সিঙ্গাপুর ক্লিনার ভিসা। বেতন, আবেদন, খরচ সহ বিস্তারিত
সিঙ্গাপুর ক্লিনার ভিসা মূলত একটি কাজের অনুমতিপত্র বা ওয়ার্ক পারমিট যা আপনাকে এই উন্নত দেশটিতে পরিচ্ছন্নতা কর্মী হিসেবে কাজ করার সুযোগ দেয়। আপনি যদি পরিচ্ছন্ন ও সুশৃঙ্খল একটি দেশে নিজের ক্যারিয়ার গড়ার কথা ভাবেন, তবে সিঙ্গাপুর আপনার জন্য সেরা গন্তব্য হতে পারে। এই ভিসার অধীনে আপনি বিভিন্ন শপিং মল, অফিস, হাসপাতাল, পার্ক বা আবাসিক এলাকায় কাজ করার সুযোগ পাবেন।
সিঙ্গাপুর ক্লিনার ভিসা
সিঙ্গাপুর সরকার তাদের দেশের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে অত্যন্ত কঠোর, তাই একজন ক্লিনার হিসেবে আপনার দায়িত্ব সেখানে অনেক সম্মানের। আপনি যদি কঠোর পরিশ্রমী হন এবং নিয়ম মেনে চলতে ভালোবাসেন, তবে এই ভিসা আপনার জীবন বদলে দিতে পারে। এটি মূলত স্বল্প ও মাঝারি মেয়াদী চুক্তিতে দেওয়া হয়, যা পরবর্তীতে আপনার কাজের দক্ষতার ওপর ভিত্তি করে নবায়ন করা সম্ভব।
সিঙ্গাপুর ক্লিনার ভিসা আবেদন করার যোগ্যতা
সিঙ্গাপুরে ক্লিনার হিসেবে কাজ করতে চাইলে আপনাকে কিছু নির্দিষ্ট যোগ্যতার মাপকাঠি পূরণ করতে হবে। প্রথমত, আপনার বয়স অবশ্যই ১৮ থেকে ৪৫ বছরের মধ্যে হতে পারে, তবে কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে এটি ৫০ বছর পর্যন্ত শিথিলযোগ্য। আপনার শারীরিক সক্ষমতা এখানে সবচেয়ে বড় বিষয়, কারণ ক্লিনিংয়ের কাজে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে বা পরিশ্রম করার প্রয়োজন পড়ে।
শিক্ষাগত যোগ্যতার ক্ষেত্রে সিঙ্গাপুর খুব বেশি কড়াকড়ি করে না, তবে আপনি যদি অন্তত অষ্টম শ্রেণি বা এসএসসি পাস হন, তবে সেটি আপনার জন্য বাড়তি সুবিধা নিয়ে আসবে। ইংরেজি বা অন্তত মৌলিক স্তরের কথা বলার ক্ষমতা থাকা জরুরি যাতে আপনি সুপারভাইজারের নির্দেশ বুঝতে পারেন। এছাড়া আপনার কোনো গুরুতর অপরাধমূলক রেকর্ড থাকা চলবে না এবং পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট থাকা বাধ্যতামূলক।
শারীরিক সুস্থতা পরীক্ষার রিপোর্ট আপনার যোগ্যতার একটি বড় অংশ হিসেবে বিবেচিত হবে। যক্ষ্মা, এইচআইভি বা অন্য কোনো সংক্রামক ব্যাধি থাকলে সিঙ্গাপুরে কাজের সুযোগ পাওয়া প্রায় অসম্ভব। তাই আবেদন করার আগেই নিজের স্বাস্থ্যের ব্যাপারে নিশ্চিত হয়ে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
সিঙ্গাপুর ক্লিনার ভিসার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
