কোনো সম্ভাবনা নেই।
দালালদের ডিভি লটারি স্ক্যাম ও প্রতারণা থেকে সাবধান
যেহেতু বাংলাদেশিরা ডিভি লটারির যোগ্যই নয়, তাই যারা আপনাকে “বাংলাদেশ থেকে আবেদন করে দেব” বা “লটারি জিতিয়ে দেব” বলে টাকা দাবি করছে, তারা ১০০% প্রতারক। সাধারণ মানুষের আমেরিকা যাওয়ার স্বপ্নকে পুঁজি করে দালালরা মূলত নিচের এই ফাঁদগুলো পেতে থাকে:
- ভুয়া ওয়েবসাইট ও রেজিস্ট্রেশন ফি: আমেরিকার আসল ওয়েবসাইটে আবেদন করতে এক টাকাও লাগে না, এটি সম্পূর্ণ ফ্রি! কিন্তু প্রতারকরা অবিকল সরকারি সাইটের মতো (যেমন- .gov-এর কাছাকাছি নাম দিয়ে) ওয়েবসাইট বানিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে ‘রেজিস্ট্রেশন ফি’ বা ‘প্রসেসিং ফি’ হাতিয়ে নেয়।
- একাধিক আবেদনের ফাঁদ: দালালরা অনেক সময় প্রলোভন দেখায়, “বেশি টাকা দিলে আমরা কয়েকবার আবেদন করে দেব, এতে লটারি জেতার চান্স বাড়বে।” এটি একটি ডাহা মিথ্যা কথা! আমেরিকার নিয়ম অনুযায়ী, একজন ব্যক্তি বছরে কেবল একবারই আবেদন করতে পারেন। ডুপ্লিকেট বা একাধিক আবেদন করলে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল (Disqualified) হয়ে যায়।
- ভুয়া ইমেইল বা মেসেজ: আপনাকে হয়তো হোয়াটসঅ্যাপে, ফেসবুকে বা ইমেইলে মেসেজ দিয়ে বলা হতে পারে— “অভিনন্দন! আপনি ডিভি লটারি জিতেছেন।” এরপর আপনার কাছে প্রসেসিং ফি বা ব্যাংক ডিটেইলস চাওয়া হবে। মনে রাখবেন, ইউএস স্টেট ডিপার্টমেন্ট কখনোই ইমেইল বা ফোন করে লটারি জেতার খবর দেয় না। রেজাল্ট শুধুমাত্র অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে ‘Entrant Status Check’-এর মাধ্যমে দেখতে হয়।
- গ্যারান্টি দিয়ে জেতানোর মিথ্যা প্রতিশ্রুতি: ডিভি লটারি সম্পূর্ণ একটি দৈবচয়ন বা র্যান্ডম (Random) প্রক্রিয়া। কোনো এজেন্সি বা দালালকে লাখ টাকা দিলেও লটারি জেতার সুযোগ এক বিন্দুও বাড়ে না।
- ব্যক্তিগত তথ্য ও পাসপোর্ট চুরি: আবেদন করার নাম করে অনেক চক্র আপনার পাসপোর্টের কপি, ছবি এবং ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নেয়। পরবর্তীতে এসব দিয়ে বড় ধরনের জালিয়াতি হতে পারে। এমনকি ভুয়া তথ্য বা ডকুমেন্ট দিয়ে আবেদন করলে ভবিষ্যতে আমেরিকার যেকোনো ভিসার ক্ষেত্রে আপনি আজীবনের জন্য নিষিদ্ধ (Lifetime Ban) হতে পারেন।
- অবৈধ পেমেন্ট পদ্ধতি: কোনো অপরিচিত “এজেন্ট” যদি বিকাশ, নগদ, ক্রিপ্টোকারেন্সি বা গিফট কার্ডের মাধ্যমে টাকা চায়, তবে বুঝতে হবে এটি নিশ্চিত স্ক্যাম।
জরুরি সতর্কতা: “ডিভি লটারি জিতিয়ে দেব” এমন প্রলোভন দেখানো দালালদের এড়িয়ে চলুন। নিজে সচেতন হোন এবং সঠিক তথ্যের জন্য সবসময় আমেরিকার সরকারি ওয়েবসাইট (travel.state.gov) ভিজিট করুন।
বাস্তব অভিজ্ঞতা: ডিভি লটারির নামে প্রতারণার ভয়ংকর ফাঁদ
ঢাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত এক ভাইয়ের নাম রফিক, তার কাছে কিছুদিন আগে হঠাৎ একটি হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ আসে। মেসেজে আমেরিকার সরকারি লোগো ব্যবহার করে ইংরেজিতে লেখা ছিল, “অভিনন্দন! আপনি ইউএস ডিভি লটারিতে নির্বাচিত হয়েছেন। আপনার ফাইল দ্রুত প্রসেস করতে ৫০ হাজার টাকা এবং পাসপোর্টের স্ক্যান কপি পাঠান।”