আবেদনের প্রক্রিয়া শুরু করার আগে আপনার হাতের কাছে সব জরুরি নথিপত্র গুছিয়ে রাখা প্রয়োজন। আপনার অন্তত ৬ মাস মেয়াদী একটি বৈধ পাসপোর্ট থাকতে হবে, যার কয়েকটা পাতা ফাঁকা আছে। সম্প্রতি তোলা পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি লাগবে যেখানে ব্যাকগ্রাউন্ড অবশ্যই সাদা হতে হবে।
আপনার সকল শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদপত্র এবং যদি আগে ক্লিনিংয়ের কাজে কোনো অভিজ্ঞতা থাকে, তবে সেই কাজের অভিজ্ঞতার সার্টিফিকেট সাথে রাখুন। সিঙ্গাপুরে যাওয়ার জন্য মেডিকেল ফিটনেস সার্টিফিকেট একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাগজ যা অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টার থেকে নিতে হবে। এছাড়া আপনার জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্ম নিবন্ধনের অনলাইন কপি প্রয়োজন হবে।
পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট সংগ্রহ করা একটি সময়সাপেক্ষ ব্যাপার, তাই এটি আগেভাগেই তৈরি করে রাখুন। যদি কোনো রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে আবেদন করেন, তবে তাদের দেওয়া নির্দিষ্ট ফরমগুলো সঠিকভাবে পূরণ করে জমা দিতে হবে। মনে রাখবেন, প্রতিটি কাগজের ফটোকপি এবং মূল কপি উভয়ই আপনার প্রয়োজন হতে পারে।
সিঙ্গাপুর ক্লিনার ভিসা আবেদন করার নিয়ম
সিঙ্গাপুর ক্লিনার ভিসা পাওয়ার জন্য আপনাকে একটি সুশৃঙ্খল প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। প্রথমেই আপনাকে সিঙ্গাপুর সরকারের জনশক্তি মন্ত্রণালয় বা MOM (Ministry of Manpower) অনুমোদিত কোনো রিক্রুটিং এজেন্সির সাথে যোগাযোগ করতে হবে। বাংলাদেশে অসংখ্য এজেন্সি আছে, তবে আপনাকে অবশ্যই বিশ্বস্ত এবং লাইসেন্সধারী এজেন্সি খুঁজে বের করতে হবে।
এজেন্সি আপনার ইন্টারভিউ নিতে পারে বা আপনার জীবনবৃত্তান্ত সিঙ্গাপুরের নিয়োগকর্তার কাছে পাঠাতে পারে। নিয়োগকর্তা আপনাকে নির্বাচন করলে তারা আপনার নামে একটি ইন-প্রিন্সিপাল অ্যাপ্রুভাল (IPA) লেটার ইস্যু করবে। এই আইপিএ লেটার পাওয়ার মানে হলো আপনার ভিসার প্রাথমিক ধাপ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
এরপর আপনাকে নির্ধারিত মেডিকেল সেন্টার থেকে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে হবে এবং রিপোর্টে ফিট হতে হবে। স্বাস্থ্য পরীক্ষার রিপোর্ট এবং আইপিএ লেটার নিয়ে এজেন্সি আপনার ভিসার চূড়ান্ত আবেদন করবে। ভিসা স্ট্যাম্পিং হয়ে গেলে আপনি আপনার ফ্লাইটের টিকিট বুক করতে পারবেন এবং সিঙ্গাপুরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করতে পারবেন।
সিঙ্গাপুর ক্লিনার ভিসা পাওয়ার উপায়
সহজভাবে সিঙ্গাপুর ক্লিনার ভিসা পেতে হলে আপনাকে সঠিক তথ্যের ওপর নির্ভর করতে হবে। আপনি যদি পরিচিত কেউ সিঙ্গাপুরে থাকে, তবে তাদের মাধ্যমে সরাসরি কোনো কোম্পানির সাথে যোগাযোগ করতে পারেন। সরাসরি কোম্পানির মাধ্যমে নিয়োগ পেলে আপনার খরচ অনেক কমে যাবে এবং প্রতারিত হওয়ার ভয় থাকবে না।
অনলাইনে বিভিন্ন জব পোর্টাল যেমন JobStreet বা LinkedIn-এ সিঙ্গাপুরের ক্লিনিং কোম্পানিগুলোর সার্কুলার নিয়মিত চেক করুন। অনেক সময় বড় বড় কোম্পানিগুলো সরাসরি ইন্টারভিউয়ের মাধ্যমে কর্মী নিয়োগ দেয়। এছাড়া সরকারি প্রতিষ্ঠান বোয়েসেল (BOESL) এর মাধ্যমেও মাঝে মাঝে সিঙ্গাপুরে কর্মী পাঠানো হয়, যা সবচেয়ে নিরাপদ উপায়।
দক্ষতা বৃদ্ধি করা আপনার ভিসা পাওয়ার সম্ভাবনাকে কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেয়। আপনি যদি কোনো ভোকেশনাল ট্রেনিং সেন্টার থেকে ক্লিনিং বা হাউসকিপিংয়ের ওপর ছোট কোনো কোর্স করে নেন, তবে নিয়োগকর্তারা আপনাকে প্রাধান্য দেবেন। মনে রাখবেন, ধৈর্য এবং সঠিক এজেন্সির নির্বাচনই আপনার সফলতার চাবিকাঠি।
সিঙ্গাপুর ক্লিনার ভিসার খরচ
সিঙ্গাপুর যাওয়ার খরচ মূলত নির্ভর করে আপনি কোন এজেন্সির মাধ্যমে যাচ্ছেন এবং আপনার নিয়োগকর্তা আপনাকে কী কী সুবিধা দিচ্ছেন তার ওপর। নিচে একটি আনুমানিক খরচের তালিকা দেওয়া হলোঃ
| খরচের খাত | আনুমানিক পরিমাণ (টাকায়) |
| পাসপোর্ট এবং আনুষঙ্গিক কাগজ | ৫,০০০ – ৭,০০০ টাকা |
| মেডিকেল পরীক্ষা | ৮,০০০ – ১০,০০০ টাকা |
| এজেন্সি সার্ভিস চার্জ | ৩,০০,০০০ – ৪,৫০,০০০ টাকা |
| বিমান টিকিট | ৪০,০০০ – ৬০,০০০ টাকা |
| বিমা ও অন্যান্য ফি | ১০,০০০ – ১৫,০০০ টাকা |
| মোট সম্ভাব্য খরচ | ৩,৬৩,০০০ – ৫,৪২,০০০ টাকা |
সিঙ্গাপুর ক্লিনার ভিসার কাজ ও বেতন কত
সিঙ্গাপুরে ক্লিনার হিসেবে কাজের ধরন অনুযায়ী বেতনের তারতম্য হতে পারে। তবে সেখানে ওভারটাইম করার প্রচুর সুযোগ থাকে যা আপনার আয় বাড়িয়ে দেবে।
| কাজের ধরন | মাসিক মূল বেতন (SGD) | বাংলাদেশি টাকায় (প্রায়) |
| সাধারণ ক্লিনার (অফিস/মল) | ১,২০০ – ১,৫০০ ডলার | ১,০৫,০০০ – ১,৩০,০০০ টাকা |
| হাসপাতাল ক্লিনার | ১,৩০০ – ১,৬০০ ডলার | ১,১৪,০০০ – ১,৪০,০০০ টাকা |
| ইন্ডাস্ট্রিয়াল ক্লিনার | ১,৪০০ – ১,৮০০ ডলার | ১,২২,০০০ – ১,৫৮,০০০ টাকা |
| রাস্তা বা পাবলিক এরিয়া ক্লিনার | ১,১০০ – ১,৪০০ ডলার | ৯৬,০০০ – ১,২২,০০০ টাকা |
সিঙ্গাপুর ক্লিনার ভিসার মেয়াদ
সাধারণত সিঙ্গাপুর ক্লিনার ভিসা বা ওয়ার্ক পারমিট প্রাথমিকভাবে ২ বছরের জন্য দেওয়া হয়। এই দুই বছর আপনি আপনার নিয়োগকর্তার অধীনে কাজ করার আইনি অধিকার পাবেন। তবে আপনি যদি ভালো কাজ করেন এবং কোম্পানির সাথে আপনার সম্পর্ক ভালো থাকে, তবে এই মেয়াদ বাড়ানো সম্ভব।