আমেরিকা যাওয়ার আনন্দে এবং উত্তেজনায় তিনি কোনো কিছু যাচাই না করেই একটি অপরিচিত বিকাশ নম্বরে টাকা পাঠিয়ে দেন এবং নিজের পাসপোর্টের ছবি দিয়ে দেন। টাকা পাওয়ার পর থেকেই ওই নম্বরটি বন্ধ! রফিক সাহেবের টাকা তো গেলই, সাথে তার পাসপোর্টের অত্যন্ত সেনসিটিভ ডেটা এখন প্রতারকদের হাতে। এই তথ্য ব্যবহার করে প্রতারকরা এখন অন্য কোনো বড় জালিয়াতি করতে পারে এবং এর ফলে রফিক সাহেব ভবিষ্যতে আসল আমেরিকার ভিসা পাওয়া থেকেও আজীবনের জন্য ব্যান হতে পারেন।
শিক্ষণীয় বিষয়: মনে রাখবেন, আমেরিকার স্টেট ডিপার্টমেন্ট কখনোই কাউকে ইমেইল, হোয়াটসঅ্যাপ বা ফোন করে লটারি জেতার খবর দেয় না! রেজাল্ট শুধুমাত্র তাদের ওয়েবসাইটে গিয়ে নিজের কনফার্মেশন নম্বর দিয়ে চেক করতে হয়।
ডিভি লটারি ছাড়া বৈধভাবে আমেরিকায় যাওয়ার বিকল্প উপায়
লটারি বন্ধ থাকলেও, আপনার যদি সঠিক যোগ্যতা, মেধা বা দক্ষতা থাকে, তবে বৈধ পথে আমেরিকায় যাওয়ার বেশ কয়েকটি চমৎকার উপায় এখনও খোলা রয়েছে। শুধু দালালদের “প্যাকেজ ডিল” বা একবারে চাকরি ও ভিসার প্রলোভন থেকে দূরে থাকতে হবে।
পাঠকদের সুবিধার্থে ডিভি লটারির বিকল্প হিসেবে আমেরিকার সেরা ভিসা ক্যাটাগরিগুলোর একটি তালিকা নিচে ছক আকারে দেওয়া হলো:
| ভিসার ধরন (Visa Type) | কাদের জন্য উপযুক্ত? | গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও শর্ত |
|---|---|---|
| F-1 স্টুডেন্ট ভিসা | বাংলাদেশি শিক্ষার্থী যারা আমেরিকায় উচ্চশিক্ষা নিতে চান। | আমেরিকার অনুমোদিত (SEVP-certified) বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অফার লেটার এবং পড়াশোনার খরচ চালানোর আর্থিক সামর্থ্য দেখাতে হবে। এটি সরাসরি গ্রিন কার্ড পাওয়ার পথ নয়। |
| H-1B স্কিলড ওয়ার্ক ভিসা | বিশেষ দক্ষতাসম্পন্ন পেশাজীবী (যাদের আমেরিকান কোম্পানি স্পন্সর করবে)। | এই ভিসার একটি বার্ষিক কোটা (Cap) থাকে— সাধারণ ৬৫,০০০ এবং অ্যাডভান্সড ডিগ্রিধারীদের জন্য অতিরিক্ত ২০,০০০। নিয়োগকর্তাকেই আপনার হয়ে পিটিশন করতে হবে। দালালদের “ভিসা গ্যারান্টি” কথায় ভুলবেন না। |
| পরিবার ভিত্তিক স্পন্সর (Family-Sponsored) | যাদের বাবা-মা, ভাই-বোন বা স্বামী-স্ত্রী আমেরিকার নাগরিক বা গ্রিন কার্ড হোল্ডার। | এখানে অপেক্ষার সময় অনেক দীর্ঘ। ২০২৬ সালের আগস্টের ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, ভাই-বোন ক্যাটাগরিতে (F4) প্রায় ১৭ বছরের বেশি অপেক্ষা করতে হতে পারে। |
| চাকরি ও বিনিয়োগ (EB Visa) | অসাধারণ প্রতিভাবান (EB-1), স্পন্সরড কর্মী (EB-2/3) বা বিনিয়োগকারী (EB-5)। | অসাধারণ যোগ্যতার সলিড প্রমাণ বা বিশাল অঙ্কের বিনিয়োগ প্রয়োজন। সঠিক আইনি বা ইমিগ্রেশন অ্যাটর্নির পরামর্শ ছাড়া এগুলোতে এগোনো ঠিক নয়। |
আমেরিকা ডিভি লটারি নিয়ে বহুল জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
আমার জন্ম বাংলাদেশে, কিন্তু আমি বর্তমানে অন্য দেশের (যেমন- কানাডা বা ইউকে) নাগরিক। আমি কি ডিভি লটারি দিতে পারব?
না, পারবেন না। আমেরিকার ইমিগ্রেশন নিয়ম অনুযায়ী, ডিভি লটারির যোগ্যতা আপনার ‘বর্তমান নাগরিকত্ব’ বা পাসপোর্টের ওপর নির্ভর করে না, এটি সম্পূর্ণ নির্ভর করে আপনার ‘জন্মস্থানের’ (Country of Birth) ওপর। যেহেতু আপনার জন্ম বাংলাদেশে, তাই অন্য দেশের পাসপোর্ট থাকলেও আপনি এই লটারির জন্য অযোগ্য।
আমি বাংলাদেশি, কিন্তু আমার স্বামী/স্ত্রী এমন একটি দেশের নাগরিক যারা ডিভি লটারির যোগ্য। আমি কি আবেদন করতে পারব?
হ্যাঁ, এটি একটি বিশেষ নিয়মের অধীনে সম্ভব, যাকে ইমিগ্রেশনের ভাষায় ‘Cross-chargeability’ বলা হয়। আপনার স্বামী বা স্ত্রীর জন্মস্থান যদি ডিভি লটারির যোগ্য দেশের তালিকায় থাকে, তবে আপনি আপনার স্পাউসের (স্বামী/স্ত্রী) দেশের কোটা ব্যবহার করে আবেদন করতে পারবেন। তবে শর্ত হলো, লটারি জিতলে ভিসা পাওয়ার পর আপনাদের দুজনকেই একসাথে আমেরিকায় প্রবেশ করতে হবে।
ডিভি লটারিতে আবেদনের জন্য ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা কী লাগে?
সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী ডিভি লটারিতে আবেদনের জন্য নির্দিষ্ট কোনো বয়সসীমা নেই, তবে আবেদনকারীকে অবশ্যই কমপক্ষে উচ্চ মাধ্যমিক (HSC) বা সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হয়। শিক্ষা না থাকলে নির্দিষ্ট কিছু পেশায় (যেগুলোতে অন্তত ২ বছরের প্রশিক্ষণ লাগে) গত ৫ বছরের মধ্যে ২ বছরের কাজের অভিজ্ঞতা থাকতে হয়।
ডিভি লটারিতে আবেদনের জন্য কি পাসপোর্ট বাধ্যতামূলক?
আগে লটারিতে আবেদনের জন্য পাসপোর্টের মেয়াদ থাকা বাধ্যতামূলক ছিল। তবে ইউএস স্টেট ডিপার্টমেন্টের সাম্প্রতিক নিয়ম অনুযায়ী, প্রাথমিক এন্ট্রির (আবেদন) সময় এখন আর পাসপোর্ট নম্বরের প্রয়োজন হয় না। তবে লটারি জিতলে ভিসা ইন্টারভিউয়ের সময় অবশ্যই বৈধ পাসপোর্ট দেখাতে হবে।
২০২৭ বা ২০২৮ সালে বাংলাদেশিদের জন্য ডিভি লটারি খোলার সম্ভাবনা কতটুকু?