আপনার পাসপোর্টের মেয়াদের সাথে ভিসার মেয়াদের একটি নিবিড় সম্পর্ক আছে। পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে ভিসার মেয়াদও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। তাই সবসময় খেয়াল রাখবেন যেন আপনার পাসপোর্টের মেয়াদ অন্তত এক বছর হাতে থাকে।
ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার অন্তত ৩ মাস আগে আপনাকে নবায়নের প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। সিঙ্গাপুর সরকার দক্ষ কর্মীদের দীর্ঘ সময় রাখার ব্যাপারে ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করে। আপনি যদি কোনো আইনি ঝামেলায় না জড়ান, তবে আপনি কয়েকবার ভিসা নবায়ন করতে পারবেন।
সিঙ্গাপুর ক্লিনার ভিসা রিনিউ ও খরচ
সিঙ্গাপুরে ক্লিনার ভিসা রিনিউ বা নবায়ন করা তুলনামূলক সহজ যদি আপনার নিয়োগকর্তা আপনাকে রাখতে চান। সাধারণত ২ বছর পর পর এই ভিসা নবায়ন করতে হয়। নবায়নের সময় আপনাকে পুনরায় মেডিকেল পরীক্ষা করাতে হতে পারে, তবে এটি সব সময় বাধ্যতামূলক নয়।
ভিসা রিনিউ করার জন্য বড় কোনো বাড়তি খরচের প্রয়োজন হয় না যদি কোম্পানি নিজেই সেটি বহন করে। তবে কিছু ক্ষেত্রে লেভি বা প্রসেসিং ফি বাবদ ৫০০ থেকে ১,০০০ সিঙ্গাপুরি ডলার খরচ হতে পারে। অনেক সময় নিয়োগকর্তা এই খরচ কর্মীর বেতন থেকে কিস্তিতে কেটে নেন।
আপনি যদি নিজে থেকে রিনিউ করতে চান বা অন্য কোম্পানিতে যেতে চান, তবে প্রক্রিয়াটি কিছুটা জটিল হতে পারে। তবে বর্তমানের নিয়ম অনুযায়ী, এক কোম্পানি থেকে অন্য কোম্পানিতে ট্রান্সফার হওয়া আগের তুলনায় অনেক সহজ হয়েছে। এটি আপনার ক্যারিয়ারের উন্নতির জন্য একটি বড় সুযোগ।
সিঙ্গাপুর ক্লিনার ভিসা প্রক্রিয়াকরণের সময়
আবেদন জমা দেওয়ার পর থেকে হাতে ভিসা পাওয়া পর্যন্ত সময়টি আপনার ধৈর্যের পরীক্ষা নিতে পারে। সাধারণত সব কাগজপত্র ঠিক থাকলে ৪ থেকে ৮ সপ্তাহের মধ্যে ভিসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। তবে আইপিএ (IPA) লেটার আসতে মাত্র ১ থেকে ২ সপ্তাহ সময় লাগে।
মেডিকেল রিপোর্ট এবং পুলিশ ক্লিয়ারেন্স পেতে আরও ১ সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। এরপর এমওএম (MOM) থেকে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য আরও ১০-১৫ দিন অপেক্ষা করতে হয়। সব মিলিয়ে আপনি ধরে নিতে পারেন যে ২ থেকে ৩ মাসের মধ্যে আপনার পুরো প্রক্রিয়া শেষ হবে।
মাঝে মাঝে প্রশাসনিক কারণে বা অতিরিক্ত আবেদনের চাপে এই সময় কিছুটা দীর্ঘ হতে পারে। তাই তাড়াহুড়ো না করে প্রতিটি ধাপ নিখুঁতভাবে সম্পন্ন করার দিকে নজর দিন। মনে রাখবেন, ভুল তথ্যের কারণে ভিসা রিজেক্ট হলে আপনার সময় এবং টাকা দুটোই নষ্ট হবে।
সিঙ্গাপুর ক্লিনার ভিসায় জীবন যাত্রার ব্যয়
সিঙ্গাপুরে থাকা এবং খাওয়ার খরচ এশিয়ার অন্যান্য দেশের তুলনায় কিছুটা বেশি। তবে আপনি যদি একটু হিসেবি হন, তবে ভালো টাকা সঞ্চয় করতে পারবেন।
| ব্যয়ের খাত | মাসিক খরচ (SGD) | বাংলাদেশি টাকায় (প্রায়) |
| বাসস্থান (শেয়ারিং রুম) | ৩০০ – ৫০০ ডলার | ২৬,০০০ – ৪৪,০০০ টাকা |
| খাবার খরচ | ২৫০ – ৪০০ ডলার | ২২,০০০ – ৩৫,০০০ টাকা |
| যাতায়াত (বাস/ট্রেন) | ৫০ – ৮০ ডলার | ৪,৫০০ – ৭,০০০ টাকা |
| মোবাইল ও ইন্টারনেট | ৩০ – ৫০ ডলার | ২,৬০০ – ৪,৫০০ টাকা |
| মোট মাসিক ব্যয় | ৬৩০ – ১,০৩০ ডলার | ৫৫,০০০ – ৯০,০০০ টাকা |
সিঙ্গাপুর ক্লিনার ভিসার নিয়মকানুন
সিঙ্গাপুরে কাজ করতে গেলে আপনাকে তাদের কঠোর আইন ও নিয়মকানুন মেনে চলতে হবে। প্রথম নিয়ম হলো, আপনি যে নিয়োগকর্তার অধীনে গেছেন, কেবল তার কাছেই কাজ করতে পারবেন। বাইরে পার্ট-টাইম কাজ করা সিঙ্গাপুরে সম্পূর্ণ অবৈধ এবং এর জন্য জেল বা জরিমানা হতে পারে।
আপনাকে অবশ্যই আপনার ওয়ার্ক পারমিট কার্ড সবসময় সাথে রাখতে হবে। সিঙ্গাপুরের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা আইন খুব কড়া; রাস্তায় থুতু ফেলা বা ময়লা ফেলার জন্য বড় অংকের জরিমানা গুণতে হতে পারে। কাজে অনুপস্থিত থাকা বা সুপারভাইজারের সাথে খারাপ ব্যবহার করলে আপনার ভিসা বাতিল হয়ে যেতে পারে।
প্রতি বছর বা দুই বছর অন্তর আপনাকে বাধ্যতামূলক স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে হবে। সিঙ্গাপুরে থাকাকালীন কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়া বা বেআইনি সমাবেশে যোগ দেওয়া কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। এই নিয়মগুলো মেনে চললে আপনি সেখানে খুব শান্তিতে এবং সম্মানের সাথে কাজ করতে পারবেন।
সিঙ্গাপুর ক্লিনার ভিসার সুবিধা ও অসুবিধা
যেকোনো দেশের কাজের যেমন ভালো দিক আছে, তেমনি কিছু সীমাবদ্ধতাও থাকে। সিঙ্গাপুরের ক্ষেত্রেও বিষয়টি একই।
| সুবিধা | অসুবিধা |
| সময়মতো বেতন এবং বোনাস পাওয়া যায়। | আবহাওয়া খুব গরম এবং আর্দ্র। |
| অত্যন্ত নিরাপদ এবং উন্নত জীবনযাত্রার মান। | জীবনযাত্রার ব্যয় অনেক বেশি। |
| ওভারটাইম করে আয় বাড়ানোর সুযোগ। | পরিবারের সদস্যদের সাথে নেওয়া কঠিন। |
| আধুনিক যন্ত্রপাতির সাহায্যে কাজ করার সুযোগ। | কাজের নিয়ম এবং আইন খুব কড়া। |