বর্তমানে এর কোনোই সম্ভাবনা নেই। যতক্ষণ পর্যন্ত ফ্যামিলি ও ওয়ার্ক ভিসায় আমেরিকায় যাওয়া বাংলাদেশিদের সংখ্যা গত ৫ বছরে ৫০ হাজারের নিচে না নামবে, ততক্ষণ বাংলাদেশ এই তালিকায় ফিরতে পারবে না।
শেষ কথা
আমেরিকা যাওয়ার স্বপ্ন সবারই থাকে, আর এই স্বপ্নকে পুঁজি করেই দালালরা মাঠে নামে। “বাংলাদেশ থেকে ডিভি লটারি আবেদন চলছে”—এমন কথা শুনলে সাথে সাথে সেখান থেকে দূরে সরে যান। নিজের ব্যক্তিগত তথ্য, পাসপোর্ট বা টাকা অপরিচিত কারও হাতে তুলে দেবেন না।
যোগ্যতা ও ধৈর্য থাকলে স্টুডেন্ট, স্কিলড ওয়ার্ক বা স্পন্সর ভিসার মাধ্যমে বৈধ পথেই আমেরিকায় যাওয়ার চেষ্টা করুন। আমেরিকার লটারির পেছনে না ছুটে, আপনি চাইলে বৈধভাবে মধ্যপ্রাচ্যে ক্যারিয়ার গড়তে পারেন। বিস্তারিত জানতে আমাদের কাতার হোটেল ও সুপার মার্কেট ভিসা গাইডলাইন পড়ে দেখতে পারেন।
তথ্যসূত্র ও অফিশিয়াল লিংক
পাঠকদের শতভাগ নির্ভুল তথ্য দেওয়ার জন্য এই আর্টিকেলের ডেটা আমেরিকার স্টেট ডিপার্টমেন্ট ও ইমিগ্রেশন সার্ভিস (USCIS) থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। নিজে যাচাই করতে নিচের অফিশিয়াল লিংকগুলোতে ক্লিক করুন:
- ডিভি লটারির অফিশিয়াল পোর্টাল: ইউএস ডিপার্টমেন্ট অফ স্টেট – ইলেকট্রনিক ডাইভারসিটি ভিসা প্রোগ্রাম
- বাংলাদেশিদের অযোগ্যতার স্টেটমেন্ট: ঢাকায় অবস্থিত ইউএস এম্বাসি – ডিভি লটারি আপডেট
- ভিসা স্ক্যাম সতর্কতা ও নিয়মাবলি: ইউএস ট্রাভেল ডট স্টেট গাইডলাইন
- বিকল্প ওয়ার্ক ভিসা (H-1B) তথ্য: ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (USCIS)
সতর্কবার্তা:
আমাদের ওয়েবসাইটের তথ্যসমূহ কেবল দেশী ও প্রবাসীদের তথ্যগত সহায়তা ও সচেতনতার জন্য প্রকাশিত। আমরা কোনো ভিসা এজেন্সি নই এবং সরাসরি ভিসা প্রদান করি না। ভিসা আবেদনের পূর্বে সবসময় সংশ্লিষ্ট দেশের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট বা এম্বাসির নির্দেশনা অনুসরণ করুন। যেকোনো আর্থিক লেনদেন নিজ দায়িত্বে করুন।

আমি মুরশিদ আলম- পেশায় শিক্ষক ও ইমিগ্রেশন বিষয়ক গবেষক। বিদেশগামী বাংলাদেশী নাগরিকেরা যেন সঠিক, তথ্যভিত্তিক ও প্রতারণামুক্ত তথ্য পেতে পারেন, সে লক্ষ্যেই visapabo.com-এ নিয়মিত গবেষণাভিত্তিক আর্টিকেল লিখি। আর্টিকেলের তথ্যাবলী বিভিন্ন দেশের অফিশিয়াল ইমিগ্রেশন পোর্টাল থেকে যাচাই করে প্রকাশ করি। তথ্যের কোনো গরমিল থাকলে সংশ্লিষ্ট দেশের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে আপডেট জেনে নিন অথবা মতামত থাকলে নিচের কমেন্ট বক্সে জানানোর অনুরোধ রইল।
✉ ইমেইলঃ visapabo@gmail.com | 🌐 ওয়েবসাইটঃ visapabo.com