সিঙ্গাপুর ক্লিনার ভিসার নতুন আপডেট
২০২৪ এবং ২০২৫ সালের জন্য সিঙ্গাপুর সরকার ক্লিনিং সেক্টরে কিছু নতুন নিয়ম চালু করেছে। এখন থেকে ক্লিনারদের জন্য ‘প্রগ্রেসিভ ওয়েজ মডেল’ (PWM) আরও কঠোরভাবে কার্যকর করা হচ্ছে। এর মানে হলো, আপনার দক্ষতা যত বাড়বে, আপনার বেতনও একটি নির্দিষ্ট কাঠামো অনুযায়ী বৃদ্ধি পাবে।
নতুন আপডেটে কর্মীদের ডিজিটাল দক্ষতার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। এখন অনেক ক্লিনিং রোবট বা আধুনিক মেশিন ব্যবহার করা হয়, তাই কর্মীদের এই মেশিনগুলো চালানোর প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া কর্মীদের থাকার জায়গার মান উন্নত করার জন্য নিয়োগকর্তাদের ওপর নতুন নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ আপডেট হলো ভিসার আবেদন এখন অনেক বেশি অনলাইন ভিত্তিক এবং স্বচ্ছ। আপনি আপনার ভিসার স্ট্যাটাস নিজেই সিঙ্গাপুর সরকারের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে গিয়ে চেক করতে পারবেন। এতে দালালের খপ্পরে পড়ার ভয় অনেক কমে গেছে।
সিঙ্গাপুর ক্লিনার ভিসার জন্য সেরা এজেন্সি
বাংলাদেশে অনেক এজেন্সি সিঙ্গাপুরে লোক পাঠালেও সবার মান এক নয়। কাজ শুরু করার আগে এজেন্সির লাইসেন্স নম্বর যাচাই করে নেওয়া জরুরি।
| এজেন্সির নাম | বৈশিষ্ট্য | রেটিং |
| বোয়েসেল (BOESL) | সরকারি প্রতিষ্ঠান, সবচেয়ে কম খরচ। | ৫/৫ |
| ইস্টার্ন বে রিক্রুটিং | বিশ্বস্ত এবং দ্রুত প্রসেসিং। | ৪.৫/৫ |
| ইউনিক ইন্টারভ্যান | দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন। | ৪/৫ |
| গ্লোবাল রিক্রুটমেন্ট | ভালো কাস্টমার সাপোর্ট। | ৪.২/৫ |
সিঙ্গাপুর ক্লিনার ভিসা আপনার অর্থনৈতিক সচ্ছলতা আনার একটি দারুণ মাধ্যম হতে পারে। আপনি যদি সঠিক পথে এগোতে পারেন এবং নিজের দক্ষতা প্রমাণ করতে পারেন, তবে সিঙ্গাপুর আপনার জন্য নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দেবে। সবসময় মনে রাখবেন, বৈধ পথে বিদেশ যাওয়া এবং কঠোর পরিশ্রম করাই হলো সফলতার একমাত্র পথ।
আরো জানুনঃ
- দুবাই ক্লিনার ভিসা। বেতন, যোগ্যতা ও আবেদন করার নিয়ম
- ইতালি রেস্টুরেন্ট ভিসা। বেতন, আবেদন ও পাওয়ার উপায়।
- কুয়েত ক্লিনার ভিসা। বেতন, যোগ্যতা ও পাওয়ার প্রক্রিয়া জেনে নিন
- সার্বিয়া ড্রাইভিং ভিসা। বেতন, খরচ ও পাওয়ার নিয়ম
- রোমানিয়া ড্রাইভিং ভিসা। বেতন, আবেদন, খরচ ও কাগজপত্র
- পর্তুগাল ড্রাইভিং ভিসা। বেতন, খরচ, আবেদন সহ বিস্তারিত
- মালদ্বীপ ড্রাইভিং ভিসা। বেতন, খরচ, যোগ্যতা সহ বিস্তারিত
